ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯ সফর ১৪৪৪ হিঃ

মত-মতান্তর

ফ্রাইডে জার্নাল

নির্বাচন-আন্দোলনের ক্রসরোড, হিংসার ঝুঁকি, বৃটিশ রানী ও আকবর আলি খান

ড. মাহফুজ পারভেজ

(২ সপ্তাহ আগে) ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১২:১৯ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:২০ পূর্বাহ্ন

১. প্রায় তিন বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর সম্পন্ন হলো ৫ সেপ্টেম্বরে থেকে ৮ সেপ্টেম্বর। এর আগে ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর দিল্লি সফর করেন তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মেরুকরণের রাজনৈতিক গতিশীলতায় প্রধানমন্ত্রীর সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারত থেকে বাংলাদেশ ফেরার পরেই তাঁর নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে, যে সফরের আন্তর্জাতিক তাৎপর্য অনস্বীকার্য। 

এসব সফরের পর পরই  বাংলাদেশ ধীরে‌ ধীরে নির্বাচনের আবহাওয়ায় ঢুকে পড়বে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে। জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বের দিক থেকে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের বিষয়টিও নানা কারণে তাৎপর্যবাহী এবং সকলের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে। বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে সম্ভবত এটাই প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ ভারত সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২১ সালের মার্চে সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর করেন৷

২. নির্বাচনের আগে-পরে আন্দোলন, উত্তেজনা ও অস্থিরতা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশেই অতি পরিচিত ঘটনা। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে এরশাদের পতন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সাতটি। প্রতিটিতেই কমবেশি রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য, লড়াই ও সংঘাত হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে। ২০০১ সালের নির্বাচন ঘিরে নিহত হয়েছিলেন ৩৮ জন।

বিজ্ঞাপন
২০০৮ সালের নির্বাচনে অবশ্য কোনো ধরনের সহিংসতা হয়নি। নির্বাচনটি হয়েছিল সেনা সমর্থিত সরকারের অধীনে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিংসতায় সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল ২০১৩ সালে। বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য মতে, সেবার একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায় ঘিরে এবং বছরের শেষদিকে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও বিরোধী জোটের অবরোধ কর্মসূচির মতো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সারা বছরে ৫০৭ জন মারা যান। আর আহত হন ২২ হাজার ৪০৭ জন।

৩. জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবার উত্তাপ-উত্তেজনা দেখা দেবে– এমনটা কমবেশি আঁচ করতে পেরেছিলেন সবাই। কিন্তু সাম্প্রতিক বাস্তবতায় দেশের নানাস্থানে তা আগেভাগেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাজনৈতিক দ্বৈরথ ছাড়াও চাপের মুখে থাকা অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি এবং নানা সামাজিক, নাগরিক ইস্যুতে মাঠ গরম হওয়া প্রবণতাও এবার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাঠে যে শুধু বিএনপি একাই লড়ছে, তা নয়। সরকার ও তার সমর্থক জোটভুক্ত দলগুলো ছাড়া বাদবাকি দলগুলো দৃশ্যত বিরোধিতার কাতারে শামিল এবং আন্দোলনমুখর। এখন পর্যন্ত আন্দোলনকারী দলগুলোর দাবি নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে।

৪. আন্দোলন যত ব্যাপক ও তীব্র হচ্ছে, দমন-পীড়নের পাল্লাও তত বাড়ছে। হত্যা ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের সংখ্যাও ক্রমেই দেশব্যাপী স্ফীত হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া যায়, নির্বাচনের সময় যতই এগিয়ে আসবে রাজনৈতিক সহিংসতাও বাড়বে। তবে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সুরাহা করা সম্ভব হয়, তা হলে হয়ত এসব অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তপাত ও অস্থিতিশীলতা এড়ানো সম্ভব হতে পারে। কিন্তু প্রতিনিয়তই বিরোধ দলগুলোর 'হুঙ্কার'  এবং একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের 'বিরোধীদের রাজপথে মোকাবিলা করার হুমকি' পরিস্থিতি আরো উতপ্ত করছে। এ অবস্থায় নির্বাচন-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

৫. বস্তুতপক্ষে রাজনীতি এখন নির্বাচন ও আন্দোলনের ক্রসরোডে, সহিংসার ঝুঁকিতে আক্রান্ত। মসৃণ নির্বাচনের আলামত এখনো সুস্পষ্ট আকারে দৃশ্যমান হয়নি। এজন্য আলাপ-আলোচনা ও সংলাপই একমাত্র পথ। কিন্তু রাজনৈতিক মতপার্থক্য নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে অর্থবহ সংলাপের পথ এখনো পর্যন্ত উন্মুক্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিরিজ সংলাপ আদপে কোনো আশাই জাগাতে পারেনি। ইসি তাদের প্রতি সকলের বিশ্বাস ও আস্থা সৃজনে কতটুকু সফল হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। সদ্য প্রয়াত ইসি কমিশনার মাহবুব তালুকদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে যে আত্মসমীক্ষা ও আত্মসমালোচনার দর্পণ উন্মোচিত করেছিলেন, সে আয়নায় তাকিয়ে নিজেদের ত্রুটিগুলো শনাক্ত ও দূরীকরণের পথে হাঁটছে না ইসি। ফলে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির আদৌ কোনো উন্নতি হয়নি। রাজনীতির মাঠে হিংসায় কম্পমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন আর আন্দোলন দাঁড়িয়ে রয়েছে দূরবর্তী দুই মেরুতে।

৬. কিন্তু গণতন্ত্রে যেমনভাবে আন্দোলন, সংগ্রাম করা সত্য, তেমনিভাবে নির্বাচনও ধ্রুব সত্য। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনোই বিকল্প নেই। গণতন্ত্র নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় ও শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে ক্ষমতার পালাবদলে বিশ্বাসী, যার একমাত্র পূর্বশর্ত অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সেই নির্বাচনই যদি অনিশ্চিত কিংবা অধিকাংশ দল কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়, তাহলে গণতন্ত্রের চাকা সচল থাকতে পারে না। আর গণতন্ত্রের চাকা অচল হলে কেমন বিপদ ও বিশৃঙ্খলা হয়, তা অতীতের নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কমবেশি সকলেরই জানা। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা শুধু গণতন্ত্রের বিপদ ঘটায় না, অগণতান্ত্রিক শক্তিরও উত্থান ঘটায়।

৭. ফলে রাজনৈতিক সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতাকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দমনের চেষ্টাগুলো বুমেরাং হওয়ার আশঙ্কাই অধিক। এতে বরং আরো সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতার উদ্ভব হতে পারে। আস্থা, বিশ্বাস, সৌহার্দ্য দিয়ে এমন সঙ্কুল পরিস্থিতি থেকে ইতিবাচক উত্তরণই সুবিবেচনার কাজ। ক্ষমতা ও ক্ষমতার বাইরের সকল রাজনৈতিক শক্তির চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে কিংবা ক্ষমতায় আরোহণ করতে সচেষ্ট হওয়া। অবশ্যই আন্দোলন ও দাবি নিয়ে লড়াই চলবে। তবে তার পরিণতি আর গতিপথও সুনির্দিষ্ট থাকা জরুরি। তবে, দাবি ও আন্দোলনকে শক্তির বলে দমনের প্রতিক্রিয়ায় তা কোন দিকে চলে যায়, সেটাই উদ্বেগের। আন্দোলনকারীদের মতামত সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করে তাদেরকে একেবারে কোণঠাসা ও 'পয়েন্ট অব নো রিটার্ন' অবস্থায় ঠেলে দিলে উদ্ভূত পরিস্থিতি কারো জন্য সুখকর হবে না। কেউ তখন সেই উতপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণও করতে পারবে না।

৮. এসব আশঙ্কা ও ভীতি অমূলক নয়। কারণ, বলতে গেলে বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনই সর্বাংশে শান্তিপূর্ণ হয় নি। নির্বাচনের আগে ও পরে ব্যাপক সহিংসতা, রক্তপাত ও প্রাণহানি হয়েছে। অতীতের মতো সামনের দিনগুলোতেও আমরা রাজনীতির ময়দানে তেমন  সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা কামনা করতে পারি না। বরং সকল পক্ষকে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সঙ্কট মোচনে পারঙ্গমতা দেখাতে হবে। বহু বিঘ্ন ও বিপদ পেরিয়ে বাংলাদেশে যে গণতন্ত্র বিরাজমান রয়েছে, তাকে রক্ষা করা সকলেরই দায়িত্ব। কেননা, গণতন্ত্রকে অকার্যকর ও অচল করা যেমন বিপদের, একদলীয় ও স্বেচ্ছাচারী করাও ততোধিক বিপজ্জনক। 

৯. আধুনিক গণতন্ত্রের সূতিকাগার বৃটেনের শিক্ষাগুলো এক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের সামনেই দৃষ্টান্তমূলক। বৃটেনের 'ওয়েস্টমিনস্টার টাইপ' গণতন্ত্র বিশ্বের বহু দেশেই, পুরোপুরি পালন করা না হলেও, কাগজে কলমে অনুসৃত। বৃটিশ 'গণতন্ত্রের সৌন্দর্য' বা 'বিউটি অব ডেমোক্রেসি'র আলোকপ্রভা এখনো বিচ্ছুরিত। অসুস্থ রানী মৃত্যুর আগে আগে সেটা প্রমাণ করলেন। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকার প্রধানকে কালবিলম্ব না করেই বরণ করেন অশীতিপর রানী।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন নিয়মতান্ত্রিক সরকার প্রধানের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখেই মারা গেলেন বৃটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। দ্বিতীয় এলিজাবেথের বর্ণিল জীবনের অবসান হলেও তাঁর কর্ম ও কৃতিত্বের অবসান হয় নি। 

ইতিহাস সৃষ্টি করে সুদীর্ঘ ৭০ বছর সিংহাসনে থেকে ৯৬ বছর বয়সে জীবনাবসান হলো তাঁর। এমন রেকর্ড বিশ্বে আর কারো নেই। ভবিষ্যতেও হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অথচ  ক্ষমতায় বসারই কথা ছিল না তাঁর। আবার তিনিই ভেঙেছেন বৃটেনের রাজ ইতিহাস। ২০১৫ সালে ভিক্টোরিয়ার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তাঁর আগে এত দীর্ঘ সময় কেউ বৃটেনের সিংহাসনে ছিলেন না। বৃটেনের নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হিসাবে তাঁর শাসনামলে বৃটেনে প্রধানমন্ত্রী পদে বসেছেন ১৫ জন।

তাঁর মৃত্যুতে বৃটেনের রাজ-ঐতিহ্য যেন অনেকটাই ফিকে। তাঁর পর সিংহাসনের দাবিদার হয়েছেন তাঁর ছেলে যুবরাজ চার্লস। যদিও খাতাকলমে রাজ্যপাট থাকলেও বৃটেনের প্রশাসন পরিচালনা করে সে দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার। তবে নিয়মের ধারায় রাজপরিবারের সম্মান কখনো এতটুকুও কমেনি। রানি হিসাবে সম্মানের শিখরে ছিলেন দ্বিতীয় এলিজাবেথ। সিংহাসনে বসার পর থেকে বহু পরিবর্তন ও বহু ইতিহাসের সাক্ষী থেকেছেন তিনি। উপনিবেশ হারানো বৃটিশ সাম্রাজ্যকে পুনর্গঠনের পাশাপাশি আধুনিকায়নের মাধ্যমে দ্রুতগামী পৃথিবীর সঙ্গে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

সিংহাসনের ৭০ বছরেও তাঁর প্রতি মানুষের জনপ্রিয়তা এবং কৌতূহল কমেনি।  রাজপরিবারের মধ্যে তিনিই সবথেকে জনপ্রিয় ছিলেন। একজন রানি হলেও তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগী। রাজতন্ত্রের প্রতিনিধি রূপে তিনি গণতন্ত্রের ইতিহাসে যতটুকু উজ্জ্বল, অনেক তথাকথিত 'গণতান্ত্রিক নেতা'ও ততটুকু অর্জনে দীপ্তিমান হতে পারেন নি।

১০. ড. আকবর আলি খানের (১৯৪৪-২০২২) মৃত্যুতে অবসান হলো এক বর্ণাঢ্য জীবনের। আমলাতন্ত্রে এবং সিভিল সোসাইটিতে তিনি নীতি, নৈতিকতা ও সততার বিশিষ্টতায় দীপ্তিমান ছিলেন। তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি বাংলাদেশের নাগরিক সমাজকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রবাদতুল্য মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। একাধারে তিনি দক্ষ নীতিবান সরকারি কর্মকর্তা, ইতিহাস ও অর্থনীতির গবেষক, রাজনীতির নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক, সুলেখক, শিক্ষক, নাগরিক সংগঠক ও সমাজচিন্তক। 

ব্যক্তিগত আলাপকালে তিনি অনেকবার বলেছেন, "ইতিহাসের ছাত্র হয়েও আমার কর্মকালের অধিকাংশ সময় কেটেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে।" অর্থনীতি নিয়ে গ্রন্থও রচনা করেছিলেন 'পরার্থপরতার অর্থনীতি' নামে, যাতে তিনি সরস ও প্রাঞ্জল ভাষায় অর্থনীতির জটিল বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করেছেন।

আলি আকবর খানের গ্রন্থ ‘হিস্টোরি অফ বাংলাদেশ' বা বাংলাদেশের ইতিহাস’ এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত। বইটিতে তিনি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সামাজিক উত্থান ও পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করার পাশাপাশি দেশে ইসলাম ধর্মের বিকাশ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর গ্রন্থ Some Aspects of Peasant Behaviour in Bengal : A Neo-classical Analysis ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয় তার Discovery of Bangladesh বইটি ইতিহাস অন্বেষার অতুলনীয় নজির। তাঁর রচিত ’জীবনানন্দ দাশের কবিতা’ ২০১৪ সালে, যার বিষয়বস্তু বনলতা সেনসহ কবি জীবনানন্দ দাশের অনেকগুলো কবিতার আলোচনা। তিনি জনপ্রশাসন বিষয়ের উপর ইংরেজি ভাষায় "গ্রেশাম’স ল সিনড্রোম অ্যান্ড বিয়ন্ড, অ্যান অ্যানালাইসিস অব দ্য বাংলাদেশ ব্যুরোক্রেসি" নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

আকবর আলি খানের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল জ্ঞানের তৃষ্ণা ও গণতন্ত্রের প্রত্যাশা। তাঁর জীবনের পদে পদে তা প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর বইগুলো এবং বক্তৃতা-বিবৃতি তাঁর জীবনাদর্শের সাক্ষ্যদানকারী। 

ড. মাহফুজ পারভেজ, লেখক-বিশ্লেষক

মত-মতান্তর থেকে আরও পড়ুন

মত-মতান্তর থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status