ঢাকা, ১৪ জুলাই ২০২৪, রবিবার, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৭ মহরম ১৪৪৬ হিঃ

প্রথম পাতা

হামলা সংঘর্ষ বাড়ছে

স্টাফ রিপোর্টার
২৮ মে ২০২৩, রবিবারmzamin

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিতে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে। গত কয়েকদিনের কর্মসূচিতে এমন ঘটনা ঘটছে আগের চেয়ে বেশি। সম্প্রতি বিভাগীয় শহর ও জেলায় জেলায় জনসমাবেশ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। পাশাপাশি সমমনা দল ও জোটও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করছে। এসব কর্মসূচি ঘিরে বিভিন্ন স্থানে হামলা, সংঘর্ষ, বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটছে। কোথাও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি’র সংঘর্ষ হচ্ছে। আবার কোথাও ছাত্রলীগ-যুবলীগ বিএনপি’র কর্মসূচিতে হামলা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতার গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। হামলায় কেন্দ্রীয় নেত্রী নিপুন রায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এসব হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় মামলাও হয়েছে বিভিন্ন স্থানে।

বিজ্ঞাপন
এতে বিএনপি’র কয়েক হাজার নেতাকর্মী আসামি হয়েছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অনেককে। সর্বশেষ গতকাল নাটোরে পুলিশি বাধা এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে প্রধান অতিথির বক্তব্য ছাড়াই শেষ হয় বিএনপি’র প্রতিবাদ সমাবেশ। এ ছাড়াও বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে শান্তি সমাবেশ করে জেলা আওয়ামী লীগ। এর আগে বিএনপি অফিসের সামনে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। দু’টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। সমাবেশে বিএনপিকে নাটোরের মাটিতে আর কোনো সভা-সমাবেশ করতে না দেয়ার ঘোষণা দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান। এদিকে বিএনপি’র সমাবেশে আসার সময় দলীয় নেতাকর্মীদের উপর পথে পথে হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

গত শুক্রবার ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে জেলা বিএনপি’র সমাবেশকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরীসহ অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হন। এদিন বেলা ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা বাসস্ট্যান্ড রোডে এ সংঘর্ষ হয়। বিএনপি’র একটি মিছিল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে দু’পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দু’পক্ষের নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি করেন। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এতে নিপুন রায়সহ নেতাকর্মীরা আহত হন। এতে নিপুননসহ বিএনপি’র ৫ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ইতিমধ্যে ৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  

একইদিনে খাগড়াছড়িতে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এতে বিএনপি’র ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি’র সহ-দপ্তর সম্পাদক নিপু আহমেদ। খাগড়াছড়িতে বিএনপি’র জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় শহরের নারিকেল বাগান এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমএন আফছার জানান, গাড়িবহরযোগে আসার সময় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়।

গত ১৯শে মে খুলনায় সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ছোড়া ও লাঠিচার্জ করা হয়। এতে বিএনপি’র অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ ১০ জনকে আটক করে। এই ঘটনায় ১ হাজার ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। খুলনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খালিদ উদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। মহানগর সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনসহ ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

একইদিনে রংপুরে বিএনপি’র জনসমাবেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন আহত হন। বিএনপি’র সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশসহ বিএনপি’র ৭ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নগরীর প্রধান সড়কে সমাবেশ করে বিএনপি। এ সময় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসলে পুলিশ বাধা দেয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি’র ৭ নেতাকর্মী আহত হন। 

২০শে মে পটুয়াখালীতে জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সঙ্গে জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে বনানী মোড়ে ২ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে জেলা বিএনপি’র কার্যালয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বিএনপি’র দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে পটুয়াখালীতে জনসমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও সংঘর্ষের কারণে তা প- হয়ে যায়। 
একইদিন সকালে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা শহরে ‘শান্তি সমাবেশের’ মিছিল করেন। মিছিল নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের এসব সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপি’র সমাবেশস্থলের দিকে এগোলে পথে দু’পক্ষ মুখোমুখি হয়। এ সময় উভয়পক্ষই লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের কারণে বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় থেকে সিঙ্গারা পয়েন্ট পর্যন্ত পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় জেলা বিএনপি’র কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় একটি মোটরসাইকেলে। দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বাহাউদ্দিন বাহার জানান, এ সংঘর্ষে তাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

গত ২২শে মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে নেত্রকোনা জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে আওয়ামী লীগ। দুপুরে নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামছুর রহমান লিটনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ বিক্ষোভ মিছিল করে।  বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে আওয়ামী লীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা জেলা শহরের ছোটবাজার এলাকায় থাকা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুরসহ অগ্নিসংযোগ করে। নেত্রকোনা জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম হিলালী অভিযোগ করে বলেন, এইবার নিয়ে ৪০ বার নেত্রকোনা জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ।

২৩শে মে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় বিএনপি’র পূর্বনির্ধারিত পদযাত্রা কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। ভাঙচুর করা হয়েছে বিআরটিসি’র একটি দোতলা বাস ও একটি পুলিশ বক্স। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় বেশ কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে সাবেক সংসদ সদস্য শেখ রবিউল ইসলাম রবিসহ ১৫ থেকে ২০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয় বলে বিএনপি দাবি করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশের উপর বিএনপি নেতাকর্মীদের অতর্কিত হামলার ঘটনায় ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ধানমণ্ডি মডেল থানা ও নিউমার্কেট থানা পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি মডেল থানায় ২টি ও নিউমার্কেট থানায় ১টি মামলা রুজু হয়েছে। 

২৬শে মে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হন। বিএনপি জানায়, এতে তাদের দলীয় ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৬-৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। উভয়পক্ষ সংঘর্ষের সময় ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ১৬১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনিছুজ্জামান মামলাটি করেন। এতে ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

   

প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status