ঢাকা, ২২ মে ২০২৪, বুধবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ ১৪৪৫ হিঃ

বাংলারজমিন

সিংগাইর উপজেলা

এমপি’র দুই খলিফা একে-অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নিশ্চুপ মমতাজ বেগম

রিপন আনসারী, মানিকগঞ্জ থেকে
২৫ এপ্রিল ২০২৪, বৃহস্পতিবার
mzamin

রাজধানী ঢাকার অতি কাছের একটি উপজেলা সিংগাইর। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এখানে চলছে নানান পলিটিক্স। ক্ষমতাসীন দলের সাবেক এমপি ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের ১৫ বছরের রাজত্ব হাতছাড়া হয়ে গেছে গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। নির্বাচনের আগে নানান আলোচনা সমালোচনায় নিজ দলের নেতাকর্মীদের চরম বিরোধিতার মুখে পড়েন মমতাজ বেগম। নিজ দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বেফাঁস কথা তার পরাজয়ের অন্যতম কারণ।  স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর রাজত্ব চলছে এখন। 
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এখানে মাত্র তিন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিন জনের দু’জনই বর্তমান সংসদ সদস্য দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন খলিফা হিসেবে পরিচিত। 
এদের একজন হচ্ছে হাজী  আব্দুল মাজেদ। তার রাজনৈতিক পদবি হচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহ-সভাপতি।  এ ছাড়া জনপ্রতিনিধি হিসেবে উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের একাধিক বারের চেয়ারম্যান। তার প্রধান প্রতিপক্ষ নিজ দলের অন্যতম নেতা সায়েদুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন
যার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড হচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দুই নেতা সাবেক সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে ওপেন সমালোচনা করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। যা মমতাজের নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এক কথায় তারা বর্তমান সংসদ সদস্য দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর অন্যতম দুই খলিফা। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাদের পরস্পর মুখোমুখিতে কার্যত বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য জাহিদ আহমেদ টুলু। তারপরও এই দুজনই সংসদ সদস্যের সুদৃষ্টিতে রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত কার দিকে চূড়ান্ত দৃষ্টি দিবেন সেটাই দেখার বিষয়। পক্ষান্তরে সংসদ সদস্য জাহিদ আহমেদ টুলুর প্রধান প্রতিপক্ষ সাবেক সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম রয়েছেন নিশ্চুপ। এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, সিংগাইর উপজেলায় আওয়ামী লীগের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক পক্ষ-প্রতিপক্ষের দ্বন্দ্ব। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদটি এখনো  সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের হাতে।  তাছাড়া তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহীদুর রহমান শহীদ। মমতাজ বেগমের সাবেক স্বামী প্রয়াত রশিদ বয়াতির ভাগ্নে। কমিটিতে বেশির ভাগই রয়েছে মমতাজ অনুসারী। তাছাড়া সিংগাইর পৌরসভার বর্তমান মেয়র  মমতাজ বেগমের সৎ ছেলে। মোটকথা সিংগাইরের পদধারী নেতার বেশির ভাগই এখনো মমতাজের অনুসারী। আগামী ৮ই মে প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মমতাজ বেগমের ব্যক্তিগত কোনো প্রার্থী কার্যত নেই। যার কারণে বর্তমান সংসদ সদস্য দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর  দুই খলিফা নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। সংসদ সদস্য কাকে রেখে কাকে সমর্থন জানাবেন- এটাও এখনো অস্পষ্ট। এ নিয়ে যেকোনো একজন তার কাছ থেকে ছিটকে পড়ে যেতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে। সেই ফায়দা নিতে  পারেন সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। এই উপজেলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা মুশফিকুর রহমান হান্নান। উপজেলা পরিষদ ছেড়ে তিনি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ায় এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বাইরে রয়েছেন। এখানে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তৃতীয় জন আব্দুল হাকিম। একসময় বিএনপি ঘরোনা ছিলেন। নির্বাচনে তাকে নিয়ে তেমন একটা সাড়া-শব্দ নেই। বরাবরই এই উপজেলাটি বিএনপি’র শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানকার বিএনপি’র  নেতাকর্মীরা নির্বাচনে ভোট বয়কট করেছেন। উপজেলা নির্বাচন নিয়েও তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  হাজী আব্দুল মাজেদ ও সাইদুল ইসলাম যেখানে প্রকাশ্যে মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে নির্বাচনে মাঠে নেমেছিলেন সেখানে মমতাজ বেগমের অনুসারীরা এই দু’জনকে কোনোভাবেই মেনে নেবে না- এটা বর্তমান ভোটের মাঠের অঘোষিত আওয়াজ। তাই ভোটের হিসাবনিকাশে তৃতীয় প্রার্থী হিসেবে আব্দুল হাকিম মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসবে ততই স্পষ্ট হয়ে উঠবে মমতাজ বেগম এবং আরও কয়েকজন বাঘা নেতার অনুসারীরা কোনদিকে যাচ্ছে। 
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর দুই খলিফা হাজী আব্দুল মাজেদ এবং সায়েদুল ইসলাম দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। এদিকে মানিকগঞ্জ জেলার মধ্যে সিংগাইর উপজেলাটি সবদিক থেকেই গুরুত্ব বহন করে থাকে। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন  পর্যন্ত বিএনপি’র একক আধিপত্য ছিল। এখানে জেলা বিএনপি’র সভাপতি আফরোজা খান রিতার অনুসারী রয়েছেন বিএনপি’র সিংহভাগ নেতাকর্মী। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আফরোজা খান রিতা। 
গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও বিএনপি ভোট বয়কট করার ঘোষণায় এখানকার বিএনপি ঘরানার লোকজনের মধ্যে ভোটের মাঠে কোনো সাড়া-শব্দ নেই। সবমিলিয়ে এই উপজেলা নির্বাচনে ভোটের হিসাবনিকাশ এবং রাজনৈতিক জটলায় রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

 

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

   

বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status