ঢাকা, ১৫ জুলাই ২০২৪, সোমবার, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ মহরম ১৪৪৬ হিঃ

শেষের পাতা

বাংলাদেশেও উদ্বেগের কারণ মূল্যস্ফীতি

স্টাফ রিপোর্টার
১৫ জুন ২০২৪, শনিবারmzamin

বিশ্বের দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি কষ্ট বাড়াচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশেও উদ্বেগের কারণ এই মূল্যস্ফীতি। সরকার এখানে কোনো কিছুই চাপা দিয়ে সত্যকে আড়াল করে কিছুই করেনি। বাজেট বাস্তবতার আলোকে ভারসাম্যমূলক। অনেক দিন ধরে দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই বাজেট সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে একসময় ইউরোপেও উদ্বেগ ছিল।  প্রায় ১০ শতাংশ ছিল মুদ্রাস্ফীতি। আর্জেন্টিনার মতো দেশে মুদ্রাস্ফীতি ৩০০ শতাংশ। বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাবশালী দেশ তুরস্কে ৭৩ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ আশপাশের দেশেও মুদ্রাস্ফীতির অবস্থা ভালো নয়। গতকাল রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় সড়কে গাড়ির চাপ থাকলেও যানজট নেই। পশুবাহী গাড়ি ও পশুর হাট যত্রতত্র বসিয়ে যেন জনদুর্ভোগ না বাড়ে, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, রাস্তার কারণে যানজট হবে, এমন পরিস্থিতি নেই। বাংলাদেশে সর্বকালের সবচেয়ে ভালো সড়ক এখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকারের আমলে হয়েছে।

 পশুর গাড়ি ও পশুর হাটের কারণে কিছু যানজট হয়। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ এড়ানো কঠিন। দায়িত্ব পালনে মনোযোগ দিতে হবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি যাতে না ঘটে, সেজন্য মনিটরিং বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ এড়ানো খুব কঠিন। গতবারও বৃষ্টি ছিল। গতকালও হঠাৎ বৃষ্টি হয়েছে। যে ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর থেকে এসেছি সেটি ৩২ মিনিট নামতে পারেনি। সেতুমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের দেশে বাজেট সেশন চলছে। এই বাজেট নিয়ে আলোচনা আছে, সমালোচনা আছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও বাজেট আছে। আমাদের এবারের বাজেট ভারসাম্যমূলক হয়েছে। এই বছর ৬৪ দেশে নির্বাচন হওয়ার কথা। আমাদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও নির্বাচন শেষ হয়েছে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘টপ টু বটম দুর্নীতির বরপুত্র’- আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি’র টপ টু বটম সবাই দুর্নীতিবাজ। এখন দুর্নীতিবাজরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলছে।

 তারেক রহমানকে ভালো মানুষ সাজানোর জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিবৃতি দেয়ার অভিযোগ তুলে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি তাদের নির্বাচিত ছয়জনকে সংসদে পাঠালেন (একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর)। এখন যদি ফখরুল সংসদে যান তাহলে তারেকের ক্ষমতা সংকুচিত হয়ে যাবে। এ রকম একটা সাইকোলজি থেকে ফখরুলকে পার্লামেন্টে যাওয়া থেকে বিরত রেখেছে তারেক রহমান এক ধমকে। তিনি বলেন, বিএনপি তাদের গঠনতন্ত্র থেকে ৭ ধারা হঠাৎ করে এক কলমের খোঁচায় বাদ দিয়েছে। কারণ কী? কারণ হলো যে, ওই ৭ দফায় আছে দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, দুর্নীতিবাজ কোনো ব্যক্তি বিএনপি’র নেতা হতে পারবে না। ফখরুল তাকে ভালো মানুষ সাজাচ্ছেন, তাহলে ধারা বাদ দিলেন কেন? দুর্নীতিবাজের যে ধারা আর দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির যে ধারা সেটায় তারেক রহমান দোষী হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য হঠাৎ করে তারেকের নির্দেশে এক কলমের খোঁচায় বাদ দিয়ে নির্বাচন কমিশনে এনে জমা দিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল নিজেই তো স্বাধীন নন। তার দলে কোনো পর্যায়ে কোনো সম্মেলন হয় না, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা হয় না। তারেক রহমান বিদেশে থাকলে বিএনপি স্বাধীন সত্তা নিয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে অস্তিত্বের প্রকাশ ঘটাতে পারবে- সেটা আমরা বিশ্বাস করি না। অস্ত্র মামলা, দুর্নীতির মামলায় তারেকের সাজা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেকের আর কত সাজা হবে? তার তো সাজা হয়েছে। শাস্তি হয়ে গেছে। 

এখন তার শাস্তি ভোগ করার ব্যবস্থা করতে হবে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সে কথাই বলেছেন। তো তাকে ভালো মানুষ সাজানোর চেষ্টা করার কোনো কারণ নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে বিএনপি আসবে না, নির্বাচনে বিএনপি যদি আসতো গতবারের মতো খারাপ ফলাফল হতো না। এটা আমি মনে করি। সার্বিক পরিস্থিতির কারণে অপজিশনের একটা ভোট ছিল। কিন্তু তারেক রহমান মনে করে, যদি এই অবস্থায় বিএনপি ভালো করে, এটার সুফল তো আমি পাচ্ছি না, তারেক রহমান তো পাচ্ছে না। এখন তার অনুপস্থিতিতে অন্য কেউ নেতা হবে! ফখরুল সাহেব নিজেও অনুধাবন করতে পারছেন যে তাকে কীভাবে তারেকের ধমকের ওপর চলতে হয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা আজ এসব কথা বলে অন্ধকারে ঢিল ছোড়েন, ১৫ বছর আগে বাংলাদেশ কেমন ছিল? বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন ছিল? আর ১৫ বছর পরে কেমন হয়েছে? আমাদের ভুল-ত্রুটি আছে এটা আমরা স্বীকার করে নিই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অতীতের ভুল-ত্রুটি থেকে আমরা শিক্ষা নেবো। 

বিএনপি আমলে কত সন্ত্রাসী ছিল প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দুর্নীতিবাজ বেনজীরের জায়গায় কোহিনূর, আশরাফুল হুদা এসব লোককে আইজিপি বানানো হয়েছিল। এদের দুর্নীতির গল্প শুনলে শিউরে উঠতো। বিচার কি হয়েছে? বিএনপি’র নেতারা জনে জনে দুর্নীতি করেছিল, লুটপাট করেছিল। তার বিচার কি হয়েছিল? বিএনপি কি তাদের কোনো নেতার বিচার করার সৎ সাহস দেখাতে পেরেছে, যেটা শেখ হাসিনা করে দেখিয়েছেন! বর্তমান সরকার বিএনপি’র শত্রু- মির্জা ফখরুলের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এদেশে বিএনপি’র বন্ধু হতে পারে সেই সরকার যে সরকার নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজয়ের নিশ্চয়তা দিবে। সংসদ সদস্য আনার হত্যাকাণ্ডে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের রিমান্ড প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, মামলা হওয়ার আগে, শাস্তি ঘোষণার আগে কাউকে অপরাধী বলা ঠিক নয়- এটাই নিয়ম। জেলা সেক্রেটারি রিমান্ডে- এমন উদাহরণ কি বিএনপি এবং জেনারেল এরশাদের আমলে আছে? আওয়ামী লীগের বিচার করার সৎ সাহস আছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status