ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবার, ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ রজব ১৪৪৪ হিঃ

শরীর ও মন

গোপনাঙ্গে এলার্জি

বিব্রতকর ও বিপজ্জনক সমস্যা

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল হাই
১৫ নভেম্বর ২০২২, মঙ্গলবারmzamin

যোনিপথ বা ভ্যাজাইনা মহিলাদের শরীরের একটি শক্তিশালী অঙ্গ। এটাকে শুধু যৌনাঙ্গ বললে ভুল বলা হবে। চিন্তা করুন, একটি পুরো মানব শিশু এ অঙ্গের মাধ্যমেই শরীরের ভেতর থেকে এ পৃথিবীতে নেমে আসে। তবে এ অঙ্গটি অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক ও শক্তিশালী হলেও একই সঙ্গে শরীরের অন্যতম স্পর্শকাতর অঙ্গ এটি।  প্রথমত যোনিপথের ভেতরের ত্বকের দিকে তাকানো যাক। এ ত্বক অনেক বেশি ছিদ্রযুক্ত। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রস নিঃসরণকারী অনেকগুলো গ্রন্থি। কোন ধরনের এলার্জিকণা যোনিপথের সংস্পর্শে এলে খুব সহজে শোষিত হয়ে এলার্জি ঘটিত বিক্রিয়া ঘটায়।  এলার্জির কারণে নানা ধরনের উপসর্গ সৃষ্টি হয়, যেমন- চুলকানি, লালচে রঙ ধারণ করা, জ্বালাপোড়া ইত্যাদি। অনেক সময় এ এলার্জি তীব্র রূপ ধারণ করে।

বিজ্ঞাপন
ক্ষেত্রবিশেষে এলার্জিকণার সংস্পর্শে আসামাত্রই এলার্জি তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এখন দেখা যাক, কি কি বস্তুকণার সংস্পর্শে এলার্জি হয়: *বীর্য: অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, পুরুষের বীর্য অনেক নারীর এলার্জির কারণ। মেডিকেলের পরিভাষায় এটাকে ‘সেমিনাল ফ্লুইড হাইপার সেন্স সিটিভিটি’ বলা হয়। এক্ষেত্রে পুরুষের বীর্য স্খলনের সঙ্গে সঙ্গেই এলার্জিজনিত বিক্রিয়ায় যৌন পথ ফুলে যায় এবং তীব্র প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এমনকি এলার্জির তীব্রতা খুব বেশি হলে অনেক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তিরও প্রয়োজন হয়। 

প্রতিকার: বীর্য-এলার্জি সন্দেহ হলে কাল-বিলম্ব না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। চিকিৎসক Skin Prick Test নামক একটি ত্বক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করতে সক্ষম হন। পরীক্ষায় পজিটিভ ফল এলে চিকিৎসক বীর্যের স্পর্শ পরিহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 

*লেটেক্স কনডম: রাবার জাতীয় পদার্থের অন্যতম উপাদান লেটেক্স। এ বস্তুতে এলার্জি অনেক বেশি লক্ষ্য করা যায়। মোট জনগোষ্ঠীর ১ থেকে ৫ শতাংশ লোকই এ এলার্জির শিকার। লেটেক্সের কারণেই কনডম এলার্জি অনেক ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়। 

প্রতিকার: এক্ষেত্রেও এলার্জির মাত্রা মাঝারি থেকে তীব্র হতে পারে। কনডম ব্যবহার না করা অথবা লেটেক্সবিহীন কনডম ব্যবহার করা যেতে পারে। 

***ডিওডোরেন্ট, ক্লিনিং জেল): যোনিপথ পরিষ্কারের জন্য অথবা দুর্গন্ধ তাড়ানোর জন্য অনেকেই নানা ধরনের ফেমিনিন প্রোডাক্ট ব্যবহার করে থাকেন। সুগন্ধি বা Fragrance সব সময়ই এলার্জির অন্যতম কারণ। আবার যোনিপথ পরিষ্কারের জন্য Douche ও জেল জাতীয় যেসব পদার্থ ব্যবহার হয়, তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হিতে বিপরীত হতে দেখা যায়। vagina-তে সব সময় কিছু ভালো ও খারাপ, দু’ ধরনেরই ব্যাকটেরিয়া থাকে। এগুলো ব্যবহারে ব্যাকটেরিয়ার সাম্যতা নষ্ট হয় এবং এতে এলার্জি ও সংক্রমণ দু’টোই বাড়ে।

প্রতিকার: এলার্জি থাকলে সঠিক ডিটারজেন্ট, সুগন্ধি ইত্যাদির জন্য ভালো একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

রঙ এলার্জি: যোনি পথে ব্যবহৃত অনেক বস্তুতে রঙের ব্যবহার হয়, যেমন টয়লেট পেপার বা সাবান। প্রতিটি রঙে কিছু কেমিক্যাল থাকে যা অনেকের ক্ষেত্রেই তীব্র এলার্জির কারণ। 

প্রতিকার: যোনি পথের ত্বকে যেকোনো রঙিন বস্তুকণার সংস্পর্শ যথা সম্ভব এড়াতে হবে। 

 

লেখক: (চর্ম, যৌন ও এলার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ) জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। চেম্বার: ১২, স্টেডিয়াম মার্কেট, সিলেট। ফোন-০১৭১২-২৯১৮৮৭

শরীর ও মন থেকে আরও পড়ুন

শরীর ও মন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status