ঢাকা, ২৪ মে ২০২২, মঙ্গলবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২২ শাওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

শরীর ও মন

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হোক ঈদের ভোজন

ডা. মো. বখতিয়ার
৩০ এপ্রিল ২০২২, শনিবার

এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের খাবারের মজাই যেন আলাদা। সাধারণত প্রতিটি মুসলিম পরিবারেই ঈদ উপলক্ষে গৃহিণীরা মহা আনন্দে বিভিন্ন সুস্বাদু ও মুখরোচক খাবার তৈরি করে থাকেন। আর দীর্ঘদিন বিরতির পর হঠাৎই ঈদের সময় আপনি কেমন খাবার খাবেন, কী ধরনের খাবার খেলে অসুস্থ হয়ে পড়বেন না তা জানা জরুরি। কেননা, ঈদের সময় অতিরিক্ত ও নতুন ধরনের খাবার খাওয়ার ফলে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। যাকে আমরা বলি হরিষে বিষাদ। আমরা সহজেই ঈদের দিন ও তার পরবর্তী কয়েকদিন খাবারে একটু সতর্ক ও সচেতন হলে কিছু রোগজনিত বিড়ম্বনা এড়াতে পারি। তাই কেমন হবে ঈদের দিনের খাবার এবং কি কি আইটেম থাকতে পারে সকাল, দুপুরও রাতের খাবারে বা কতটুকুই খাবার খাওয়া উচিত সারাদিনের ক্যালরি মেটানোর জন্য এসব জানা থাকলে, ঈদে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। 
খেতে হবে হালকা ও কম তেলে রান্নাযুক্ত খাবার
ঈদের দিন আপনি যে খাবারই খান না কেন সেটা যেন কম তেলে রান্না হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নতুন জামা কাপড় পরে পরিপাটি হয়ে ঈদের নামাজে যাওয়ার পূর্বে আপনি অল্প চিনিযুক্ত ও অল্প পরিমাণে পায়েস, সেমাই, ফিরনি, পুডিং ছাড়াও অন্যান্য তৈরি খাবার খেয়ে নিতে পারেন। তবে ভুলেও পেট ভরে খাবেন না। যা হঠাৎই অনেক দিন পর খাওয়ার কারণে বিপত্তি ঘটাতে পারে

বিজ্ঞাপন
এ সময় বেশি মিষ্টিযুক্ত খাবার খেলে মাথা ঝিমঝিম করবে, অস্বস্তিও লাগতে পারে। নামাজ পড়ে এসে কম তেলে ভাজা পরোটা বা সবজি, খিচুড়ি, হালকা ঝালযুক্ত মাংস হতে পারে ঈদের সময়ের উপযুক্ত খাবার।
সকাল ১০ ঘটিকা থেকে ১২ ঘটিকার মাঝে খেতে পারেন 
ঈদের দিনে অনেক সকাল ও দুপুরের মাঝের সময়টাতে হালকা কিছু খেতে পছন্দ করেন। সে ক্ষেত্রে ফুচকা বা অল্প ফুচকা দেয়া চটপটি খেতে পারেন, খেতে পারেন নুডলস্‌, মুখরোচক কাঁচা আমের ভর্তা। যা বাড়তি তৃপ্তি জোগাতে পারে। যেহেতু এখন বেশ গরম বহমান, তাই এ সময়ের সব থেকে পুষ্টিকর খাবার হলো তাজা ফল বা ফলের সালাদ। এ ছাড়া ফলের জুস, বেলের শরবত, ডাবের পানি ও শসা খাওয়া যেতে পারে, তাতে শরীরে পানি স্বল্পতা তৈরি হবে না।
দুপুরের খাবার
ঈদের দিনে দুপুরের খাবারে পোলাও বা ভুনা খিচুড়ি হলো আমাদের আসল খাবার। ইদানীং আধুনিকতার ছোঁয়ার অনেকে মাছ ও মাংস কয়লায় ভেজে বা বার-বি-কিউ করে খান। যা কিন্তু খারাপ না। তবে এসব খাবার অবশ্যই কম ঝালযুক্ত হালকা তেলে রান্না হলে ভালো হয়। ঈদে কোনোক্রমেই অতিরিক্ত পেট ভরে খাবেন না। ঈদের দিন অতিরিক্ত ভূরিভোজের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঈদের দিনের একটি পরিচিত খাবার হলো রোস্ট। কিন্তু আমরা হয়তো জানি বা অনেকেই জানি না এক মাস রোজা রাখার পর রোস্ট জাতীয় খাবার গ্যাস্ট্রিকের মতো সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। তাই রোস্টের বদলে কম তেলে রান্না মুরগির কোরমা রাখা যায়। বর্তমানে রান্না পদ্ধতির কিছুটা পরিবর্তনের মাধ্যমে যেকোনো মজাদার খাবারই তৈরি করা যায়। সাধারণত আমরা ডিপ তেলে না ভেজে স্বাস্থ্যকর উপায়ে এয়ার ফ্রায়ারে তেল ছাড়া ভেজে খেতে পারি। এ ছাড়া দুপুরের জন্য কম মসলার চায়নিজ সবজি খুবই স্বাস্থ্যকর। রান্না করা যেতে পারে সবজির কোরমাও। কোমল পানীয়ের বদলে বোরহানি বা মাঠা হতে পারে তৃপ্তিদায়ক। দই বা টক দই খেলে মন্দ কী!
রাতে অবশ্যই হালকা খাবার
ঈদের দিন সাধারণত মানা থাকলেও অনেকেই দুপুরে একটু ভারী খাবার বেশি খেয়ে ফেলেন। তাই রাতে অবশ্যই কম পরিমাণে খাবেন। রাতে সহজে হজম হয়, এমন খাবারই রাখতে হবে পাত্রে। ভাতের সঙ্গে মাছ হতে পারে আদর্শ খাবার। মাছের সঙ্গে সয়া সস, লেবুর রস ও গোলমরিচ দিয়ে মেরিনেট করে রান্না করলে গতানুগতিক রান্না থেকে ভিন্ন হবে। আবার প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডও পাওয়া যাবে। রাতে ভুনা বা কষানো মাংস না খাওয়াই ভালো। রাতের খাবারের জন্য গোলমরিচ, লেবুর রস ও লবণ দিয়ে মাংস পানিতে সেদ্ধ করে তারপর কিছু সবজি হালকা তেলে ভেজে সেদ্ধ মাংসে ছেড়ে বিট লবণ ও গোলমরিচ দিয়ে অনেকটা স্যুপ জাতীয় খাবার তৈরি করে নিতে পারেন, যা রাতের জন্য খুবই স্বাস্থ্যসম্মত। অবশ্যই ঈদের সময় প্রতিবার খাবেন সসার সঙ্গে টমেটোর মিক্স সালাদ, যা আপনাকে বাড়তি ফ্যাট না হতে সহায়তা করবে। পরিশেষে, করোনার পরে ঈদ উৎসবে মেতে উঠুন বর্ণিল আনন্দে। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।


লেখক: জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, খাজা বদরুদদোজা মডার্ন হাসপাতাল, সফিপুর, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
 

শরীর ও মন থেকে আরও পড়ুন

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com