ঢাকা, ৪ মার্চ ২০২৪, সোমবার, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২২ শাবান ১৪৪৫ হিঃ

শেষের পাতা

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ দেখা যাচ্ছে না- টিআইবি

স্টাফ রিপোর্টার
১ ডিসেম্বর ২০২৩, শুক্রবার
mzamin

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনও অংশগ্রহণমূলক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এমন নির্বাচনের ওপর জনগণের আস্থা নিশ্চিত করা অসম্ভব বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল গণতন্ত্র, সুশাসন ও শুদ্ধাচার চর্চার রাজনৈতিক অঙ্গীকার বিষয়ে সুপারিশমালা উপস্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চর্চার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে গণতন্ত্র, সুশাসন ও শুদ্ধাচার নিশ্চিতে ৭৬টি সুপারিশ করেছে টিআইবি।

সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুষ্ঠু, দলীয় প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষভাবে সংসদীয় ও সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকালে দলীয় প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগের বিধান; সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের জন্য সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে নিজ দলের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ও বাজেট ব্যতীত অন্যান্য আইন প্রণয়নসহ অন্য সকল ক্ষেত্রে সদস্যদের নিজ দল সম্পর্কে সমালোচনা ও দলের বিপক্ষে ভোট দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি, বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাধীনভাবে পরিচালনার জন্য বিচার বিভাগের নিজস্ব সচিবালয় স্থাপন, অধস্তন আদালতের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসহ সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান এককভাবে সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয়ের ওপর ন্যস্ত করা, শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুমসহ সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ক্ষেত্রে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে এখতিয়ার প্রদান; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে আধুনিকায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে যুগপোযোগী পুলিশ আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহের সদস্যদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুলিশ কর্তৃপক্ষের বাইরে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা ইত্যাদি।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ও পরবর্তী সময় পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ ধারণা আমাদের হয়েছে- অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে আমরা যা বুঝি, তা এবারো পাওয়া যাচ্ছে না। এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। ভোটের অধিকারভিত্তিক নির্বাচন প্রতিষ্ঠা করা এবং এই নির্বাচনের ওপর জনআস্থা নিশ্চিত করাও অসম্ভব বলে আমরা মনে করি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অর্ধশতাব্দী ধরে আমরা আসনভিত্তিক সংসদীয় ব্যবস্থার চর্চা করছি। এখন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদীয় ব্যবস্থার চর্চা করার সময় এসেছে। সংসদীয় ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে প্রয়োজন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। এজন্য নির্বাচনকালীন সরকার এবং অন্যান্য সকল অংশীজন বিশেষ করে প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত ও দলীয় প্রভাবমুক্ত ভূমিকা প্রয়োজন, যা নিশ্চিত করতে আইনি সংস্কার জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান। সংবাদ সম্মেলনে সুপারিশটি উপস্থাপনা করেন টিআইবি’র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট কাওসার আহমেদ।

 

বিজ্ঞাপন

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2023
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status