ঢাকা, ২৮ নভেম্বর ২০২২, সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

শেষের পাতা

করতোয়া ট্র্যাজেডি

আউলিয়া ঘাটে ভেসে উঠলো হিমালয়ের লাশ বন্যার আহাজারি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার

নৌকা ডুবির চতুর্থদিন পর স্ত্রী বন্যা খবর পেলেন স্বামী হিমালয়ের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এতে তার ও পরিবারের সদস্যদের বুকফাটা আহাজারিতে ভারী  হয়ে ওঠে এলাকা। এ কয়েকদিন স্বামীর প্রতীক্ষায় শুধু কেঁদেছেন বন্যা। মাস দেড়েক আগে হিমালয় ও বন্যার বিয়ে হয়েছিল। মহালয়ার অনুষ্ঠানে পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে এক নৌকায় ছিলেন তারা। বন্যা সাঁতরে তীরে উঠলেও হিমালয় ও তার মামাতো বোন আঁখি নিখোঁজ হয়। শারদীয় দুর্গোৎসবের আগে মহালয়ায় পুণ্য অর্জনের জন্য পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের করতোয়ার পূর্ব পাড়ে বরদেশ্বরী মন্দির দর্শনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন নবদম্পতি হিমালয় ও বন্যা। করতোয়া নদী পাড়ি দিয়ে ওপারে মন্দিরে গিয়ে করতোয়ার পানিতেই পুণ্যস্নান করে পাপমুক্তির আশা ছিল তাদের। কিন্তুমাঝ নদীতে নৌকা উল্টে অন্য অনেকের সঙ্গে পানিতে পড়ে যান তারা। উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে নিজের পরনের কাপড় ছুড়ে দিয়ে সাঁতরে তীরে ওঠেন বন্যা।

বিজ্ঞাপন
কিন্তু হিমালয় পানিতে ডুবে যান। দুলাভাই গ্রি বাবু বলেন, শ্যালক হিমালয়ের খোঁজে মধ্যরাত অবধি করতোয়ার তীরে অপেক্ষা করে বাড়ি গিয়ে ভোরে আবারও করতোয়া পাড়ে আসেন। কিন্তু হিমালয়ের খোঁজ মেলেনি। হিমালয় পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি খালপাড়া গ্রামের বীরেন্দ্রনাথের ছেলে।   

এদিকে, ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেছে দু’ভাইবোন ঈশিতা কলি রায় ও তর্পণ রায়। তারা মন্দিরে যাওয়ার জন্য ওই নৌকায় উঠার পর একটু এগুতেই পানি ওঠা শুরু করে। একটু পর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই নৌকাটি তলিয়ে যেতে শুরু করে। শুরু হয় যাত্রীদের হাহাকার। নৌকার সকল যাত্রী পানিতে ডুবে যেতে থাকে। তার সঙ্গে ডুবতে থাকে ভাই-বোন ঈশিতা কলি ও তর্পণ। পানিতে ডুবতে থাকার সময় ছোট ভাই টেনে তোলে বড় বোনকে। ঈশিতা-তর্পণ মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের কৈলাশ চন্দ্র রায় ও সুচিত্রা রানীর দুই সন্তান। তারা দু’জনই মাড়েয়া উচ্চ বিদ্যলয়ের শিক্ষার্থী। ঈশিতা এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। তর্পণ পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। ঈশিতা জানায়, সাঁতার জানতাম। কিন্তু ওড়নায় আমার দুই পা আটকে যায়। আমি খালি ডুবছি আর উঠছি। আর সবাইকে ডাকছি। এমন সময় আমার ছোট ভাই তর্পণ আমার হাত ধরে টানতে থাকে। আমাকে একটি নৌকার কাছে নিয়ে আসে। পরে নৌকাটিতে উঠি। এরপর আর কিছু বলতে পারি না। বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার পর জ্ঞান ফেরে। ছোট ভাই তর্পণ জানায়, নৌকাটা ডুবতে থাকলে আমি সাঁতার কাটতে থাকি। পাশে আমার বোন হাবুডুবু খাচ্ছিল। আর চিৎকার করে লোকজনকে ডাকছিল। আমি তখন বোনের একটি হাত ধরে ফেলি। এরপর তাকে টানতে থাকি। একটি নৌকা এগিয়ে আসে। আমরা নৌকায় উঠে পড়ি।  

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

শেষের পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status