ঢাকা, ২২ জুন ২০২৪, শনিবার, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

অনলাইন

জাতিসংঘের সতর্কবার্তা : 'খাদ্য সংকটের হটস্পট' পাকিস্তান-আফগানিস্তান

মানবজমিন ডিজিটাল

(১ বছর আগে) ৫ জুন ২০২৩, সোমবার, ৯:৪৩ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৫:৫১ অপরাহ্ন

mzamin

জাতিসংঘের দুটি সংস্থা ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (FAO) এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (WFP) পাকিস্তানে তীব্র খাদ্য সংকটের পূর্বাভাস দিয়েছে। দেশে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট আরও খারাপ হলে আগামী মাসগুলিতে বিপদ আরো বাড়তে পারে। খামা প্রেসের  রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে ''খাদ্য সংকটের হটস্পট" হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।খামা প্রেস রিপোর্টে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক নোমান হোসেন বলেছেন, জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত FAO এবং WFP  দ্বারা যৌথভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে WFP বলেছে, "পাকিস্তান, মধ্য আফ্রিকা, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এবং সিরিয়ার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এই প্রতিবেদনে মিয়ানমারকেও সতর্ক করা হয়েছে।" বলা হয়েছে: "এই সমস্ত হটস্পটে উচ্চ সংখ্যক লোক গুরুতর তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। যা আগামী মাসগুলিতে অসংখ্য জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।'' রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আর্থিক বেলআউট গত সাত মাস ধরে বিলম্বিত হয়েছে। পাকিস্তানকে আগামী তিন বছরে ৭৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে হবে। তবে দুর্ভিক্ষের মুখে দাঁড়িয়েও পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাসী অর্থমন্ত্রী ইশাক দার বলছেন, দেশের অর্থনীতির হাল ফেরাতে সবচেয়ে কঠিন কাজগুলি ইতিমধ্যেই সেরে ফেলা হয়েছে। তবে তার সুফল পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যদিও রিপোর্ট মোতাবেক, ''দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ২০২৩ সালের অক্টোবরে নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সঙ্কট এবং নাগরিক অস্থিরতা আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈদেশিক রিজার্ভের ঘাটতি এবং মুদ্রার অবমূল্যায়ন দেশটির আমদানি করার ক্ষমতা হ্রাস করছে। অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যদ্রব্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশব্যাপী জ্বালানি ঘাটতি দেখা দিয়েছে।" খামা প্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের ৮.৫ মিলিয়নেরও বেশি লোক ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হতে পারে।

বিজ্ঞাপন
আফগানিস্তানের ৭০শতাংশ মানুষ দিনে দুবেলা সঠিক খাবার পায় না।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট পরিবারের ক্রয় ক্ষমতা এবং খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার ক্ষমতা হ্রাস করছে। তালেবান২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল  করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। এদিকে, আইন প্রণেতা, বিচার বিভাগ এবং সেনাবাহিনী একে অপরের সাথে সংঘর্ষ অব্যাহত রাখার কারণে পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতা অর্থনীতিকে আরও খারাপ করেছে।দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে, পাকিস্তানের বন্দরে নোঙর করা জাহাজে খাদ্য আমদানি  করার জন্য অর্থ নেই। এতে গমের মতো মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। খামা প্রেস দ্য ডিপ্লোম্যাট জার্নালের বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদনে বলেছে, গত মার্চ-এপ্রিল মাসে, পাকিস্তান সরকার ক্রমবর্ধমান মূল্য বৃদ্ধির  মধ্যে লোকেদের বোঝা কমানোর জন্য বিনামূল্যে ময়দা সরবরাহ করার জন্য সারা দেশে বিতরণ সাইট স্থাপন করেছিল। তবে এই উদ্যোগটি বেশ কয়েকটি জায়গায় সমস্যা সৃষ্টি করেছে যেখানে মানুষ খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে পদদলিত হয়েছে, নিহত ও আহত হয়েছে। বেলুচিস্তান প্রদেশের গোয়াদরের একজন উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ মারিয়াম সুলেমান আনিস লিখছেন, "পাকিস্তানিরা আটার বস্তা সংগ্রহ করতে গিয়ে  তাদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।'' খামা প্রেসের কাছে মরিয়ম সুলেমান আনিস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন "CPEC-এর মাধ্যমে প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে, চীনের ঋণ পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে। কিন্তু CPEC ঋণ পাকিস্তানের অর্থনীতিকে উদ্ধার করবে নাকি পাঁকে ফেলবে  তা বলা এখনই খুব কঠিন''।

সূত্র : এনডিটিভি

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

অনলাইন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status