ঢাকা, ২৫ জুন ২০২৪, মঙ্গলবার, ১১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৮ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

শেষের পাতা

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতের মানদণ্ডে পিছিয়ে ১৩ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

মুনির হোসেন
২২ মে ২০২৪, বুধবার

বিশ্বব্যাপী পাঠদানের ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। কারণ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত শিক্ষার্থীদের সাফল্যের অন্যতম সূচক। তাই উন্নত দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে জোর দিয়ে থাকে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কম হলে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে পারেন। কিন্তু এ অনুপাত বেশি হলে তা অনেকাংশে সম্ভব হয় না। শ্রেণি পাঠদানে বিশ্বব্যাপী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ১:২০ অনুপাতকে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যেটি আরও কম হবে বলে ধরা হয়। বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিংকারী প্রতিষ্ঠান কিউএস এবং টাইম হায়ার এডুকেশন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতকে র‌্যাংকিংয়ের অন্যতম সূচক হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু দেশের ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত স্ট্যান্ডার্ড অনুপাত থেকে অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত যত কম হবে পাঠদান তত ভালো হবে। শিক্ষার মান বাড়বে। এর বিপরীত হলে শিক্ষার মান কমবে। যেটি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সমীচীন নয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের মানদণ্ডে পিছিয়ে ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হলো- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ১:৩৪, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১:৩৫, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১:২৯, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ ১:৩৪, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ১:৩৭, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ১:২৬, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ১:২৪, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ১:২৩, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর ১:৩৮, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্‌ ১:২২, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ১:৩২, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১:২৪, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ১:২৪। দেশে ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ২৯৬। আর শিক্ষকের সংখ্যা ১৬ হাজার ১৬৮। সব মিলিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:১৮। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতের মানদণ্ডে এগিয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১:১৬, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:১২, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:১০, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:২, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:৪, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:৮, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:৫। পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত অনেক কম। টাইম হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০২৪ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:১০.৯, স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:৬.৪, এমআইটি ১:৮, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:৯, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:১১.৫, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:৬.২, জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:৪.১, পেনসেলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:৬.২, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:৫.২, সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ১:২০, ইম্পেরিয়াল কলেজ, লন্ডন ১:১১.৮, পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:১০.৯। পার্শ্ববর্তী ভারতের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:১২, ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সে ১:৯.৬, জামেয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়ায় ১:১৩.২, বানারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে ১:৮। আর পাকিস্তানের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:৯.৩। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া মানবজমিনকে বলেন, শিক্ষক শিক্ষার্থীর অনুপাত বেশি এটা ঠিক। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে চাহিদা দিয়ে গত সপ্তাহেও ১৬টা পোস্ট নতুন করে পেয়েছি। আরও ৫০ জন শিক্ষকের চাহিদা দেয়া আছে আমাদের। আশা করছি, এগুলোর অনুমোদন পেলে এ ঘাটতিটা কমে আসবে। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়েছি অল্প কিছুদিন। তার মধ্যে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি যেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। সেশনজট কমিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছি। ইতিমধ্যে ডিন, চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে সভা করেছি। আমরা সেশনজটকে শূন্যতে নামিয়ে আনতে চাই। আশা করছি, এক বছরের মধ্যে সেশনজট আমরা শূন্যতে নামিয়ে আনতে পারবো। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকও নতুন করে দিয়েছি। পরীক্ষার খাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই দেখার উদ্যোগ নিয়েছি। সব মিলিয়ে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে কার্যকর সকল উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সালাম মানবজমিনকে বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত যত কম হবে তত পাঠদান ভালো হবে। শিক্ষার মান বাড়বে। এর বিপরীত হলে শিক্ষার মান কমবে। সাধারণত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিকভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:২০ বা ১:২২ স্বীকৃত। যেটি উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও কম হওয়া উচিত। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন হচ্ছে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা। সেটা ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে দেবে। তারা সেটা কাজে লাগিয়ে নতুন বাজার সৃষ্টি করবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার মানটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিশ্চিত করতে হয়। কারণ এর মাধ্যমে আমাদের জাতীয় উন্নয়ন ভূমিকা রাখে। জ্ঞান অর্জন কিংবা জ্ঞান উৎপাদনে ব্যাহত হয় যদি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত বেশি হয়, প্রত্যাশা অনুযায়ী হয় না। আমরা যদি দেখি আমাদের বিষয়ভিত্তিকভাবে এ অনুপাত আরও অনেক বেশি। দেখা যাবে প্রতি ক্লাসে ১৫০ থেকে ৩০০ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে একজন শিক্ষক পাঠদান করাতে হচ্ছে। শিক্ষার গুণগত মানের কথা চিন্তা করলে এ ধরনের অনুপাত সমীচীন নয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়) প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত নিয়ে অবশ্যই কাজ করতে হবে। সেভাবে ইউজিসির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া আছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড যে মান তা নিশ্চিত করতে সবাইকে কাজ করতে হবে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সেটি পারছে না। তাই এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে পলিসিগত অনেক পরিবর্তন আনতে হবে। কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিতে আমরা বরাবরই চাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত যেন একটি স্ট্যান্ডার্ড পর্যায়ে থাকে এবং সে অনুযায়ী ইউজিসি কাজ করবে।  
 

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

   

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status