ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৩ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৯ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

শেষের পাতা

দিনাজপুর রেলস্টেশনে তুলকালাম কাণ্ড

দিনাজপুর সংবাদদাতা
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার

দিনাজপুর রেল স্টেশনে এক সরকারি কর্মকর্তার টিকিট চেকিংয়ের নামে ঘটে গেছে তুলকালাম কাণ্ড। ওই কর্মকর্তার টিকিট চেকিং করতে গিয়ে রীতিমতো ধস্তাধস্তি, মারামারি, বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ জন আহত হন। এদের মধ্যে একজনকে দিনাজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দিনাজপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ নেওয়াজসহ তার অফিসের ১০ কর্মকর্তাকে প্রায় ৮ ঘণ্টা আটক করে রাখে   দিনাজপুর রেলওয়ে পুলিশ। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলার এজাহার লেখা হলেও শেষ পর্যন্ত তা নথিভুক্ত হয়নি। বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আপসরফার মধ্যদিয়ে রাত ২টা নাগাদ কর্মকর্তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে আটককৃত ডিডিসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা না হওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল দুপুরে ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন অবরোধ করে রেলওয়ে শ্রমিকরা। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

বিজ্ঞাপন
এজন্য এক ঘণ্টা দেরিতে দিনাজপুর স্টেশন ছেড়ে যায় পঞ্চগড় এক্সপ্রেস। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী কাঞ্চন এক্সপ্রেস এবং শান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস প্ল্যাটফরমে দাঁড়িয়ে ছিল।

 দিনাজপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ নেওয়াজ ঠাকুরগাঁও যাবার উদ্দেশ্যে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে আসলে টিকিট কালেক্টর রিপন মিয়া তার কাছে টিকিট দেখতে চান। ডিডি শাহ নেওয়াজ টিকিট পিয়ন কাটতেছে বলে প্ল্যাটফরমে দাঁড়িয়ে থাকেন। কিন্তু টিসি রিপন মিয়া টিকিট কেটেই প্ল্যাটফরমে আসতে বলায় কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রিপন মিয়াসহ রেলের লোকজন ডিডিকে একটি রুমে আটক করে রাখে। ইতিমধ্যে খবর পেয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অন্য কর্মকর্তারা ছুটে এসে তাদের স্যারকে উদ্ধারের চেষ্টায় রেলের লোকজনদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে ৩ জন আহত হয়। আহতরা হলেন- রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মাসুদ পারভেজ (৩০), টিকিট কালেক্টর রিপন মিয়া (২৭) ও পোর্টারম্যান মো. নাহিদ হাসান (৩২)। তবে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে দিনাজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মাসুদ পারভেজ। অন্য ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরে রেল পুলিশ দিনাজপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ নেওয়াজসহ ওই দপ্তরের ১০ কর্মকর্তাকে রেল থানায় আটকে রাখে। দীর্ঘ সময় ধরে এজাহার লেখা হয়। রাত ১০টার পর স্টেশনে হামলার প্রতিবাদে ও মাদকদ্রব্য অফিসের কর্মকর্তাদের বিচারের দাবিতে স্টেশন প্ল্যাটফরমে মিছিল বের করে রেলওয়ে শ্রমিক লীগ। তারা পুরো প্ল্যাটফরম কয়েকবার প্রদক্ষিণ করে রেল কর্মচারীদের ওপর হামলার বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এদিকে টিসি রিপন মিয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ায় ছুটে আসেন দিনাজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সৈয়দ মোকাদ্দেস হোসেন বাবলু ও বিরল উপজেলা কমান্ডার আবুল কাশেম অরুসহ মুক্তিযোদ্ধারা।

 তারা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা করেন। পরে রাত ১২টার পর দিনাজপুর রেলওয়ে থানার ওসি এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমরা উভয়েই সরকারি চাকরি করি। আমাদের মধ্যে এমন ঘটনা অনভিপ্রেত। তবে আমরা উভয়কে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। এ ঘটনায় একটি মামলার প্রক্রিয়া শুরু হলেও উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তক্রমে মামলা না করে আটক ডিডিসহ সকলের কাছে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নারগিস জানান, আমরা দাঁড়িয়ে সবার টিকিট চেক করছিলাম। এ সময় তিনি (ডিডি) বাধা অতিক্রম করে ভেতরে ঢুকতে থাকেন। তাকে টিকিটের কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি টিকিট করেননি বলে জানান। এ সময় টিকিট করে ভেতরে ঢুকতে বললে তিনি ধাক্কা দেন। পরে তাকে একটি রুমে আটকে রাখতে বলি। পরে ওনার লোক এসে মারামারি শুরু করে। তবে স্টেশন সুপার নারগিসের অভিযোগ অস্বীকার করে শাহ নেওয়াজ বলেন, অফিসের এক স্টাফকে কাউন্টারে টিকিট কাটতে পাঠিয়ে আমি স্টেশনের প্রধান ফটক দিয়ে প্ল্যাটফরমে প্রবেশ করতে যাই। বিষয়টি গেটে দাঁড়িয়ে থাকা স্টেশন মাস্টারকে জানানো হয়। কিন্তু তারা দুর্ব্যবহার করা শুরু করে। টিসি রিপন মিয়া জানান, আমাদের ওপর যে হামলা তা খুব মারাত্মক। তারা আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছিল। নিয়ে গেলেই মেরে ফেলতো। তারা আমার শার্ট ছিঁড়ে ফেলে।

পাঠকের মতামত

সাধারণ পাবলিক হলে ব্যবহার কেমন হতো,এবার বুযেন।

এম,এ,করিম মজুমদার
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৯:৫৩ পূর্বাহ্ন

পরে রাত ১২টার পর দিনাজপুর রেলওয়ে থানার ওসি এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমরা উভয়েই সরকারি চাকরি করি। আমাদের মধ্যে এমন ঘটনা অনভিপ্রেত। আমরা যারা সরকারী চাকুরী করি না তাদের সাথে কেমন ব্যাবহার হয় তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। সাধারন পাবলিকের সাথে এমন হলে পকেটে মাদক ঢুকিয়ে ফাসিয়ে দিত হয়ত।

নাদের
৪ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

Thus far, we have heard about government party people fighting with each other. Now, the government employees are fighting with each other. Next time, government ministers will fight with each other. J-O-Y B-A-N-G-L-A!!!

Nam Nai
৪ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৩:১৩ অপরাহ্ন

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

শেষের পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status