ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৩ শাওয়াল ১৪৪৬ হিঃ

মত-মতান্তর

নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে রাজনীতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে

ব্যারিস্টার নাজির আহমদ

(২ সপ্তাহ আগে) ১৪ মার্চ ২০২৫, শুক্রবার, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

mzamin

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমে ছয়টি এবং পরে আরো পাঁচটি বাড়িয়ে মোট ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কমিশন হচ্ছে বিশিষ্ট নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন সংস্কার কমিশন (মজুমদার কমিশন)। এই কমিশন ইতিমধ্যে বিস্তারিত সুপারিশসহ ৪৩০ পৃষ্ঠার রিপোর্ট  অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ৪৩০ পৃষ্ঠার বিশাল এই রিপোর্ট ছোট্ট এই নিবন্ধে কাভার করা অসম্ভব বিধায় রিপোর্টের কয়েকটি দিক ও আনুষঙ্গিক বিষয় আলোকপাত করার চেষ্টা করবো।

বিস্তারিত সুপারিশসহ ৪৩০ পৃষ্ঠার রিপোর্ট প্রস্তুত করার আগে মজুমদার কমিশন বিভিন্নভাবে জনগণের এবং অংশীজনের পরামর্শ ও মতামত নিয়েছেন। তারা মোট ৬৪টি সভা করেছেন। অংশীজনদের সাথে সংলাপ করেছেন মোট ২২টি। কমিশনের ইমেইল ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তারা মতামত সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার (ফেসবুক, মেসেঞ্জার ইত্যাদি) মাধ্যমেও মতামত নিয়েছেন। স্বল্প সময়ে ৪৩০ পৃষ্ঠার রিপোর্ট প্রস্তুত করা চাট্টেখানিক কথা নয়। নি:সন্দেহে এ এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। পুরো রিপোর্ট পড়লে বোঝা যায় তারা চলমান কনসার্ন ও ইস্যুগুলোর কত গভীরে গিয়ে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনা করে সুপারিশ করেছেন। ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

মজুমদার কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত করার জন্য সুপারিশ করেছেন। তারা আরো সুপারিশ করেছেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ তিন মাসের পরিবর্তে চার মাস হওয়া উচিত এবং এই চার মাস মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করবেন। কমিশনের এই সুপারিশ দুটি যথাযথ ও যুক্তিসঙ্গত। অতীতে স্থানীয় নির্বাচনগুলো যখন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হতো তখন গ্রামে-গঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করতো এবং নির্বাচনগুলোও হতো অবাধ ও সুষ্ঠু। পতিত সরকার স্থানীয় নির্বাচনগুলো দলীয় প্রতীকে ও মোড়কে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান করার ফলে স্থানীয় নির্বাচনগুলোর পরিণতি হয়েছিল জাতীয় নির্বাচনের মতো।

অপরদিকে নির্বাচন কমিশনকে যতই স্বাধীন করা হোক না কেন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বাস্তবতায় কোনো দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকলে তাদের পক্ষে কোনো নির্বাচনই অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করা সম্ভব হয় না। বাংলাদেশে এটা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন বলা হলেও তাদেরকে নির্বাচন পরিচালনা করতে সরকার ও সরকারের আমলাদের উপর পরিপূর্ণভাবে নির্ভর করতে হয়। ফলে সরকারের ক্ষুদ্র (narrow) রাজনৈতিক ইচ্ছা (wish) ও আকাঙ্ক্ষার (desire) রাডারের বাইরে তারা যেতে পারে না। টিলার উপর থেকেই পানি পড়ে, নীচ থেকে নিশ্চয় নয়! উপরে দলীয় সরকারকে রেখে নীচে অপ্রতুল রিসোর্স ‍নিয়ে নিবার্চন কমিশনের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয়নি বাংলাদেশে। ফলে মজুমদার কমিশনের সুপারিশ এক্ষেত্রে যথাযথ।

নির্বাচনী আসনের (constituency) সীমানা নির্ধারণ ও পরিবর্তন একটি বড় মৌলিক ও চ্যালেঞ্জিং কাজ। তবে এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি চলমান প্রক্রিয়া। অতীতে এ নিয়ে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে ও পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নির্বাচনী আসনের সীমানা নির্ধারণ ও পরিবর্তন নির্বাচন কমিশনের করা মোটেই উচিত নয়। কেননা এতে তাদের নিরপেক্ষতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা এড়ানো যাবে না। মজুমদার কমিশনের সঙ্গে একমত যে ‍এই মৌলিক ও চ্যালেঞ্জিং কাজ করার জন্য স্বাধীন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা গঠন করা উচিত। এই স্বাধীন সংস্থাই অকাট্য তথ্য-উপাত্ত ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আসনের জনগণের সঠিক মতামত ও রিপ্রেজেনটেশন নিয়ে সীমানা নির্ধারণ বা পুনর্গঠন করবে।

বৃটেনে Electoral Commission (Election Commission নয়) নির্বাচন পরিচালনা করলেও তারা নির্বাচনী আসনের সীমানা নির্ধারণ ও পরিবর্তনে কোনো ভূমিকা রাখে না। বরং এ কাজটি করে থাকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্বাধীন “বাউন্ডারি কমিশন”। নিজে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে বাউন্ডারি কমিশনের সাথে যুক্ত ছিলাম নাতিদীর্ঘ সময়। নিজ চোখে দেখেছি কত স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে বাউন্ডারি কমিশন কাজ করে এবং বিভিন্ন মেকানিজম ব্যবহার করে অকাট্য তত্ত্ব ও তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার জনগণকে সম্পৃক্ত করে নির্বাচনী আসনের সীমানা নির্ধারণ ও পুনর্গঠন করে। এমন একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্বাধীন বাউন্ডারি কমিশন গঠন করা উচিত বাংলাদেশে যাতে করে সীমানা নির্ধারণ বা পুনর্গঠনে নেয়া তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কোনো রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তুলতে না পারে ।

দু:খজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশে কার্যকর কোনো স্বাধীন ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি বা গড়ে উঠতে দেয়নি রাজনৈতিক দলগুলো বিগত ৫৪ বছরে।  যাও ছিল বিগত ১৫ বছরে পতিত সরকার তা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে। উন্নত ও ফাংশনিং ডেমোক্রেসিতে কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে সেখানে ব্যক্তির ভূমিকা হয় গৌণ। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনার কে  এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এবং তারা কী বললেন তা নিয়ে সদা মশগুল ও সরব থাকে মিডিয়া ও জনগণ। অথচ বৃটেন বসবাস করছি ৩৬ বছর ধরে, কিন্তু ইলেকটোরাল কমিশনের চেয়ার (বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাউন্টারপার্ট) কে বা মেম্বার (নির্বাচন কমিশনারের কাউন্টারপার্ট) কারা কারা তা জানি না বা জানার দরকার হয়নি। বৃটেনে অন্তত: ৯৯ ভাগ মানুষ তাদের নাম জানে না বা তাদেরকে চেনে না! তাদেরকে চেনার বা জানার দরকার নেই কেননা প্রতিষ্ঠান এখানে এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে কে এলো বা কে গেল সেটা কোনো  ব্যাপারই না।

সংস্কার কমিশনগুলো তাদের সুপারিশসহ বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করার প্রাক্কালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করেন এবং তাতে তিনি  সেই কমিশনের সভাপতি হন। সহসভাপতি হিসেবে মনোনয়ন করা হয় বিশিষ্ট ‍রাষ্ট্র বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. আলী রীয়াজকে। সব কমিশনের প্রধানদেরকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য হিসেবে রাখা হয়। তাদেরকে সহায়তা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সমন্বয় করার জন্য সিনিয়র সচিবের মর্যাদায় বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চৌকস ব্যক্তিত্ব বন্ধুবর মনির হায়দারকে। এটি ছিল চমৎকার আইডিয়া ও উদ্যোগ। নেগোসিয়েশনে দক্ষ ও পটু (Skilled and Competent) এমন ২/৩ জন প্রফেশনাল ব্যক্তিত্বদেরকেও রাখা দরকার ছিল যারা কঠিন ও প‍্যাচালো রাজনীতিবিদদের সঙ্গে দক্ষতার সাথে দরকষাকষি করে যৌক্তিক উপসংহারে পৌঁছাতে পারেন।

সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট পাওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে আলোচনা করত: ঐকমত্য সৃষ্টি করে সবার কাছ থেকে লিখিত আন্ডারটেকিং (Written Undertaking) নিতে হবে যার ভিত্তিতে হবে বহু প্রতীক্ষিত ও আকাঙ্খিত আগামী জাতীয় নির্বাচন। যারাই নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যাবেন তারা এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবেন। এটা হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের Fundamental Accord (মৌলিক চুক্তি) বা National Charter (জাতীয় সনদ)। অতীতের তিনজোটের লিখিত রূপরেখা এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকারের কিছু মানা-কিছু না মানার তিক্ত ও নেতিবাচক অভিজ্ঞতা তো আমাদের আছে। এমনটি যেন এবার না হয়।

বৃটেনে যারা আইন পেশায় আছেন তারা জানেন আন্ডারটেইকিং এর কী মূল্য ও এর সুদূর পরিণাম। আন্ডারটেইকিং অনার/পূরণ (Honour/fulfill)  না করলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর  ক্যারিয়ার চলে যেতে পারে, সম্পত্তি ও বাড়ি বিক্রি করে হলেও আন্ডারটেইকিং পূরণ করতে হয়!  অবশ্য ইতিমধ্যে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস অনেক রাজনৈতিক দল ও নেতাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করা কঠিন করে দিয়েছেন এই কথা বলে যে “যারা যতটুকু সংস্কার চান সব আমরা ওয়েবসাইটে দিয়ে দিব যাতে জনগণ জানতে পারে ও দেখতে পারে কোন কোন রাজনৈতিক দল কী এবং কতটুকু সংস্কার চান”! তাঁর এই কথা ঐতিহাসিকভাবে বহুল আলোচিত ও প্রচারিত একটি বাক্যকে মনে করিয়ে দেয়। সেই  বাক্যটি হলো “I will make politics difficult for politicians!”

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার মোট ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছেন। তবে এগুলোর সাথে আমি মনে করি খোদ রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব  অভ্যন্তরীণ সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি নিয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাজনৈতিক দল সংস্কার কমিশন গঠন করা দরকার ছিল। রাজনৈতির দলগুলো নিজ থেকে সংস্কারের জন্য সুপারিশ করবে। কেননা বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে এবং রাজনৈতিক দলগুলো ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে কোনো সংস্কারই বাংলাদেশে লাগসই বা টেকসই হবে না।

তবে আমি আশাবাদী মানুষ। মজুমদার কমিশনের intensive and extensive রিপোর্ট আমলে নিয়ে তাদের সুপারিশগুলো মোটাদাগে বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তবে তার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ করে বড় দলসমূহের (যারা ক্ষমতায় যাবার সম্ভাবনা রয়েছে) সদিচ্ছার প্রয়োজন। প্রায় সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে গলা চেচিয়ে বলা হয়ে থাকে “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”। এটা কি আসলে কথার কথা, না সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মনের কথা - তা প্রমাণ করার সময় এসেছে।

এত রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি অবারিত সুযোগ এসেছে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিমন্ডলে ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আনার। এমন সুযোগ আর হয়তো আমাদের জীবদ্দশায় আসবে না। সংস্কারের এই অবারিত সুযোগ হাতছাড়া করলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না, ক্ষমা করবে না ভবিষ্যত প্রজন্ম। মনে রাখা দরকার, ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করে। পতিত সরকারের পরিণতি একেবারে আমাদের চোখের সামনে। কোন দল বা দলসমূহের কারণে কোটি কোটি মানুষের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাঁধাগ্রস্ত হলে সমান পরিণতির কথা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

 

নাজির আহমদ: বিশিষ্ট আইনজীবী, রাষ্ট্রচিন্তক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ইংল্যান্ডের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার।

 

Email:  [email protected]

মত-মতান্তর থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

   
Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status