ঢাকা, ৪ অক্টোবর ২০২২, মঙ্গলবার, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

শেষের পাতা

২০ লাখ টাকা লুট

সাবেক পুলিশ কনস্টেবল শাহীনসহ গ্রেপ্তার ৫

স্টাফ রিপোর্টার
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সোনা ব্যবসায়ীর ২০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল হোতা সাবেক পুলিশ কনস্টেবল গোলাম মোস্তফা শাহীন ওরফে পুলিশ শাহীন সহ ৫ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগ। শাহীন ছাড়াও গ্রেপ্তার অন্যরা হলো- মো. শাহাদৎ হোসেন, সাইদ মনির আল মাহমুদ, মো. রুবেল ইসলাম ও মো. জাকির হোসেন। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাডো গাড়ি, লুটকৃত ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, একটি ওয়াকিটকি, এক জোড়া হ্যান্ডকাফ, ২টি কালো ক’টি, একটি স্টিলের লাঠি, একটি হাতুড়ি, একটি প্লাস, একটি স্পার্কার (যা পিস্তল সাদৃশ্য) জব্দ করা হয়। বুধবার রাতে ঢাকার উত্তরা ও কলাবাগান এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।  ডিবি বলছে, গ্রেপ্তারকৃত এই চক্রের মূল হোতা শাহীন। তিনি পুলিশের কনস্টেবল ছিলেন। ২০০৮ সালে অনৈতিক কাজে তিনি চাকরি হারিয়ে ছিনতাই-ডাকাতি পেশায় লিপ্ত হন। 

তিনি এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। জেল থেকে বেরিয়ে ফের ছিনতাই-ডাকাতিতে লিপ্ত হতো। শাহীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২০টি মামলা রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। গ্রেপ্তার অন্যদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
 গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ১৫ দিন কাজ করে ডিবি’র রমনা বিভাগ এই চক্রটিকে গ্রেপ্তার করে। এই চক্রের মূল হোতা শাহীন কোনো একসময় পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি করতো। অনৈতিক কারণে চাকরি যাওয়ার পর থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই-ডাকাতি করে আসছে। চক্রটি ছিনতাই-ডাকাতিতে একটি প্রাডো গাড়ি ব্যবহার করতো। গাড়িটিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নেম প্লেট ব্যবহার করতো। আবার একই গাড়িতে বিভিন্ন ধরনের রঙ করিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে ছিনতাই-ডাকাতি করতো। ডিবি প্রধান হারুন বলেন, গত ৩রা সেপ্টেম্বর নিউ মার্কেটের সোনা ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন তাঁতীবাজার থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়ে পাঠাও মোটরসাইকেলে নিউ মার্কেটের উদ্দেশে রওয়ানা হয়।

 পথে দু’জন ডাকাত মোটরসাইকেলে ব্যবসায়ীকে অনুসরণ করে। মহিউদ্দিন বেলা ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের মূল প্রবেশ গেটের সামনে আসামাত্র ডাকাতরা জিপগাড়ি দিয়ে তার মোটরসাইকেল ব্যারিকেড দেয়। গাড়ির ভেতর থেকে ৩ জন ডাকাত নেমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোক পরিচয় দেয়। মোটরসাইকেল থেকে মহিউদ্দিনকে জাপটে ধরে গাড়িতে তুলে নেয়। গাড়ির ভেতরে নিয়ে মহিউদ্দিনকে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে চোখে-মুখে আঘাত করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর সঙ্গে থাকা ২০ লাখ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তার  হাত-পা ও চোখ বেঁধে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আব্দুল্লাহপুরে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে পরদিন শাহবাগ থানায় মামলা করেন। এরপর ডিবি রমনা বিভাগ এই মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে। তারা তথ্য-প্রযুক্তির ভিত্তিতে ডাকাত চক্রটি শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করে। অতিরিক্ত কমিশনার হারুন আরও বলেন, এই ২০ লাখ টাকার তদন্ত করতে গিয়ে অন্য একটি ডাকাত চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি’র রমনা বিভাগ।

 তারা হলেন- ইমরান হোসেন শাহীদ, হীরা ব্যাপারী, জাবেদ আহমেদ বাবু, আরিফ ইকবাল ও আবুল খায়ের রানা। তাদর কাছ থেকে ৪টি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি হাতুড়ি জব্দ করা হয়। বুধবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানার জোনাকি সুপার মার্কেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা ওই এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা সবাই সাবেক কনস্টেবল শাহীনের গ্রুপের সদস্য বলে স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা করা হয়েছে। এই ডাকাত চক্রের সঙ্গে আরও ৬/৭ জন রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পাঠকের মতামত

কাজি সাহেব কানাডা থেকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন "যাক প্রাক্তন পুলিশ ধরা পরেছে, বাংলাদেশ থেকে চুরি,ডাকাতি, ছিনতাইয়ের অবসান।অতএব তার প্রিয় আওয়ামী লীগ ভোট ছাড়াই ৪১সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবে। যখন আসল পুলিশ ও RAB,DB, SB ইত্যাদি বাহিনী নিয়মিত এই রকম চুরি ডাকাতি ছিনতাই,জোর করে গাড়ীতে তুলে নেয়া,গুম করা চালিয়ে যায়,তখন নকলেরা এই সুযোগ নেয়। আসলেরা এত বেশী এইসব কাজ করে যে, VICTIM নকলদের CHALLENGE করতে সাহস পায় না।যেমন " আসলরা" এই চালানের খবর পেলে নিজেরাই ACTION এ নেমে পড়তো। তারপর টাকা পয়সা কেড়ে নিয়ে জঙ্গি হিসাবে কোর্টে চালান। আর "কোর্ট সাহেব" YES SIR"বলে পুলিশের চালান বুঝে নেবেন।"কোর্ট সাহেবরা " এখন পুলিশ দফতরের অধীনে চাকুরী করেন।

Nasym
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন

অবশেষে সাবেক কনস্টেবল ধরা পড়ল । স্বভাব চোর অতীত চাকরির সম্মান রক্ষার কথা চিন্তা করেন নি । সমাজের মানুষের অধঃপতন দেখে আশ্চর্য হই।

Kazi
২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৬:২৫ অপরাহ্ন

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

শেষের পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status