ঢাকা, ২৮ নভেম্বর ২০২২, সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

মত-মতান্তর

মানসম্মত হেলমেট ৪০ শতাংশ মৃত্যুঝুঁকি কমায়

তামান্না মিজান
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার

মোটরসাইকেল বাহন হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। সময় বাঁচিয়ে, সড়কের ফাঁকফোঁকর গলে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। কিন্তু এই মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে বহু মানুষের। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। দেশে বছরে ১০ হাজার মোটরসাইকেলের বিপরীতে ২৮ জন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। এদের প্রায় ৪০ শতাংশেরই বয়স ২৪ থেকে ৩০ বছর। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে চলতি বছর ঈদুল ফিতরের সময় ঈদযাত্রায় যত দুর্ঘটনা ঘটেছিল তার প্রায় অর্ধেকই হয় মোটরসাইকেলে, এতে নিহত হন ১৪৫ জন। বুয়েটের গবেষণায় বলা হয়েছে দেশে এতো বেশি মৃত্যুর কারণ, অনেকেই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেন না, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করার প্রবণতাও বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সঠিক হেলমেট পরলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুঝুঁকি ৪০ শতাংশ কমে। বুয়েটের গবেষণায় মোটরসাইকেলের ব্যবহার বেশি এমন ১৬টি দেশের চিত্র বিশ্লেষণ করে বলা হয়, এই দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ভিয়েতনামের মানুষ।

বিজ্ঞাপন
সেখানে প্রতি ১ হাজার জনের বিপরীতে মোটরসাইকেল আছে ৩৫৮টি। বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য মোটরসাইকেল আছে মাত্র ৭টি। কিন্তু ভিয়েতনামে দুর্ঘটনার হার মাত্র ৪ দশমিক ১ (প্রতি ১০ হাজার মোটরসাইকেলের বিপরীতে)। ভারতে প্রতি ১০ হাজার মোটরসাইকেলের বিপরীতে প্রাণ হারান ৯ জন। সবচেয়ে কম ভুটানে, প্রতি ১০ হাজার মোটরসাইকেলের বিপরীতে মারা যান ২ জন। বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাব অনুযায়ী, দেশে ২০২১ সালে ২ হাজার ৭৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মারা যান ২ হাজার ২১৪ জন, যা সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর ৩৫ শতাংশ।

 বুয়েটের গবেষণার তথ্য বলছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ৮৮ শতাংশই দুর্ঘটনায় সময় হেলমেট পরা ছিলেন না। এ ছাড়া মোটরসাইকেল চালকদের ৬৬ শতাংশ নিয়মিত হেলমেট ব্যবহার করেন না। তবে হেলমেটের মান নিয়েও প্রশ্ন আছে। বাজারে চার ধরনের হেলমেট পাওয়া যায়। ফুল ফেস, হাফ-ওপেন ফেস, ওপেন ফেস ও অন্যান্য। তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ ফুল ফেস হেলমেট, কিন্তু এ ধরনের হেলমেট পরেন মাত্র ১১ শতাংশ চালক। মানসম্মত হেলমেট পরিধানের বিষয়টি অত্যন্ত গরুত্বপূর্ণ। মানসম্মত হেলমেট না পরা সরাসরি দুর্ঘটনার কারণ না হলেও দুর্ঘটনা কবলিত আরোহীর আঘাতের মাত্রা হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। মানসম্মত হেলমেট যথাযথ নিয়মে ব্যবহারে দুর্ঘটনায় মৃত্যুঝুঁকি শতকরা ৪০ ভাগ এবং মাথায় আঘাতের ঝুঁকি শতকরা ৭০ ভাগ কমায়। এ কারণে সবাইকে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের পাশাপাশি সবাইকে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে হবে। কিছুদিন আগে একটা সংবাদ আমাদের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল নিম্নমানের হেলমেট পরিধান করায় দুর্ঘটনায় মাথা থেঁতলে গেছে এক যুবকের। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৮’ প্রণয়ন। আইনটি যুগোপযোগী তবে এ আইনের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। আইনটিতে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের হেলমেট পরিধান বাধ্যতামূলক করা হলেও, মানসম্মত হেলমেট ও এর যথাযথ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা কিংবা এর সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ণয় করা হয়নি। 
লেখক: সিনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার
রোড সেফটি প্রোগ্রাম, ব্র্যাক

 

মত-মতান্তর থেকে আরও পড়ুন

মত-মতান্তর থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status