ঢাকা, ৭ ডিসেম্বর ২০২২, বুধবার, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

তত্ত্বাবধায়কের ভূত মাথা থেকে নামান

স্টাফ রিপোর্টার
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবারmzamin

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চিন্তা মাথা থেকে নামিয়ে ফেলতে বিএনপি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেন, ফখরুল সাহেব তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূত মাথা থেকে নামান। সোজা কথা সোজা পথে আসুন, নির্বাচনে আসুন। পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও নির্বাচন হবে। গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন করবে। সরকারের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাও নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। সরকার না থাকলে কারা চালাবে দেশ? বিএনপি’র উদ্দেশ্যে বলেন, তারা বিভাগীয় সমাবেশ করবে, আবার ডিসেম্বরে অবরোধ। এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আগের অবরোধ তোলে নাই, এখন আবার অবরোধ! আমি বললাম আগের অবরোধ প্রত্যাহার না করে নতুন করে আবার অবরোধ কেন? এটা ফখরুল ইসলামকে প্রশ্ন করেন।

বিজ্ঞাপন
তারা কেন এটা করবেন। কেন এটা করতে যাচ্ছেন। বিএনপি’র আন্দোলনের কর্মসূচির জবাবে তিনি বলেন, কতো গণআন্দোলন করলেন। 

এখন বলছেন গণআন্দোলন করবেন। ১৩ বছর চলে গেল দেখতে দেখতে, আন্দোলন হবে কোন বছর? ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি’র আন্দোলনের হাঁকডাকে আওয়ামী লীগ ভীত, সেরকম উদ্ভট চিন্তা কেউ করে না। আসেন মাঠে আসেন। লাঠি নিয়ে আসলে খবর আছে। জাতীয় পতাকার সঙ্গে লাঠি এটা আমরা মেনে নিতে পারবো না। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা আমরা মেনে নেবো না। আওয়ামী লীগ সতর্ক অবস্থায় আছে, সক্রিয় আছে। সতর্ক অবস্থায় সংযমী হয়ে আমরা থাকবো। আন্দোলনের ভয় আওয়ামী লীগকে দেখাবেন না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে অনুরোধ রইলো- এত অর্জন, এত উন্নয়ন শেখ হাসিনার দু’চার জনের অপকর্মের জন্য যেন ম্লান না হয়। পরিষ্কার বলে দিতে চাই, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের পরিচয়ে যারাই অপকর্ম করবে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। 

কোনো অপরাধীকে আওয়ামী লীগ ছাড় দেবে না। অপকর্মকারীদের জন্য সাফল্য ম্লান হতে পারে না। স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেজবাউল হক সাচ্চুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লাকী ইনাম, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ডা. সাইফুদ্দিন আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ২৮শে সেপ্টেম্বর ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে যেসব নবজাতক জন্মগ্রহণ করে তাদেরকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেয়া হয়।

পাঠকের মতামত

আওয়ামী-জামায়াত ৯৬ এ তত্তাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং মানুষের জানমালের উপর যে বিভীষিকা আর তান্ডব চালিয়েছিলো ভাবলে মানুষ এখনো শিউরে ওঠে। বিএনপি সে দাবি প্রথমে মানতে অস্বীকার করলেও পরে মেনে নিয়ে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্তাবধায়ক সরকারের বিল পাশ করে। তারপর ৯৬,২০০১,২০০৮ এ কিছু সমালোচনা ব্যতীত সবার কাছে গ্রহণযোগ্য তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে একবার বিএনপি দুইবার আওয়ামীলিগ সরকার গঠন করে। কিন্তু ২০০৮ এ ক্ষমতা পেয়েই আওয়ামীলিগ চরম বেপরোয়া উম্মাদ হয়ে ওঠে। সমস্ত জনগন,রাজনৈতিক দল,রাষ্ট্রের বিশিষ্ট নাগরিক কারও মতামতের তোয়াক্কা না করে এমনকি আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণে আরো তিনবার তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের সুপারিশকেও উপেক্ষা করে শুধুমাত্র একজনের আজীবন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার মনোবাসনা পূরণের স্বার্থেই তত্তাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে নতুন মোড়কে ৭৫ এর একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থায় ফিরে গিয়েছে। আজ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস। নির্বাচন নির্বাসনে। গনতন্ত্র, নাগরিক অধিকার, ভোটাধিকার সবই এখন র‍্যাব,পুলিশ আর ছাত্রলীগ যুবলীগের পায়ের তলায় পিষ্ট। আওয়ামিলীগ যে কত বড় স্বৈরাচারে পরিণত হয়েছে সেটা আওয়ামীলীগ নেতাদের আস্ফালন আর ঔদ্ধত্তপূর্ণ বক্তব্যেই ফুটে ওঠে। তারা প্রায় বলে আমরা আগামীতে শক্তিশালী বিরোধীদল চায়,আওয়ামিলীগ রাজপথ কাউকে ইজারা দেয়নি,এইযে তাদের আজীবন ক্ষমতায় থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তিশালী অথবা দুর্বল বিরোধী দল চাওয়া,রাষ্ট্রের রাজপথ মানুষ কি ভাবে ব্যবহার করবে সেটা তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর নির্ভর করবে, সর্বোপরি ভয়ংকর আওয়ামী রাজতন্ত্রের হাত থেকে মুক্তি পেতে তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিকল্প নেই সেটি যে নামেই হোক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

তত্ত্বাবধায়কের বিষয়ে ১৯৯৬ সালে বিএনপির কথার সাথে বর্তমানে আওয়ামী লীগের কথায় শতভাগ মিল পাওয়া যায়। অতএব নির্বচনে সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার বিকল্প নাই। আর সংবিধানের দোহাই দিয়ে লাভ নাই। কারণ জনগণের জন্য সংবিধান, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়। জাতির প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন হবে। সংবিধান কোনো দলের রক্ষাকবচ হিসাবে ব্যবহার হতে পারেনা।

মোঃ জহিরুল ইসলাম
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৬:২১ অপরাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status