ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১১ শাবান ১৪৪৫ হিঃ

শরীর ও মন

ডায়াবেটিস রোগীদের ধূমপান বন্ধের জন্য গবেষণা

ধূমপানে আসক্ত ডায়াবেটিস রোগের জটিলতা-অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি

স্টাফ রিপোর্টার

(৮ মাস আগে) ২৩ মে ২০২৩, মঙ্গলবার, ৫:২১ অপরাহ্ন

mzamin

ধূমপান করেন তাদের ডায়াবেটিস রোগের জটিলতা এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে, যা একটি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা। সিগারেটের কারণে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষের টাইপ-২ ডায়বেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন  তারা। 

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে এসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট (এইস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা এসব তথ্য জানান। সংস্থাটি ডায়াবেটিক ধূমপায়ী রোগীদের মধ্যে ধূমপান ত্যাগের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে প্রস্তাবিত গবেষণার প্রচারণা কর্মশালা আয়োজন করে। “ডায়াবেটিস ও ধূমপান ত্যাগ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য গবেষণায় যা করা দরকার” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর সাবস্ট্যান্স ইউজ রিসার্চের (সিশুর) হেড অফ লনজিটিউডিনাল রিসার্চ ডা. ফারহানা হাসিন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) তথ্যমতে, সিগারেটের কারণে ৩০/৪০ শতাংশ মানুষের টাইপ-২ ডায়বেটিস দেখা দেয়। আর ডায়বেটিস হয়ে গেলেও যদি কেউ স্মুক করে, সেটি আরও ডেঞ্জারাস। আপনারা জানেন, ডায়বেটিস একটি মেটাবলিক ডিজঅর্ডার। এমন কোন অর্গান নেই যেখানে ডায়বেটিস প্রভাব ফেলে না। 

ডা. ফারহানা বলেন, বাংলাদেশ ডায়বেটিসে টপ টেন, যদিও স্মোকিং কমছে, তারপরও এখনও বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বেই তরুণ সমাজ হলো বার্নারেবল গ্রুপ।

নাটক-সিনেমায় ধূমপানের প্রচার বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, প্রতিটি সিনেমা-নাটকে এখন সিগারেটের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। যদিও স্ক্রিনের নিচের দিকে ছোট্ট একটা সতর্কীকরণ বার্তা দেয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
কিন্তু এই বার্তা কতোটা সতর্কতায় কাজ করবে, এটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বিপরীতে দৃশ্যগুলোতে যেভাবে সিগারেট খাওয়া দেখানো হয়, এতে করে বরং তরুণ-তরুণীরা সিগারেটকে একটা স্মার্টনেস হিসেবেই গ্রহণ করে। আমার মনে হয়, নাটক-সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্যগুলো দেখানো কতটুকু বিধি সম্মত বিষয়টি নিয়ে আরেকটু ভাবা উচিত।

বক্তারা বলেন, সারা বিশ্বের মানুষের জন্য বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ধূমপান একটি অন্যতম স্বাস্থ্য উদ্বেগ। এটি সার্বজনীন স্বীকৃত যে, অতিরিক্ত ধূমপান ডায়াবেটিস-সম্পর্কিত জটিলতা এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বব্যাপী শীর্ষ দশটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। ধূমপানের অনেক ক্ষতিকর প্রভাব ও জটিলতা থাকা সত্ত্বেও, ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে তামাকের ব্যবহার ও ধূমপানের হার অনেক বেশি। 

তারা বলেন, ধূমপান ত্যাগের খুব দ্রুত সময়ের মাঝেই ডায়াবেটিস রোগীদের দেহে ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব গুলো হ্রাস পেতে থাকে। তবে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালগুলোতে ধূমপায়ী ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষায়িত সেবা ও বিস্তারিত তথ্য প্রদানের সুযোগ নেই বললেই চলে। 

টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা ধূমপান করেন তাদের ডায়াবেটিস রোগের জটিলতা এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে, যা একটি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আলোচকরা শঙ্কা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের ধূমপায়ীদের জন্য ধূমপান বন্ধের একটি যথোপযুক্ত সমাধান বা গবেষণার পদ্ধতি তৈরী করা বর্তমান সময়ে খুবই জরুরি বলে মনে করছেন তারা। বক্তারা ভবিষ্যতে অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন, ক্যান্সার, হৃদরোগ, ফুসফুসের সমস্যা-এগুলোর জন্য উদ্ভাবনী গবেষণার যেসকল সুযোগ রয়েছে তার উপর আলোচনা  করেছেন। 

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই ডায়াবেটিস এবং ধূমপান বন্ধের প্রস্তাবিত প্রোটোকল তৈরির উদ্দেশ্য সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করেন এইসের নির্বাহী পরিচালক তানভীর হোসেন।

প্রসঙ্গত, এইস বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সাবস্ট্যান্স ইউজ রিসার্চ লিমিটেডের সম্মিলিতভাবে প্রস্তাবিত ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য “ইন্টারভেনশন টু অ্যাসেস দ্য লং টার্ম হেলথ ইফেক্টস অব স্মোকিং সেসেশন এমং টাইপ-২ ডায়াবেটিস উইথ স্মোকিং” শিরোনামের প্রোটোকল তৈরি করেছে। সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রস্তাবিত গবেষণার জন্য ক্লিনিক্যাল পার্টনার হিসেবে কাজ করছে এবং ফাউন্ডেশন ফর এ স্মোক-ফ্রি ওয়ার্ল্ড এই গবেষণা প্রোটোকল তৈরিতে সহায়তা প্রদান করেছে। দেশের ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের তামাক সেবনের ঝুঁকি কমানো এবং সহজতর বিকল্প উপাদানের সাহায্যে ধূমপানের হার ও ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর সম্ভাবনা যাচাই করা এই গবেষণার উদ্দেশ্য।

এইসের হেলথ স্পেশালিস্ট ডা. আস-সাবা হোসেন এর পরিচালনায় প্যানেলে অংশগ্রহণ করেন এনাম মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল এর পরিচালক শামস মো. এনাম এবং সিশুরের হেড অফ লনজিটিউডিনাল রিসার্চ ডা. ফারহানা হাসিন, স্টেইট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পাবলিক হেলথ বিভাগের প্রধান প্রফেসার ডক্টর হাসনাত এম আলমগীর এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফায়াজুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন এনাম মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের ডায়াবেটিস ও এন্ডোক্রাইনোলোজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. মো. শাহজামাল খান এবং এসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্টের হেড অব রিসার্চ আসিফ মঈনুর চৌধুরী।

শরীর ও মন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2023
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status