ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, বুধবার, ২৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ রজব ১৪৪৪ হিঃ

শেষের পাতা

স্থানীয় রাজনীতির হালচাল- ৬

জামালপুরে আত্মবিশ্বাসী আ.লীগ পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি

জামালপুর প্রতিনিধি
২৮ নভেম্বর ২০২২, সোমবারmzamin

ঘনিয়ে আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নেমেছে দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। জামালপুর জেলাও এর ব্যতিক্রম নয়। একদল ক্ষমতা ধরে  রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ  আর একদল পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া।  জামালপুর আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। ১৯৭০ সাল থেকে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় এই জেলার অতীত ইতিহাস তাই বলে। বিশেষ করে ৯১ পরবর্তী সব নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ে দলের নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে জেলার ৭ হাজার ৩৬১টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলাকে ৮টি সাংগঠনিক উপজেলা হিসেবে ভাগ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭টি উপজেলা এবং ১টি পৌরসভা। কিন্তু এত প্রস্তুতি আর উন্নয়নের তকমায় বাহ্যিক দৃষ্টিতে দলের সুবিধাভোগী নেতাদের সন্তুষ্টি এনে দিতে সক্ষম হলেও সুবিধাবঞ্চিত নেতাকর্মীদের সংখ্যাও অনেক বেশি।

বিজ্ঞাপন
আর দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের লোডশেডিং, বিগত  নির্বাচনগুলোতে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া, চলমান প্রকল্পগুলোর দীর্ঘ সময় নিয়ে বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঠিকাদারের সমঝোতার মাধ্যমে নিম্নমানের  কার্য সম্পাদন  অথবা দলীয় প্রভাবের মাধ্যমে নিম্নমানের কাজ সম্পূর্ণ  করা, ফলে কোটি কোটি টাকার রাস্তা-ঘাট বছর না যেতেই চলাচলের  অনুপযোগী হয়ে পড়া, আবার একই জায়গায় নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা- এ যেন অনিয়মের মহোৎসব চলছে। এভাবেই জনগণের কষ্টার্জিত টাকা সুবিধাভোগীদের পকেটে চলে যাচ্ছে। 

দলের নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন যেমন হচ্ছে না আর বিভিন্ন সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছে। আর কিছু  উপজেলয় দলীয় কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় তাদের সাংগঠনিক ঐক্যকে অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।  অপরদিকে বর্তমানে বিএনপি’র অবস্থা আগের চেয়ে অনেক সুসংগঠিত। বিশেষ করে শত বাধা পেরিয়ে গণসমাবেশগুলো বিশাল নেতাকর্মীর উপস্থিতির মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় তাদের মনোবল অনেক বেড়ে গেছে। জামালপুর জেলা বিএনপি’র কার্যালয় এখন নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মুখরিত। কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাহসী পদক্ষেপে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সকল কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়  কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।  কিন্তু বাস্তবিক অর্থে দলটির প্রায় সকল কর্মসূচি পালিত হয় জামালপুর স্টেশনরোডস্থ দলীয় কার্যালয় কেন্দ্রিক। প্রতিটি কর্মসূচিতে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে দলীয় উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে। নেতাকর্মীদের অভিযোগ পুলিশ আমাদের কর্মসূচিতে সবসময় বাঁধার সৃষ্টি করে, তারা আমাদের মিছিল করতে দেয় না। তারা জনগণের সেবক হয়েও প্রকৃত সেবা করছে সরকারের নির্দেশে বিএনপিকে দমন-পীড়নের।

  ইতিমধ্যেই প্রত্যেক উপজেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে আহ্বায়ক অথবা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা কমিটির মাধ্যমে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনও ইতিমধ্যে হয়েছে। তবে জেলা  বিএনপি’র রাজনীতির সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ হলো মাদারগঞ্জ উপজেলা, কারণ ১৯৯১ সালের নির্বাচন থেকে প্রতিটি নির্বাচনে  আওয়ামী লীগের প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম প্রতিটি নির্বাচনে  বিজয়ী  হয়ে  নিজের এবং দলীয় অবস্থানকে সুসংহত  করতে সক্ষম হয়েছেন। আর মীর্জা আজমের  নিজের জন্মস্থানে বিএনপি’র রাজনীতিকে সুসংগঠিত করা  বাস্তবিক অর্থে অনেক  কঠিনই বলা যায়।  তাই  বিএনপি এখানে খুব হিসাব করে মাঠ গোছাচ্ছে। এ ব্যাপারে মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক এডভোকেট মঞ্জুরুল কাদের বাবুল বলেন, আমাদের  এখানে দলীয় কার্যালয় না থাকলেও আমরা থেমে নেই। বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও দলীয় কর্মসূচি আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। কিছুদিন আগে ও আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগের  সন্ত্রাসীরা। এরইমধ্যে আমরা ৭টি ইউনিয়নের ৬টিতে সম্মেলন করে কমিটি গঠন করেছি। দলের  অবস্থা  আগের  চেয়ে  অনেক  ভালো এবং প্রচুর  জনসমর্থন থাকায় আমরা সামনের নির্বাচনে জয়লাভ  করব ইনশাআল্লাহ।   জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জামালপুর জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এডভোকেট বাকী বিল্লাহ্‌ বলেন, এই বছরে জেলা আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ হবে।

 আশা করি সফলভাবে সম্মেলন শেষ করে আমরা আরও শক্তিশালী দলে পরিণত হবো। তারপরে ও আমরা ১ বছর সময় পাবো নির্বাচনী মাঠ গোছাতে।  জামালপুর পৌরসভার দুই বারের ১নং প্যানেল মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সৎ ও পরিশ্রমী নেতা ফজলুল হক আকন্দ বলেন, আমরা জামালপুরের উন্নয়নের রোল মডেল মির্জা আজমকে পেয়েছি আমাদের অভিভাবক হিসেবে। যার নেতৃত্বে আমাদের বিজয় ঠেকাতে কেউ পারবে না।  জামালপুর জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, এই সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত প্রত্যেকটি নির্বাচন জনগণকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। একের পর এক বিভিন্ন কায়দায় মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের বাকশালি  আচরণকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে।  জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এহসানুল হক রুমেল বলেন, আমরা এই সরকারের  পতন ঘটাতে ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। জনগণ এই ভোটচোরদের পতনের জন্য  আমাদের সঙ্গে আছে। 

জেলা বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, জেলার প্রায় ৫ হাজার নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা চলমান আছে। মামলা-হামলা করে আমাদের আন্দোলন কেউ  ঠেকাতে পারবে  না। জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, জাতীয় পার্টির এখন আগের চেয়ে অনেক সুসংহত ও সুসংগঠিত। জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উন্নয়ন কাজগুলো এখনো মানুষ মনে রেখেছে। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে দেশের মানুষ সবচেয়ে শান্তিতে বসবাস করেছে। ইতিমধ্যেই আমরা ব্যাপক নেতাকর্মী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের উপস্থিতিতে জামালপুরে জাতীয় পার্টির সফল সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। আমরা জামালপুর সদর এবং ইসলামপুর উপজেলায় বিজয় নিশ্চিত বলে মনে করি। অন্য উপজেলাগুলোতেও আমরা বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।


*ময়মনসিংহের রাজনীতি নিয়ে পড়ুন আগামীকাল

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status