ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৩ শাওয়াল ১৪৪৬ হিঃ

মত-মতান্তর

ঢাকার বায়ু দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

অধ্যাপক মোহাম্মদ সফি উল্যাহ

(১ সপ্তাহ আগে) ২৩ মার্চ ২০২৫, রবিবার, ৭:০৮ অপরাহ্ন

mzamin

গত শীতে ঢাকার আকাশ ধুলো আর ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ঢাকার বাতাস এতটাই দূষিত ছিল যে মানুষ শ্বাস নিতে ভয় পেয়েছিল। জানুয়ারিতে এখানকার বাতাসে শ্বাস নেয়া ছিল প্রতিদিন দুটো সিগারেট খাওয়ার সমতুল্য। শীতের শুকনো মৌসুমে বাতাসের প্রবাহ কমে যাওয়ায়ঢাকার বাতাসে দূষণ আটকে পড়ে,তাছাড়াও শুষ্ক মাটি থেকে প্রচুর ধুলাবালি বাতাসে সংযুক্ত হয়, ফলে বাতাসে দূষণের ঘনত্ব বেড়ে যায়। প্রতি বছরই শীত মৌসুমে এই সংকট দেখা যায় আর এ থেকে পরিত্রাণের উপায় ও কৌশল নির্ধারণ করা এখনই জরুরি। নইলে ঢাকা শহরের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে।
সমস্যার ধরণ- বায়ুর মানের ধারা
গত শীতে, ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত, ঢাকার বাতাস খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। প্রথম আলোর একটি রিপোর্টে (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) বলা হয়েছে, নভেম্বর ২০২৪ থেকেই দূষণ বাড়তে শুরু করে। ডিসেম্বর ২০২৪-এ এটি গত আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০.৫৪% বেশি ছিল। জানুয়ারি ২০২৫-এ অবস্থা আরও খারাপ হয়; ঢাকা প্রায় প্রতিদিন বিশ্বের পাঁচটি সবচেয়ে দূষিতবায়ুর শহরের মধ্যে ছিল। এমাসেগড় একিউআই (AQI) (বাতাসের মান সূচক) ছিল ৩১৮, যা ২২ জানুয়ারি সর্বোচ্চ ৬২২-এ পৌঁছায়, যা ২০১৭থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের গড় ২৫৫.৪৮-এর তুলনায় ২৪.৫২% বেশি এবং গত বছরের জানুয়ারি মাসের গড় ৩০২এর চেয়েও বেশি ছিল। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়; একিউআই মান ১৩০-১৮০-এর মধ্যে ছিল, তবে এটিতখনো সংবেদনশীল মানুষের জন্য "অস্বাস্থ্যকর" হিসেবে বিবেচিত ছিল।

উদাহরণস্বরূপ, ১৫ মার্চ ২০২৫-এ ঘবঅিমবইউপড়স-এর একটি X (টুইটার) পোস্টে একিউআই ১২৮ বলা হয়েছে। তবে, এই উন্নতি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দূষণের মাত্রা আবার বেড়ে যায়। ১৮ মার্চ ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI)  ১৮৯-এ পৌঁছে, যা একে বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধিক দূষিত বায়ুর শহর হিসেবে চিহ্নিত করে। পরে আবার১৯ মার্চ এটি পঞ্চম স্থানে নেমে আসে, যা unbnewsroom এর একটি X (টুইটার) পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, ৪ মার্চ ২০২৫, ঢাকার অছও বেড়ে ৩০৪হয়, যা একে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরে পরিণত করে। এই AQI অনুযায়ী PM2.৫ দূষণের মাত্রা ছিল প্রায় ২৫৪.৩ (µg/m³), যা সাধারণ AQI থেকে PM2.৫ রূপান্তরের সূত্র ব্যবহার করে হিসাব করা হয়েছে (AQI ৩০১-৪০০ হলে, PM2.৫ ২৫০.৫-৩৫০.৪ ক্রম/সক্ত এর মধ্যে থাকে)।

তথ্যানুযায়ী দেখা যাচ্ছে, ঢাকা বায়ু দূষণের প্রধান দূষক ছিল PM2.৫ (সূক্ষ্ম কণিকা পদার্থ), যার মাত্রা ওই সময়ে ৫০ থেকে ২৫০ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার (µg/m³) এর মধ্যে ছিল। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশিকার তুলনায় অনেক বেশি। WHO এর সুপারিশ অনুযায়ী, বাৎসরিক গড় মাত্র ৫ µg/m³ এবং ২৪ ঘণ্টার গড় মাত্র ১৫ µg/m³ হওয়া উচিত। বিশ্ব ব্যাংকের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকায় PM2.৫-এর বার্ষিক গড় মাত্রা ৯০-১০০ µg/m³, এবং শুষ্ক মৌসুমে এটি ২-৩ গুণ বৃদ্ধি পায়। এই উচ্চ মাত্রার দূষণ শ্বাসকষ্ট, শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং প্রাথমিক মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। 
ঢাকায় বায়ু দূষণের এওঝ এবং রিমোট সেন্সিং বিশ্লেষণ
ঢাকার বায়ু দূষণের জিআইএস (Geographic Information System) এবং রিমোট সেন্সিং বিশ্লেষণে শহরটিকে দূষণের মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ঢাকা, যেমন গুলশান, ধানমন্ডি ও মতিঝিল, যেখানে যানবাহনের চাপ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম বেশি, সেখানে বায়ু মান সূচক (AQI) ১৫০-২৫০ (অস্বাস্থ্যকর) এবং PM2.৫-এর মাত্রা ৬০-৯০ µg/m³-এর মধ্যে থাকে। শিল্পাঞ্চল, যেমন হাজারীবাগ ও তেজগাঁও, যেখানে কারখানার প্রভাব প্রবল, সেখানে দূষণ সবচেয়ে বেশি; AQI ২০০-৩০০ (অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর) এবং PM2.৫ ১০০ ক্রম/সক্ত-এরও বেশি হয়। উপকণ্ঠ এলাকা, যেমন উত্তরা ও মিরপুর, যেখানে জনঘনত্ব তুলনামূলকভাবে কম এবং সবুজ এলাকা বেশি, সেখানে AQI ১০০-১৫০ (সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর) থাকে। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় আবর্জনা পোড়ানো ও নৌযানের ধোঁয়ার কারণে AQI ১৫০-২০০-এর মধ্যে থাকে। এই বিশ্লেষণ উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে কার্যকর দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।

নিচে একিউআই মানের প্রবণতা/ধারার একটি টেবুলার ডাটা দেওয়া হলো (Drm: https:/ww/w.iqair.com; World Bank, ২০২৪; Bloomberg, ২৪ March ২০২৩)

  • মাস একিউআই ব্যাপ্তি শ্রেণীবিভাগ সর্বোচ্চ একিউআই মন্তব্য 
    ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫১–-২০০ অস্বাস্থ্যকর - আট বছরের সবচেয়ে খারাপ, ৩০.৫৪% বেশি 
    জানুয়ারি ২০২৫ ২০১-–৩০০ খুব অস্বাস্থ্যকর ৬২২ (২২ জানু) ২০১৭-২০২৪ গড় থেকে ২৪.৫২% বেশি, পরিষ্কার দিন নেই 
    ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৩০-–১৮০ সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর - একটু ভালো, তবে এখনও নিরাপদ নয় 
    মার্চ ২০২৫ পরিবর্তনশীল, ১৮৯ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর থেকে খুব অস্বাস্থ্যকর ১৮৯ (১৮ মার্চ) ১৮/১৯ মার্চে বিশ্বে ৩য়/৫ম স্থান

 

ঢাকার বায়ু দূষণের কারণ
ঢাকা শহরের বায়ু দূষণের কারণ বহুমুখী, যা স্থানীয় ওপার্শ্ববর্তী অঞ্চল উভয় উৎস থেকেই ঘটে। এর মধ্যেঢাকা শহরের আশেপাশে থাকা ইটভাটা একটি প্রধান দূষণকারী, বিশেষ করে শীতকালে, কারণ এর ধোঁয়া PM2.৫ দূষণের একটি বড় অংশ তৈরি করে।
এছাড়াওবিশ্ব ব্যাংকের (২০ নভেম্বর ২০২৪) রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকার বায়ু দূষণের অন্যান্য প্রধান উৎসগুলো হলো: রাস্তার যানবাহনের ধোঁয়া, ঘরোয়া কার্যকলাপ, উচ্চ-সালফার জ্বালানি তেল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এবং বর্জ্য পোড়ানো। ঢাকা শহরের বাইরের প্রান্তিক এলাকায় ৭৪.২% মানুষ রান্নার জন্য কাঠ, খড় ও গোবর ব্যবহার করে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বাড়ির ভেতরে রান্না করে এবং ৫৩% পুরোনো দিনের চুলা ব্যবহার করে। মিউনিসিপাল সলিড ওয়েস্টের উন্মুক্ত পোড়ানোর ফলে ঢাকার বার্ষিক PM2.৫ দূষণের ১১% সৃষ্টি হয়। গাড়ির নির্গমন এবং নির্মাণের ধুলো, যা শহুরে উন্নয়নের কারণে ক্রমশ বাড়ছে, এটিও একটি বড় কারণ (Bloomberg, ২০২৩)।

এছাড়া, মৌসুমি কারণ যেমন বাতাসের গতি কমে যাওয়া এবং তাপমাত্রার পরিবর্তন দূষণকে আটকে রাখে, যা আঞ্চলিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। আন্তঃসীমান্ত দূষণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণা অনুযায়ী, ভারত থেকে ঢাকার বায়ু দূষণের ২০-৩০% আসে। বিশ্ব ব্যাংকের (৩ ডিসেম্বর ২০২২) রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঢাকার PM2.৫ দূষণের ২০% আন্তঃসীমান্ত উৎস থেকে আসে (Dialogue Earth, ৫ জানুয়ারি ২০২৪)। Dialogue Earth-এর (৪ জানুয়ারি ২০২৪) তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ভারতের দূষণ ঢাকায়বায়ু দূষণে প্রায় ৩০% অবদান রাখে, বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বে প্রবাহিত বাতাসের কারণে (DD News, ১ মার্চ ২০২৫)।
আরেকটি গবেষণা অনুযায়ী, ভারতের কয়লা খনি থেকে আসা ধূলিকণা ঢাকারবায়ু দূষণে ৪০% পর্যন্ত অবদান রাখতে পারে (Anadolu Agency, ২৭ মার্চ ২০২১), যদিও এই হার গবেষণাভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে, ২০% একটি সংযত অনুমান, যা একাধিক গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
বায়ু দূষণের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব
বায়ু দূষণ স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব রেখেছে। উচ্চ মাত্রার PM2.৫ এর ফলে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, হৃদরোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্ব ব্যাংকের (৩ ডিসেম্বর ২০২২) রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে বায়ু দূষণের কারণে ৭৮,১৪৫ থেকে ৮৮,২২৯ জনমানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার একটি বড় অংশ ঢাকায় ঘটেছে (Dialogue Earth, ৫ জানুয়ারি ২০২৪)। ঢাকার বাতাসে শ্বাস নেওয়া প্রতিদিন ১.৭টি সিগারেট ধূমপানের সমতুল্য, যা বছরে ১৫৯,০০০টি অকাল মৃত্যু এবং নাগরিকদের ২.৫ বিলিয়ন দিন রোগে ভুগে জীবনযাপনের কারণ হয়। এর ৫৫% পরিবেশীয় স্বাস্থ্য ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত। শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এতে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিবেশের দিক থেকে, দৃশ্যমানতা অনেক কমে গিয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, মার্চ ২০২৫-এ একটি X (টুইটার) পোস্টে ধোঁয়াচ্ছন্ন আকাশের কথা বলা হয়েছে। এটি দৈনন্দিন জীবন, যেমন গাড়ি চালানোকে প্রভাবিত করেছে এবংএর ফলে ঢাকার আশপাশের পরিবেশ ধূলিকণার জমাট বাঁধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে (World Bank, ২০২৪; Bloomberg, ২০২৩)।অন্যদিকে, বায়ু দূষণ বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও বড় ক্ষতি করছে। ২০১৯ সালে, বায়ু দূষণের কারণে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (এউচ) ৩.৯% থেকে ৪.৪% ক্ষতি হয়েছে (World Bank, ২০২৪)।
সরকারি উদ্যোগ, প্রাপ্ত ফলাফলএবংনাগরিকপ্রতিক্রিয়া
ঢাকা এবং শহরাঞ্চলের বায়ু দূষণ কমানোর জন্য (১) জাতীয় বায়ু মান নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা (২০২৪-২০৩০)গ্রহণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে PM2.৫, PM10, শিল্প ও যানবাহন দূষণ কমাতে কঠোর নির্গমন মান এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে। (২) ২১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ১৬টি মনিটরিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে, জলবায়ু দূষণ পরিমাপ করে। (৩) পুরাতন ইটভাটার পরিবর্তে ডিজিটাল ইটা ভাটা ও কম্প্রেসড ইট ব্যবহার শুরু হলেও, মাত্র ২০% ভাটা রূপান্তরিত হয়েছে। (৪) বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রচারের পরিকল্পনা থাকলেও, অবকাঠামো এখনো দুর্বল। এর ফলে, ঢাকায় PM2.৫ এর গড় মাত্রা ৮০-১০০ ক্রম/সক্ত এবং শীতকালে অছও ২০০ ছাড়িয়ে যায়। পর্যাপ্ত তহবিল এবং সমন্বয়ের অভাবে ২০ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। নাগরিকরা ঢ-এ হতাশা প্রকাশ করেছে, যেমন "অছও ২৫০, কিন্তু সমাধান নেই।" সন্তুষ্টি কম, কারণ ফলাফল স্পষ্ট নয়। ইজঞ প্রকল্প এবং শিল্প নিয়ন্ত্রণও ধীরগতিতে চলছে। সমাধান হিসেবে কঠোর প্রয়োগ, ঊঠ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।
উপসংহার

ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে ২০ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ঢাকার বায়ু দূষণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যা শহরের দুই কোটি বাসিন্দার জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। এই সময়ে বায়ু মান সূচক (AQI) সাধারণত "সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর" (১০১–-১৫০) থেকে "অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর" (২০১–-৩০০) পর্যন্ত ওঠানামা করেছে, শীতের শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। PM2.৫-এর মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশিকা ১৫ ক্রম/সক্ত-এর তুলনায় ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি ছিল, যা ইটভাটার ধোঁয়া, যানবাহনের নির্গমন এবং নির্মাণকাজের ধূলিকণার কারণে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও পূর্বের ধারা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতেও ঢাকার বায়ুর মান অত্যন্ত খারাপ ছিল, যা শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং শিশু-বৃদ্ধদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছিলো। জাতীয় বায়ু মান নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা (২০২৪-২০৩০) সত্ত্বেও, অপর্যাপ্ত তহবিল, দুর্বল প্রয়োগ এবং সমন্বয়হীনতার কারণে দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান হতাশা সোশিয়াল মিডিয়াতে প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে তারা "প্রকৃত সমাধান" দাবি করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর নীতি প্রয়োগ, দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ এবং জনসম্পৃক্ততা জরুরি হয়ে পড়েছে।
লেখক: অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

মত-মতান্তর থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

   
Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status