ঢাকা, ১৮ মে ২০২৪, শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ জিলক্বদ ১৪৪৫ হিঃ

শেষের পাতা

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমছেই

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
২১ এপ্রিল ২০২৪, রবিবার
mzamin

সঞ্চয়পত্রে গ্রাহকদের বিনিয়োগ কমেই চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাস জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির ঋণাত্মক পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ৩ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। বিক্রি কমে যাওয়ার অর্থ হলো- সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নিতে হচ্ছে না। ফলে এ খাতে সরকারকে ঋণের সুদও গুনতে হবে না। তবে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধের বিপরীতে সরকারকে এখনো বাজেটে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে। যেমন চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সরকারের নিট ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৮ হাজার কোটি টাকা। এর আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩২ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছিল। ওই অর্থবছরের শেষে নিট বিক্রি ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা।

২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয় ৮০ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন
এর বিপরীতে গ্রাহকেরা সঞ্চয়পত্র ভাঙান ৮৪ হাজার ১৫৩ কোটি টাকার। অর্থাৎ নিট বিক্রি ঋণাত্মক হয়ে যায় (৩,২৯৫ কোটি)। এর মানে সরকার ওই অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ এক টাকাও পায়নি। নিট বিক্রিকেই সরকারের ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সরকারের নেয়া ঋণের পুঞ্জীভূত পরিমাণ ২০২৩ সালের এপ্রিলে ছিল ৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা চলতি এপ্রিলে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা। এক বছরে মাত্র ২১৪ কোটি টাকা বেড়েছে। 

যে কারণে বিক্রি কমছে: গ্রাহকরা জানান, তিন কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমছে। এগুলো হলো- ১. জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ও ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা; ২. সঞ্চয়পত্রের সুদের বিপরীতে উচ্চ করারোপ ও সুদ কমানো এবং ৩. উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকে আমানতের সুদ বৃদ্ধি। ২০১৯ সালের ১লা জুলাই থেকে এনআইডি ও টিআইএন জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা শুরু হয়। ফলে যারা আগে সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন, তাদের অনেকেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে নতুন করে আর এতে বিনিয়োগ করেননি।

৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ওপর অর্জিত সুদের বিপরীতে ১০ শতাংশ কর দিতে হয়। এ ছাড়া বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হারের যে স্তর চালু করা হয়েছে, তাতে নতুন বিনিয়োগে বিমুখ হয়েছেন অনেকেই।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে দেশে ৯.৮১ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে পড়ে সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন একশ্রেণির বিনিয়োগকারী। আবার কর কাটার পর যা পাচ্ছেন, মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় তাতে লাভ খুঁজে পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। আইএমএফের পরামর্শে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়ানো হয়েছে। সে জন্য অনেকেই সঞ্চয়পত্র ভেঙে উচ্চ সুদে ব্যাংকে আমানত রাখছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

অর্থনীতিবিদরা বলেন, মানুষের বাড়তি সঞ্চয় কমেছে। মূল্যস্ফীতির চাপে তারা বাধ্য হয়ে সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকে আমানতের সুদের হার যখন বাড়ছে, তখন সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের জন্য অনীহা দেখা দিয়েছে। ব্যাংকের সুদের হার যখন ৬ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত ছিল, তখন সঞ্চয়পত্রের সুদ ছিল গড়ে ১১ শতাংশ। ব্যাংকের আমানতের সুদের হার বেশি হলে সঞ্চয়পত্রে মানুষের বিনিয়োগ কমবেই। ফলে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিতে প্রভাব পড়ছে।
 

পাঠকের মতামত

ভালইতো। সরকারের ঋণ কমছে। সুদ কমছে। মানুষও সুদ খাওয়া কমাচ্ছে।

মজলুম বনি আদম
২১ এপ্রিল ২০২৪, রবিবার, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status