ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

ঋণের তুলনায় জিডিপি’র অনুপাত কম

এটি বাংলাদেশের সাফল্যের গল্পগুলোর মধ্যে একটি

মানবজমিন ডেস্ক
৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার

বিশ্বের যেসব দেশে বৈদেশিক ঋণের তুলনায় জিডিপি’র অনুপাত সব থেকে কম বাংলাদেশ তার একটি। আর এটিই বাংলাদেশের সাফল্যের গল্পগুলোর একটি। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ এবং সম্ভাব্য ‘ঋণের ফাঁদ’ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্যিক ঋণও ন্যূনতম। আমাদের সব ঋণই দ্বিপক্ষীয় ঋণ, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ছাড়কৃত হারে নেয়া। সেখানে শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল, তাদের সরকার বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক ঋণ নিয়েছিল। আমরা তা করিনি। এমনকি আমাদের কোনো সার্বভৌম বন্ডও নেই।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা বলতে গিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, ভারতীয় কোম্পানিগুলোর এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত নয়।

 চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হলো, তারা আমাদের কিছু প্রকল্পের জন্য ছাড়ে ঋণ দিয়েছে এবং আমরা সেগুলোকে প্রকল্পের জন্য ব্যবহার করেছি। উদাহরণস্বরূপ, অনেকে বিশ্বাস করে পদ্মা সেতু হয়তো চীনা সরকারের একটি প্রকল্প। কিন্তু এটি সত্য নয়। পদ্মা সেতু সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের অর্থায়নে এবং আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে একটি চীনা কোম্পানির মাধ্যমে নির্মিত হয়েছে। এটি বাণিজ্যিক বিষয়। তার মানে এই নয় যে, আমরা এই ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল। তবে কিছু অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে যেখানে চীন অর্থায়ন করেছে। এ ছাড়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যেকার আরও বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে ইন্ডিয়া টুডে’র সঙ্গে কথা বলেছেন সালমান এফ রহমান। কমিপ্রহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ): বাংলাদেশ ও ভারত শিগ্‌গিরই সিইপিএ বা ‘বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ নিয়ে আলোচনা শুরু করবে। এটি মূলত একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি। ২০২১-২২ সালে, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই সমৃদ্ধ বাণিজ্যকে আরও এগিয়ে নেবে সিইপিএ। 

সালমান এফ রহমান ইন্ডিয়া টুডে-কে বলেন, সিইপিএ কার্যকর হওয়ার কোনো সময়সীমা নেই, তবে আমরা আশা করি যত তাড়াতাড়ি এটি সম্ভব হবে। নীতিগতভাবে, আমরা সিইপিএ করতে রাজি হয়েছি। যথাযথ আলোচনা শুরু করার আগে আমাদের বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হবে এবং আরও অনেক কাজ বাকি আছে।  সালমান এফ রহমান বলেন, এটি কেবল শুরু। আমাদের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক দেখে আমি খুব আত্মবিশ্বাসী। এ ছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার দেখা করেছেন। মোদি কোভিডের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী পালনে এসেছিলেন।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ: সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে। ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা যখন  বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে, তখন শুধু বাংলাদেশের বাজারের দিকেই তাকানো উচিত নয়। তাদের ভারতের উত্তর-পূর্বের বাজারের বিষয়টির দিকেও তাকানো প্রয়োজন। এর কারণ হলো, আমরা এখন যোগাযোগের পাশাপাশি সড়ক, রেল এবং নৌপথে কানেক্টিভিটির বিষয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। এরফলে বাংলাদেশ ভারতীয় কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বিশাল বাজার হয়ে উঠবে। তিস্তা নদীর পানি নিয়ে বিরোধ: তিস্তা নদীর পানি নিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশ আশা করে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলেই এই বিরোধের সমাধান হবে। আমরা ইতিমধ্যেই অনেক দফা আলোচনা করেছি এবং আমি মনে করি, ভারতের পক্ষ থেকেও বিরোধ সমাধানের আগ্রহ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমেই এই বিরোধের অবসান করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

পাঠকের মতামত

পদ্মা সেতু সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের অর্থায়নে এবং আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে একটি চীনা কোম্পানির মাধ্যমে নির্মিত হয়েছে। এটি বাণিজ্যিক বিষয়। তার মানে এই নয় যে, আমরা এই ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল। তবে কিছু অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে যেখানে চীন অর্থায়ন করেছে। It is public business so, public have the right to known how much loan taken.

Mohhammad
৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার, ১:৫৮ অপরাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

প্রথম পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status