ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

জাতিসংঘ দূতের সফর

মেসেজ লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার

মিজানুর রহমান
১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার

বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের প্রধান মিশেল বাশেলেটের ঢাকা সফর শেষ হলেও তা নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা থেমে নেই। সিঙ্গেল কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ সফরের কারণেই দেশি-বিদেশি আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন মিশেল। এখানে তিনি সিরিজ বৈঠক করেছেন শরণার্থী, নাগরিক সমাজ, কূটনীতিক, বিরোধী দল-মতের প্রতিনিধি, সরকারের চারজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া সব বৈঠকেই তার ফোকাস ছিল বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার এবং রাজনীতিতে যে ঘাটতি রয়েছে তা দূর করতে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেছেন। তাদের মতে, মিশেলের মেসেজ ছিল অনেকটাই লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। তবে কান্ট্রি  স্পেসিফিক অর্থাৎ বাংলাদেশের মতো দেশের বিষয়ে তার ভয়েস যতটা লাউড, বড় বড় দেশগুলোর ক্ষেত্রে মানবাধিকার পরিষদ ততোটা উচ্চকণ্ঠ না হওয়ার সমালোচনাও চলছে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং হেফাজতে নির্যাতনসহ কয়েকটি বিষয়ে জাতিসংঘ দূত সুনির্দিষ্টভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিদ্যমান অভিযোগগুলো অস্বীকার করার ধারা থেকে বেরিয়ে এসে কেস বাই কেস তা আমলে নিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে গেছেন তিনি। বিশেষত: গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং হেফাজতের নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ নিয়ে সরকারের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তা সুরাহার স্বার্থে স্বচ্ছ তদন্ত সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীতার কথা বলে গেছেন। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ কীভাবে, কোন মেকানিজম অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক মানের তদন্ত সংস্থা গঠন করতে পারে সে বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান এবং ফলোআপে জাতিসংঘের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘ দূত খোলাসা করেই বলেছেন, এমন তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার শিকার ব্যক্তি, পরিবার এবং সিভিল সোসাইটিকে আস্থায় নেয়া যায়। তার মতে, সব অভিযোগ সত্য না-ও হতে পারে। কিন্তু সেটিও তো নির্ধারিত হতে হবে পক্ষপাতহীন তদন্তে। মিথ্যা হলে খারিজ, কিন্তু সত্য হলে চটজলদি ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্যাতনবিরোধী কমিটিসহ জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বিভিন্ন কমিটি কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে উল্লেখ করে মিশেল বলেন, এসব অভিযোগের অনেকগুলোতেই র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) দায়ী করা হয়। 

এ নিয়ে জবাবদিহির অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার দাবি করেছেন।  বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ব্যাপক সুনাম রয়েছে উল্লেখ করে জাতিসংঘ দূত প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা বিদেশে মানবাধিকার সমুন্নত রেখেই কাজ করে। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে এর সদস্যদের বিরুদ্ধে কেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকবে? শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সদস্য পাঠায় উল্লেখ করে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মানবাধিকারের রেকর্ড যাচাইয়ের তাগিদ দিয়েছেন। বাংলাদেশের অত্যাসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি টালমাটাল হওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করে তিনি নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের কর্মকে নির্বিঘ্ন করার পরামর্শ দেন। দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যা এবং আগামী বছর হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যে সংকট রয়েছে তা সব স্টেকহোল্ডার, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের সঙ্গে বসে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানে সরকারকে পরামর্শ দেন তিনি। বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনকে ঘিরে ‘উত্তেজনাকর এবং মেরূকরণ’ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এ নিয়ে সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন অধিকার কর্মীদের কাজের ক্ষেত্র অবারিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

 তার ভাষ্যটি ছিল এমন, ‘টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আগামী নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় রাজনৈতিক দল, কর্মী, সুশীল সমাজের কর্মীদের সভা- সমাবেশের সুযোগ দেয়া জরুরি। তাদের অধিকার থেকে যদি বঞ্চিত করা হলে সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।  নারী, সংখ্যালঘু, তরুণদের দাবি বা চাওয়া শুনতে হবে। ওই সময়টাতে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকবে সেখানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। বিরোধী বা ভিন্নমত দমনে কোনো অবস্থাতেই মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা যাবে না। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মী, মানবাধিকারকর্মী, বিরোধী দল এবং সাংবাদিকদের শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদও দেন তিনি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংস্কারের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে মিশেল বলেন, অনলাইনে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তৃতা, ভুল তথ্য প্রচার এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ নয়। মতপ্রকাশের চর্চা সীমিত করার ক্ষেত্রে যেসব উদ্বেগ রয়েছে তা দূর করাও সহজ কাজ নয়। যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরোপ সবসময় স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং মানদণ্ড নিশ্চিত করতে এবং নির্বিচারে এই আইনের প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধ করতে এর কিছু ধারা বাতিল ও সংশোধনের সুপারিশ করার কথাও জানান তিনি।

 এ বিষয়ে সরকারের জবাবের অপেক্ষায় থাকার কথা উল্লেখ করে মিশেল উপাত্ত সুরক্ষা এবং ওটিটি আইন করার ক্ষেত্রে মানবাধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার আহ্বান জানান।  জাতিসংঘ দূত এখনই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না করা এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার দাবি জানান। তার মতে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি এখনো প্রত্যাবাসনের অনুকূল নয়। যদি এখনই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হয় তবে তারা আবার সেখান থেকে বাংলাদেশে চলে আসবে। উল্লেখ্য, মিশেল বাশেলেট ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় এবং ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় চিলির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০১৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে যোগ দেন। আন্ডার সেক্রেটারি পদমর্যাদার ওই চাকরির মেয়াদ এ মাসেই শেষ হতে যাচ্ছে। সুযোগ থাকলেও তিনি দ্বিতীয় দফায়  হাইকমিশনার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না বরং চিলির রাজনীতিতে ফিরছেন বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছেন।  

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন- বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখতে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্তের যে দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাশেলেট তা যৌক্তিক বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক প্রফেসর ড. ইমতিয়াজ আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপকের মতে নানা কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো কমে এসেছে। তবে এটাকে জিরো লেভেলে নিয়ে আসতে হবে। এ জন্য কর্তৃপক্ষকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। 

পাঠকের মতামত

১৯৭১ এ বাংলাদেশ একটি সাধীণ রাষ্ট্র হলেও পরনির্ভরশীলতার জায়গা থেকে বের হতে পারে নি। নিজেদের সমস্যাগুলো জাতীয় ঐক্যের সমঝোতায় সমাধান করার জন্য একটি সাধীন সার্বভৌম- সম -জাতীয় চেতনায় একতাবদ্ধ হতে পারে নাই। জনগন রাষ্ট্র এবং সরকারকে এখনো নিজেদের থেকে আলাদা করে ভাবে যে কারনে, সরকার এবং রাষ্ট্র যন্ত্রের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত সিদ্ধান্তে জনগনের ইচ্ছার কোন মুল্যায়নই হয় না। জনগনের মধ্যে গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ যদি তৈরি না হয় তাহলে সরকার এবং রাষ্ট্রের কোন জবাবদিহিতার প্রয়োজনই হয় না। আর এভাবেই রাষ্ট্র ক্ষমতার জন্য জাতীয় সার্থের বাহিরে ব্যক্তি বা দলিও সার্থে জনগনের সাধারণ অধিকার বলি দেয়া হলেও প্রতিবাদের কেউ থাকে না। আর বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিবাদ হলেও শক্তিশালী রাষ্ট্রযন্ত্র বা সরকারের নিকট তা টিকতে পারে না। আর এভাবেই বিদেশমুখি মনোভাব প্রত্যেকটি দলিও মনোভাবে রুপান্তর হতে থাকে। তাই বিদেশি কাউকে পেলেই যতো সমস্যার সমাধান খুজতে থাকে। নিজেদের মধ্যে একটি কঠিণ জাতীয় ঐক্য তৈরি করতে পারলে যে কোন সমস্যাই সহজেই সমাধান করা সম্ভব।

সুইট
১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১০:২১ পূর্বাহ্ন

প্রফেসর ড. ইমতিয়াজ আহমেদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের মতে নানা কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো কমে এসেছে। তবে এটাকে জিরো লেভেলে নিয়ে আসতে হবে। এই মত সঠিক নয়। সাম্প্রতিক বরিশালে পুলিশের গুলিতে দুই জনের ম্রিত্যু, ৬২ বছর বয়স্ক লোক পুলিশি নির্যাতনে ম্রিত্যু সরকার বা আইন শ্রিংখলা বাহিনীর মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ কমে আসছে মতামত সঠিক নয়।

হেদায়েত উল্লাহ।
১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৯:৪২ পূর্বাহ্ন

জাতিসংঘের মানবধিকার হাইকমিশনারের বাংলাদেশ সফর নিয়ে নানামূনির নানামত দেখে যারপরনাই ব্যাকুল হয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইলাম যে জাতিসংঘের যেকোনো কর্মকর্তা "ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার"এর মতো। সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে বলিয়ান দেশগুলোতে মানবিকতা বা মানবতার সরাসরি উলঙ্ঘন হওয়ার পরেও জাতিসংঘের মানবিক হাইকমিশনার নিরব থাকেন।বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল লবি দুর্বল হওয়াতে তথাকথিত বিরোধী দলের গসিপ ও প্রোপাগান্ডা যথেষ্ট প্রচার লাভে সমর্থ হয়,আমি নিজে একটি আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী সংস্থার কর্মী হিসাবে বলতে পারি যে পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানবিক অবস্থা অনেক সুসংহত।

বাবুল চৌধুরী এইচ এম
১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১২:০২ পূর্বাহ্ন

যেদেশে ভোটাধিকার নাই সেদেশে মানবাধিকার কোথাথেকে আসবে ?চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী।

shahidul islam
১৮ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:৪৩ অপরাহ্ন

চীনের ও ভারতের স্বদিচ্ছা থাকলে রোহিঙ্গাদের তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব। চীন ও ভারতের কাছ থেকে যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় টিকে থাকার গ্যারান্টিযুক্ত সমর্থন পেয়ে সরকার তাঁদেরকে চাপ দিয়ে ন্যায্য কথা বলার নৈতিক বলটুকুও হারিয়ে ফেলেছে। ফলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান ঝুলে আছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় চীন ও ভারতের ভূরাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতার বলির পাঠা ছোটো দেশগুলো। ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বড়ো বড়ো অভিযোগগুলোর বিষয়ে তারা নিরব এবং শোনেও না শোনার মতো আছে। কোনো কোনো ঘটনার সাথে ভারতের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদকে তাঁর বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে ভারতে পাওয়া গেছে। এর কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা ভারতের তরফে শোনা যায়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন তিনি ভারতে গিয়ে অনুরোধ করেছেন বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখতে। নিজের দেশের জনগণের বিরাগভাজন হওয়ার মতো কাজের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তাই জনগণের ভোটের ওপর সরকারের আস্থা নেই। বিগত দুই নির্বাচনেও তা দেখা গেছে। এটা প্রমাণিত, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে প্রশাসনের ও ভারত-চীনের শক্তির জোরে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার পথ তাঁরা বেচে নিয়েছেন। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, জনসম্পৃক্ত ও অসম্ভব রকমের জনপ্রিয় একটি দল কার বুদ্ধিতে জনবিচ্ছিন্নতার ও শক্তি খাটানোর পথে পাড়ি দিলো তা রীতিমতো গবেষণার দাবি রাখে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে জনগণের নব্বই ভাগেরও বেশি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। মানুষ জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপদসংকুল পথে পাড়ি দিয়েছে। রক্তগঙ্গা পেরিয়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে বটে জনগণের ঐক্যবদ্ধ সমর্থন কিন্তু অক্ষুণ্ণ রইলোনা। একটা স্বার্থান্বেষী মহল সম্ভবত জনবিচ্ছিন্নের কলঙ্কজনক পথে দলটিকে চলতে উদ্বুদ্ধ করেছে। যে দলটি জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থন, সহযোগিতা ও ভালোবাসা নিয়ে বিজয়মাল্যে ভূষিত হয়েছে সেই দলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সত্যিই বিস্ময়কর। মানুষের অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে তাঁদের ভয় আরো বিস্ময়কর ব্যাপার। পেশিশক্তির বলে বিরোধী দলের কর্মসূচি পণ্ড করা একটি জনপ্রিয় দলের কাজ হতে পারেনা। গত আট দশ বছরে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো রাস্তায় দাঁড়াতে পারেনি। ঘরোয়া মিটিং থেকেও গণহারে গ্রেফতার করা হয়েছে নাশকতার অভিযোগের তকমা লাগিয়ে। সম্প্রতি ভোলায় বিএনপির মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণ অসিহষ্ণুতা, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। খুলনা মহানগরীতে বিএনপির কর্মিসভায় যুবলীগ হামলা চালায়। এতে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সশস্ত্র এ হামলায় ২০/২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব ঘটনা মানবাধিকার কতোটা আছে তা বুঝতে সহায়তা করেছে। একটা কথা আছে, 'যাহা কিছু রটে- কিছুনা কিছু বটে!' বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা প্রসিদ্ধ কথা চালু আছে। সেটা হচ্ছে, 'রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই'। কিন্তু অনেকে মনে করেন, 'বাংলাদেশে শেষ ঘটনা বলে কিছু নেই'। এদেশে মামলার আসামি করা হয় জেলে বন্দী থাকা ব্যক্তিকে ; এমনকি মৃত ব্যক্তিকেও। ভাড়ায় পাওয়া যায় মামলার বাদি। আবার, বিনাদোষে বছরের পর বছর ধরে জেল খাটছেন কেউ কেউ। এদেশের নাম 'বাংলাদেশ'। বহু মানুষের রক্তের আখরে লেখা হয়েছে এ নাম। জীবনের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এদেশ। তবুও হিংসা প্রতিহিংসার বিষাক্ত ছোবলে এদেশের রাজনীতির সম্পর্কগুলো ক্ষতবিক্ষত। বিশ্ব রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে চায় আমেরিকা, রাশিয়া এবং উদীয়মান বানিজ্যিক পরাশক্তি চীন, তারপরে ভারত। দেশে দেশেও রাজনৈতিক পরাশক্তি দল আছে। তাঁরা একদেশদর্শী। কখনো কর্তৃত্ববাদী। তাঁদের আকাঙ্খা, দেশের সকল রাজনৈতিক দল এবং জনগণ তাঁদের বাধ্যগত, অনুগত ও বশংবদ হয়ে থাকুক। তাঁদের চাওয়া, দেশের সব মানুষ তাঁদের আধিপত্যের অধীনে থাকুক। মানুষ স্বাধীন জীব। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পছন্দ অপছন্দের স্বাধীনতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষের দেহের উপর জোর খাটানো গেলেও মনের উপর জোর খাটানো যায়না। তবুও আধিপত্য বিস্তারকারী কর্তৃত্ববাদীরা যখন মানুষের মনের উপর জোর খাটায় তখনই বিপত্তি ঘটে। অথচ মানুষের মনের ভাষা বুঝতে পারলে এবং সে মোতাবেক মানুষের পছন্দের মূল্যায়ন করলে সহজেই মানুষের মনজয় করা সম্ভব। গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যার গুরুতর অভিযোগ অনেক বছর ধরে মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু সরকার এসবের সাথে জড়িত নয় দাবি করছে। কিন্তু, একটা দেশের মানুষ হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাবে, তার কোনো কুলকিনারা হবেনা তা কি করে হয়। দেশের সকল মানুষ সরকারের অধিনে রয়েছে। কে কখন কিভাবে গায়েব হয়ে গেছে সরকার তদন্ত করে বের করতে পারবেনা তা অসম্ভব। সরকার যেহেতু একাজে ব্যর্থ তাই জাতিসংঘের তত্বাবধানে তদন্ত হওয়া আবশ্যক। সরকার জড়িত না থাকলে তাঁদের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হবে এবং যারা অপবাদ ছড়িয়েছে তাঁদের মুখোশ খুলে যাবে। আর 'আয়না ঘর'- এর যে কথাটা উঠেছে তা বাস্তব না গল্প তাও খোলাসা হয়ে যাবে। কেউ জড়িত থাকলে সংশোধনের রাস্তা তৈরি হবে। আর ঘটনা মিথ্যা হলে রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার রাস্তাও খুলে যাবে। সুতরাং, জাতিসংঘের তত্বাবধানে তদন্ত করে গুম-খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আয়না ঘরের রহস্য উন্মোচন করা আবশ্যক এবং সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও বদনাম প্রতিরোধ করার স্বার্থে তা গুরুত্বপূর্ণও।

আবুল কাসেম
১৮ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:২৮ অপরাহ্ন

যেদেশে ভোটাধিকার নাই সেদেশে মানবাধিকার কোথাথেকে আসবে ?

বিবেক
১৮ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৮:০৬ অপরাহ্ন

"চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী।"

Sumon
১৮ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৫:২৯ অপরাহ্ন

Bravo! You do whatever, wherever you can make a change for better.

Harunur Rashid
১৮ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১২:৪২ অপরাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

প্রথম পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status