শেষের পাতা
ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশন কলেজ
অন্যায়ভাবে অপসারণের অভিযোগ সাবেক অধ্যক্ষের
স্টাফ রিপোর্টার
২১ জানুয়ারি ২০২৫, মঙ্গলবার২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশন কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছিলেন অধ্যাপক আফরুজা আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের কমিটি ভেঙে দেয়া হয়। বিধি অনুযায়ী অধ্যক্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠানোর আগেই স্বার্থান্বেষী মহল নিজ উদ্যোগে গত বছরের ১০ই সেপ্টেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি এডহক কমিটি গঠন করে। আফরুজা আক্তার নিজের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত যোগদানের সুযোগ প্রার্থনা করেন।
আফরুজা আক্তারের ১০টি অভিযোগ এনে এডহক কমিটি’র সভাপতি বরাবর চিঠি দেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রইছ উদ্দিন। গত বছরের ২৪শে ডিসেম্বর এই চিঠির প্রেক্ষিতে ২৯শে ডিসেম্বর জবাব দেন তিনি। এর আগে ৬ই নভেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের কাছে ‘বাধ্যতামূলক ছুটি প্রসঙ্গে’ আফরুজা আক্তার তার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে উল্লেখ করে বার্তা দেন। বলেন, ২৮শে সেপ্টেম্বর শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং এডহক কমিটি’র প্রথম সভার সময় নির্ধারণ করা হয়। সভায় বহিরাগত কিছু শিক্ষকও উপস্থিত হন। আমাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। আমার বেতন-ভাতা খাতে গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আমার ব্যাংক হিসাবে মাত্র ৯৫ টাকা করে কলেজের অংশ থেকে জমা হয়। যার মাধ্যমে আমাকে আর্থিক ও মানসিকভাবে অপমান করা হয়।
তিনি লিখিত বার্তায় বলেন, মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ একজন মহিলা হওয়া আবশ্যক। কলেজে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ২০ জনের বেশি নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২১ সালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী, এমপিও’র জন্য প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭৫ জন হওয়া প্রয়োজন। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং কলেজের ২-৩ জন শিক্ষক অর্থের বিনিময়ে ছাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বারবার মানসিক চাপ প্রদান করে।
তিনি বলেন, মো. রইছ উদ্দিন বিভিন্ন সময়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিভিন্ন অযৌক্তিক দাবি করেন এবং অপ্রতিষ্ঠানিক-অশালীন ভাষায় কথা বলেন। তার আচরণ অসদাচরণের পর্যায়ে পড়ে। এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগে থেকেই রইছ উদ্দিন ব্যবহারিক পরীক্ষা বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১২শ’ টাকা করে ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা কলেজে দেয়ার কথা জানান। এর জন্য ব্যবহারিকে পূর্ণ মান দেয়ার কথা বলেন। টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ওই টাকা নিয়ে কলেজে গাড়ি ক্রয়ের কথা বলেন। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আনা নানা অভিযোগের জবাব দেন। তিনি বলেন, আমার ছুটিকালীন সময়ে জ্যেষ্ঠ অধ্যাপককে দায়িত্ব দেয়ার কথা থাকলেও সভাপতির কথা উপেক্ষা করে কলেজের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ১২ নম্বর শিক্ষক মো. রইছ উদ্দিনকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রইছ উদ্দিন বলেন, এখানে গভর্নিং বডি তদন্ত করে নিয়মমাফিক ব্যবস্থা নিয়েছে। এখানে জ্যেষ্ঠতা যাই হোক সিনিয়র হিসেবে যারা ছিলেন তাদের সমর্থন নিয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে কলেজটির সভাপতি ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তও হয়েছে। তাকে আমরা অসম্মান করিনি। অসম্মান করতে চাইলে সাসপেন্ড করা হতো। সম্মানে সরিয়ে দেয়ার পর শূন্য স্থানে একজনকে দেয়া হয়েছে। শিক্ষকরা রইছ উদ্দিনের নাম প্রস্তাব করার কারণেই তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এখানে কোনো ব্যক্তি স্বার্থ নেই।