ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, বুধবার, ২৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ রজব ১৪৪৪ হিঃ

অনলাইন

প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন ভারসাম্যহীন নারী, নার্স এনে প্রসব করালো পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার

(২ সপ্তাহ আগে) ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবার, ১:৩১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

mzamin

সোমবার রাত সাড়ে ৯টা। চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান মোড়ের অন্ধকার গলির এক জায়গা থেকে নারীকণ্ঠে ভেসে আসছিল গোঙানির শব্দ। অনেকেই পাশ কাটিয়ে গেছেন, কৌতূহলে আবার পথচারীদের কেউ কেউ উঁকি মেরেও দেখছিলেন। দু একজন খেয়াল করে দেখলেন, ওই নারী মূলত প্রসববেদনায় কাতরাচ্ছেন। সেই কাতরানি বাড়ছে মিনিটে মিনিটে। এমন দৃশ্য দেখে প্রান্ত নামের এক পথচারী জাতীয় জরুরি সহায়তা সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ঘটনাটি জানান।

ঢাকা ঘুরে সেই খবর চলে আসে জামালখান এলাকায় থাকা কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি টহল টিমের কাছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ওই টিম। উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা খেয়াল করে দেখেন, ওই নারী বাচ্চা প্রসবের শেষ মুহূর্তে অতিক্রম করছেন। রক্তপাত হচ্ছিল তার শরীর থেকে।

কাকতালীয়ভাবে পাশেই ছিল ‘ইনোভা’ নামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল। এসআই মোস্তফাসহ তার পাঁচ সদস্যের টিম দৌড়ে যান সেই হাসপাতালে।

বিজ্ঞাপন
বুঝিয়ে বলতেই জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামসহ নার্সরা দ্রুত পৌঁছে যান ‘বীর চট্টলা’ রেস্টুরেন্টের পাশের গলির সেই জায়গায়।

নার্সদের চেষ্টা, পথচারীদের উৎকণ্ঠা মাড়িয়ে এর মিনিট দশেকের মাথায় জামালখান মোড়ে রাস্তার ওপরে ওই নারীর গর্ভ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে ফুটফুটে এক নবজাতক ছেলে সন্তান। কিন্তু মায়ের অবস্থা তখন খুবই খারাপ। ‘ইনোভা’ নামের সেই বেসরকারি হাসপাতালে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো অবস্থা নেই। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দেয়। এরপর সেই অ্যাম্বুলেন্সে মা ও নবজাতককে নিয়ে এসআই মোস্তফা ও তার টহল টিম গেলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মা-ছেলে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জাহিদুল কবির মানবজমিনকে  বলেন, সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে  জামালখান মোড়স্থ ইনোভা হাসপাতালের পাশে রাস্তার উপর মানসিক ভারসাম্যহীন অন্তঃসত্ত্বা নারীর কান্না দেখে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ সংবাদ দিলে টিম কোতোয়ালী উক্ত স্থানে উপস্থিত হয়। ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীর চিৎকার ও কান্নাকাটিতে পরিবেশ থমথমে হয়ে যায়। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ মনে হওয়ায় এবং হাসপাতালে নেয়ার মতো উপক্রম না থাকায় পাশে থাকা ডাক্তার ও নার্সের খোঁজে ইনোভা হাসপাতালে ছুটে যায়। হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার ও নার্সদের এনে তাদের সহায়তায় প্রসব যন্ত্রণায় কাতর মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের বাচ্চা প্রসব করায়।  একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। ওই নারীর প্রচুর রক্তপাত হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে এম্বুলেন্স যোগে উক্ত নারীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায় এবং চিকিৎসা সংক্রান্তে যাবতীয় কার্যক্রমের দায়িত্ব নেন। বাচ্চা ও মা বর্তমানে সুস্থ আছে। এই ব্যাপারে হাসপাতালকে অবহিত করা হয়েছে। এভাবে বাংলাদেশ পুলিশের সকল ইউনিটের সদস্যগণ সার্বক্ষণিক অসহায় মানুষের পাশে থাকবে।

পাঠকের মতামত

পুলিশের মাঝে এখনো ৯৮% ভালো এবং মানবিক। বাকী ২% এই ৯৮% কে জিম্মি করে তাদের ইচ্ছে মত কাজ করিয়ে পুলিশকে বিতর্কিত করছে। জনগণের টাকায় পরিচালিত পুলিশ প্রশাসন জনগণের বন্ধূই হওয়া উচিত। এখন মানুষ পুলিশের দারস্থ হতে অন্তত ১০ বার চিন্তা করে।

জামশেদ পাটোয়ারী
২৪ জানুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবার, ৪:০১ পূর্বাহ্ন

একেই বলে মানবিক পুলিশ। সব পুলিশের যদি এমন সেবার মনোভাব থাকে তাহলে রাষ্ট্র সমাজ পরিবর্তন হতে বেশি সময় লাগে না। এস আই মোস্তফা সহ তার টিমকে পুরষ্কৃত করা উচিৎ বলে আমরা মনে করি।এতে পুলিশের মানবিক সহায়তার মনোভাব ও উৎসাহ আরও বৃদ্ধি পাবে।

Zaman
২৪ জানুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবার, ১:৩৯ পূর্বাহ্ন

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অনলাইন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status