ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবার, ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ রজব ১৪৪৪ হিঃ

শেষের পাতা

ডেটলাইন ১০ই ডিসেম্বর

সিলেটে বিএনপি প্রস্তুত, পর্যবেক্ষণে আওয়ামী লীগ

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
৪ ডিসেম্বর ২০২২, রবিবার

সিলেটে বিএনপি নেতা কামালকে ৬ই নভেম্বর প্রকাশ্যে হত্যা করে ঘাতকরা। এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল বিএনপি কর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিল থেকে ভাঙচুরও  চালানো হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাতেই মাঠে নামে আওয়ামী লীগ। শুধু দলটির সিলেটের নেতারাই নয়, কেন্দ্রীয় নেতারাও রাজপথে নেমে আসেন। এবং ঘোষণা দেন; বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের প্রতিরোধের। অবশ্য তাদের সেই ঘোষণায় সিলেট বিএনপি’র তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। এর কারণ তুলে ধরে গতকাল সিলেট বিএনপি’র এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন; বিএনপি’র পক্ষ থেকে ওই দিনই জবাব দেয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু সিলেটের গণসমাবেশকে সামনে রেখে নীরবে সব সহ্য করেছে নেতাকর্মীরা। এখন আঘাত এলে পাল্টা আঘাতে প্রস্তুত তারা।

বিজ্ঞাপন
এমন ঘোষণাও তারা সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ থেকে দিয়েছেন। নভেম্বরের শুরু থেকেই সিলেটের রাজনীতি উত্তপ্ত। ডিসেম্বরের শুরুতে এসে কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। 

তবে- ভেতরে ভেতরে বাষ্পের আভাস পরিলক্ষিত হচ্ছে। ১০ই ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপি’র সমাবেশ। এতে সিলেটের নেতারা অংশ নিতে প্রস্তুতি চালাচ্ছেন। বিএনপি’র একাধিক নেতা গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সিলেট বিভাগ থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে অনেকেই যাবেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে। ঝামেলা এড়িয়ে সমাবেশে উপস্থিত থাকাটাকেই মুখ্য মনে করে তারা এই কৌশল গ্রহণ করছেন। তবে, জেলা ও মহানগর বিএনপি, যুবদল,  স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দলবেঁধে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেন্দ্রের নির্দেশনা মেনে তারা এটি করবেন। সব কিছুই নির্ভর করছে পরিবেশ পরিস্থিতির উপর। তারা জানিয়েছেন, যদি দলবেঁধে সিলেট থেকে যাওয়া না যায়; তবে ঢাকায় গিয়ে তারা সমবেত হবেন। সেই প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘আমরা ঢাকায় যাবো। কেউ কেউ চলে যাচ্ছেন। সিলেট থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ঢাকার সমাবেশে উপস্থিত থাকতে পারেন।’ 

তিনি বলেন- ‘বিভাগীয় সমাবেশের পর থেকে সিলেটে বিএনপি মাঠে রয়েছে। সমাবেশের মাধ্যমে ফের চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। ফলে আন্দোলন এবং কর্মসূচি পালনে সিলেট বিএনপি’র নেতাকর্মীরা পিছু হটবে না। বাধা এলে সেটিকে অতিক্রম করা হবে।’ এদিকে- সিলেট বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সিলেট বিএনপি সর্বাবস্থায় প্রস্তুত রয়েছে। ঢাকার সমাবেশের পর গোটা দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দেয়া হলে সিলেটের নেতারা রাজপথ দখলে নেবেন। তবে- সিলেটের সম্প্রীতির পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। গত মাসে সিলেটে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনায় বিএনপি’র ক্ষোভ রয়েছে বলে দাবি করে নেতারা জানান, এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রীর গাড়িবহর, বিয়ানীবাজারে হামলা ছিল পরিকল্পিত। অথচ পুলিশ সেখানে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে মামলা নিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। 

এসব মামলায় এখন কেউ জেলে, কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সিলেটের রিকাবীবাজারের ঘটনায় সিলেট বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ওপর মামলার খড়গ ঝুলছে। এসব ঘটনায় সিলেট বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ। সিলেট মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ১০ই ডিসেম্বর অবশ্যই আমরা ঢাকায় থাকবো। বাধা কোনো সমাবেশেই নেতাকর্মীদের স্রোত দমাতে পারেনি। এবারেও পারবে না। আমরা সমাবেশে উপস্থিত থাকবো। এবং পরবর্তীতে যে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে সেটিতে আমরা অনড় থাকবো। গণতন্ত্র ফেরানোর এ আন্দোলন থেকে আর পিছু হঠার সুযোগ নেই বলে জানান মিফতাহ চৌধুরী বলেন, রাজপথই আগামী আন্দোলনের গতিপথ বলে দেবে। তবে- সিলেট আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৬ই নভেম্বর রাতের ঘটনার পর থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়নি। বিএনপি’র সমাবেশে কোনো বাধা দেয়া হয়নি। 

পুলিশের অভিযান থাকলেও আওয়ামী লীগকে দায়ী বা দোষী করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন দলটির সিলেটের নেতারা। তারা জানিয়েছেন, ৬ই নভেম্বর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীরা শুধু তাণ্ডব চালায়নি তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি অবমাননা করার কারণে আওয়ামী লীগ রাজপথে নেমেছে।  কেউ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলে তাকে বাধা দেয়ার সুযোগ নেই। তবে কেউ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে অবশ্যই তাদের প্রতিহত করা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব; এমনটি মনে করেন সিলেটের নেতারা। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিক মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, সিলেট আওয়ামী লীগ চায় শান্তি। অতীতে সিলেটের রাজপথে আওয়ামী লীগ কোনো বিশৃঙ্খলতা করেনি। বরং মানুষের জানমাল রক্ষায় আওয়ামী লীগ অগ্রণী ছিল। এবারের পরিস্থিতি সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা পর্যবেক্ষণ করছেন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি যেকোনো দলই পালন করতে পারে। তবে- মানুষের জানমালের ক্ষতি কেউ ঘটাতে চাইলে আওয়ামী লীগ অতীতে বসে থাকেনি, এবারো বসে থাকবে না। এজন্য তিনি সহনশীল রাজনীতি করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status