ঢাকা, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, বুধবার, ১১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ শাওয়াল ১৪৪৫ হিঃ

খেলা

ক্রিকইনফোর বর্ষসেরা মিরাজ-ইবাদত

স্পোর্টস রিপোর্টার
১৯ মার্চ ২০২৩, রবিবার
mzamin

গত বছর মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে বাংলাদেশের স্মরণীয় জয়ে দারুণ অবদান রেখেছিলেন ইবাদত হোসেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ২১ ওভার বল করে ৪৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ইবাদত।  বিদেশের মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের কোনো বোলারের এটাই সেরা বোলিং। গত জানুয়ারিতে উইজডেন সাময়িকীর রিভিউয়ে ২০২২ সালে ছেলেদের টেস্টে বছরের সেরা স্পেল হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল ইবাদতের সেই বোলিং। স্বীকৃতির এখানেই শেষ নয়। ‘ইএসপিএনক্রিকইনফো অ্যাওয়ার্ডস-২০২২’ ও গত বছর ছেলেদের টেস্টে সেরা বোলিং হিসেবে বেছে নিয়েছে ইবাদতের সেই স্পেলকে। গতকাল এ নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে ক্রিকইনফো। ভারতের বিপক্ষে গত বছর ওয়ানডে সিরিজে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ওই সিরিজে ব্যাট হাতে দলকে অসম্ভব জয় এনে দেন মিরাজ। প্রথম ম্যাচে তার অসাধারণ কীর্তির পর দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি করে অবিশ্বাস্য এক সেঞ্চুরি।

বিজ্ঞাপন
সে ম্যাচে ৬৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে এই টাইগার অলরাউন্ডার ২৭১ রানের বিশাল সংগ্রহ এনে দেন। এবার মিরাজের ওই ব্যাটিং নৈপুণ্যকেও স্বীকৃতি দিয়েছে ক্রিকইনফো। জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইটে মিরাজকে ২০২২ সালের বর্ষসেরা ওয়ানডে ব্যাটিং পারফরম্যান্সের পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছে। ইএসপিএনক্রিকইনফোর এই স্বীকৃতি পাওয়ার দৌড়ে ইবাদতের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বেশ কয়েকজন। গত বছর মার্চে লাহোর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পেসার প্যাট কামিন্সের ৫৬ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার সেই স্পেল। ৩ উইকেটে ২১৪ থেকে পাকিস্তান ২৬৮ রানে অলআউট হয়েছিল কামিন্সের আগুনে পুড়ে। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী নিউজিল্যান্ডের ম্যাট হেনরি।  গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের প্রথম দিনে নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৫ রানে অলআউট হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেটি হেনরির ২৩ রানে ৭ উইকেট নেয়ার বিধ্বংসী স্পেলের জন্য। কিন্তু ইবাদতকে তাঁরা ছাপিয়ে যেতে পারেননি। উইকেট নিয়ে ‘স্যালুট’ করে উদ্‌যাপনের জন্য খ্যাতি পাওয়া এ পেসারের  বোলিংকে সেরার খেতাব দিয়েছে ক্রিকইনফো। উইজডেনের ওয়েবসাইটে গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত সেই রিভিউয়ে ইবাদতকে নিয়ে লেখার শুরুটা ছিল এমন, ‘ইবাদত হোসেন দ্রুততম বোলার নন, সুইংও খুব বেশি নয়, আর উচ্চতাও ৬ ফুট না। কিন্তু কখনো কখনো এমন হয়, দুর্দান্ত একটি টেস্ট স্পেল করতে এসবের কোনোকিছুরই দরকার পড়ে না। কখনো কখনো জীবনে সবরকম অবিচার সহ্য করার পর পরিশ্রম ও ধৈর্যের ফল মেলে।’ আর ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে, ইবাদতের সেই স্পেলকে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলিং স্পেল বলা হয়েছে। কিছু তথ্য দিয়ে ক্রিকইনফো বুঝিয়ে দিয়েছে, ইবাদতের সেই স্পেলের গুরুত্ব কতটা। ২০১৩ সাল থেকে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে (১লা জানুয়ারি-৫ই জানুয়ারি) সেই টেস্টের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের কোনো ফাস্ট বোলার ৫ উইকেট পাননি। ইবাদতের সেই স্পেল দিয়ে খরাটি কাটে। আর মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের আগে এই সংস্করণে ইবাদতের বোলিং গড় ছিল ৮১.৫৪। সেই টেস্টের পর বোলিংগড় নেমে আসে ৫৬.৮৭তে। সেই টেস্টে বাংলাদেশের সব পেসার মিলে নিয়েছিলেন মোট ১৩ উইকেট। টেস্টে এক ম্যাচে বাংলাদেশের পেসারদের এটাই সেরা সাফল্য। সেখানে ইবাদতের নিজের অবদান ছিল ৭ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৭৫ রানে নিয়েছিলেন ১ উইকেট।  মিরাজ গতবছর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচে আট নম্বরে নেমে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলের জয়ে অবদান রেখেছিলেন। ৮৩ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এই সিরিজেই ডাবল সেঞ্চুরি (১৩১ বলে ২১০) করেন ইশান কিষাণ। সেই ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংসকে পেছনে ফেলে মিরাজের ইনিংসটি জিতে নিয়েছে ক্রিকইনফো’র বর্ষসেরা ওয়ানডে ইনিংসের পুরস্কার।

খেলা থেকে আরও পড়ুন

   

খেলা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status