ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবার, ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ রজব ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

যুগপৎ আন্দোলনের এক মাস

কম কর্মসূচি, বেশি সমাগমের কথা ভাবছে দলগুলো

নূরে আলম জিকু
২৪ জানুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবারmzamin

বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, একাদশ সংসদ বিলুপ্ত, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ ১০ দফা আদায়ে বিরোধী দলগুলোর যুগপৎ আন্দোলনের এক মাস পূর্ণ হয়েছে আজ। এই সময়ে বড় তিনটি কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। ঢাকাসহ সারা দেশে গণমিছিল, গণঅবস্থান, বিক্ষোভসহ সমাবেশে বড় সমাগম করেছে দলগুলোর নেতাকর্মীরা। দু’-একটি বিশৃঙ্খলা ছাড়া অনেকটাই শান্তিপূর্ণভাবে যুগপৎ আন্দোলন চলমান রয়েছে। যা সরকার পতনের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রাথমিক প্রস্তুতি বলে মনে করছেন নেতারা। বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতারা বলছেন, সরকারবিরোধী দলগুলো  শিগ্‌গিরই লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে  চূড়ান্ত আন্দোলনের ঘোষণা  দেবে। এর আগে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সক্রিয়তা বৃদ্ধি করা ও দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা নিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। গত একমাসে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষিত তিনটি কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীর আন্দোলন আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন নেতারা। যুগপৎ আন্দোলনের এই এক মাসে কিছু ক্ষেত্র সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করেছেন সমমনা কিছু দলের নেতা। এছাড়া সাত দলের সমন্বয়ে গঠিত গণতন্ত্র মঞ্চের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হওয়ায় নেতাদের কেউ কেউ বিব্রত বোধ করছেন।

বিজ্ঞাপন
এছাড়া যেসব দলকে নিয়ে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি তাদের অনেকের জনবল ও কর্মসূচি পালনের সক্ষমতার বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন বিএনপি নেতারা। এসব দল বা জোটের ঘন ঘন কর্মসূচি পালনের সক্ষমতা কম থাকায় সামনে কর্মসূচি কমিয়ে দিয়ে বেশি লোক সমাগমের চিন্তা করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। নেতারা বলছেন, কাছাকাছি কর্মসূচি না দিয়ে সময় ও প্রস্তুতি নিয়ে কর্মসূচি পালন করলে উপস্থিতি বেশি হবে এবং এতে সরকারের প্রতি চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছেন তারা। বিএনপি নেতারা বলছেন, এক মাসে যেসব সমস্যা চিহ্নিত করা গেছে তা সমাধানে সামনে চেষ্টা করা হবে। বিএনপি’র নেতারা বলছেন, যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচিতে ঢাকা ও সারাদেশের সাধারণ মানুষ সম্পৃক্ত হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের কর্মসূচি উপস্থিতি আরও বেশি হতে পারতো। আগামীকাল ২৫শে জানুয়ারি যুগপৎ আন্দোলনে চতুর্থ ধাপের কর্মসূচি পালিত হবে। এই কর্মসূচি থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা হতে পারে মনে করছেন তারা। এদিনের কর্মসূচিতে ব্যাপক লোক সমাগমের নির্দেশনা রয়েছে।

গত বছরের ১০ই ডিসেম্বর ঢাকার গোলাপবাগ মাঠে বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে ১০ দফা ঘোষণা করেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ২৪শে ডিসেম্বর একযোগে সারা দেশে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে গণমিছিল কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। সেদিন  আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন থাকায় ঢাকায় কর্মসূচি পিছিয়ে ৩০শে ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। তবে যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি ২৪শে ডিসেম্বর শুরু হয়। ঢাকা ও রংপুর মহানগর ছাড়া সারা দেশে গণমিছিলে অংশ নেয় বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীরা। সেদিন কয়েকটি স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এতে আবদুর রশিদ নামে পঞ্চগড়ে একজন বিএনপি নেতা নিহত হন। ৩০শে ডিসেম্বর ঢাকার গণমিছিলে লাখো মানুষের সমাগম ঘটায় বিএনপি। রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে নয়াপল্টন, কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক ও মগবাজার মোড় পুরো সড়কে জনতার ঢল নামে। বেলা ৩টা থেকে গণমিছিল চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে জামায়াত, এলডিপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, ১২ দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটসহ সরকার বিরোধী দলগুলো ঢাকায় পৃথক পৃথক স্থানে গণমিছিল করে। 

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, সরকার পতনসহ  ১০ দফা দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলমান রয়েছে। শুরু থেকে আমরা যে গতিতে আন্দোলন করছি এখনো সেই গতি রয়েছে। এতে আমাদের নেতা-কর্মী ও জনগণের যে উৎসাহ  এবং তাদের অংশগ্রহণের যে উৎসাহ তাতে আমরা আরও আশাবাদী  হয়েছি। 

যুগপৎ আন্দোলনের থাকা এলডিপি’র প্রেসিডেন্ট কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমেদ বীরবিক্রম মানবজমিনকে বলেন, আমরা যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে আন্দোলন করছি তা একদিনে সফল হওয়া সম্ভব নয়। আন্দোলনের গতি ও কমেনি। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী মাঝে-মধ্যে আন্দোলনের ধরন,  কৌশলের পরিবর্তন হয়।  নিয়মতান্ত্রিকভাবে যুগপৎ আন্দোলন যেভাবে হওয়ার কথা সেভাবেই হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি গত ছয় মাস ধরে সরকার বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আন্দোলন নিয়ে কাজ করছে। তবে সমপ্রতি যে যুগপৎ আন্দোলন চলছে, তাতে ছোট দলগুলোর পক্ষে এই প্রোগ্রামগুলো চলমান রাখা  খুবই কঠিন। তারপরও আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে  চলার চেষ্টা করছি।
গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক দল নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মানবজমিনকে বলেন, এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আমরা যে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করতে পেরেছি এটাই আমাদের বড় অর্জন। মানুষের মধ্যে আন্দোলনের  সাড়া পড়েছে। এদেশের জনগণ এ সরকারের পতন চায়। যুগপৎ আন্দোলনের নামে আমরা যে দাবিগুলো করেছি, তা এদেশের জনগণের দাবি। আমরা ব্যাপক জনসমর্থন পাচ্ছি। আমাদের এই আন্দোলনকে সামনের দিকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম-র‌্যালি এগুলো তো বিরোধী দলের সাংবিধানিক অধিকার। সেটা তারা করবে এবং এটা যদি তাদের করতে না দেওয়া হয় তাহলে তারা সোচ্চার হবেন। বিরোধীদের অহিংস কর্মসূচি পালনের ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ। তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে এটি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে আন্দোলনে থাকা দলগুলোর আদর্শগত তফাৎ আছে। তারা কীভাবে ঐক্য ধরে রাখে- এটাই দেখার বিষয়।

পাঠকের মতামত

অবৈধ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দানবীয় সরকার পতনে বিএনপির আন্দোলনকে লক্ষ্যবস্তুতে নিতে হলে বিএনপিকে আরো বেশি বিচক্ষণ বিদগ্ধ কৌশলী গতিশীল ভূমিকা নিতে হবে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার শরীরে রক্ত থাকতে ক্ষমতা ছাড়বে না। প্রয়োজনে জেল জুলুম অত্যাচার নিপীড়ণ নির্যাতনের ভয়াবহ রক্তগঙ্গা বইয়ে দিবে মরণ কামড় দিবে আন্দোলনরত দল সংগঠন ব্যক্তির উপর সেই নির্মম সত্যকে স্বীকার করেই বিএনপির উচিত হবে আন্দেোলনের পরীক্ষিত সঙ্গী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহ যত সরকার বিরোধি দল সংগঠন আছে সবার সাথে সৌহার্দ্য সহমর্মীতা রক্ষা করে ছোট বড় সব শক্তির সম্মিলিত সমন্বয় সাধন করে আন্দোলনের গতি তীব্র থেকে তীব্রতর করা এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও দল চিহ্নিত করে তাদের থেকে সাবধান থাকা নয়তো আন্দোলনের আগুনে ঘী নয় কেউ কেউ পানিও ঢেলে দিতে পারে। আর আন্দোলন বিমূখ দলগুলিকে চিহ্নিত করে তাদের পূর্বাপর স্বরূপ উদ্ঘাটন সহ আওয়ামী দোসর হিসাবে তাদের জনগণের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। তাহলেই আন্দোলন শানিত হবে তীক্ষ্ন থেকে তীক্ষ্নতর হবে।

আলমগীর
২৪ জানুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবার, ১:২৪ পূর্বাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status