ঢাকা, ৪ অক্টোবর ২০২২, মঙ্গলবার, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

দেশ বিদেশ

দিনে যাত্রী পরিবহন আর রাতে মহাসড়কে ডাকাতি

স্টাফ রিপোর্টার
১৪ আগস্ট ২০২২, রবিবার

চক্রের সদস্যরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত। দিনের বেলা তারা ওই পেশাতে সময় দিত। আর রাত হলে মহাসড়কে ডাকাতি করতো। ডাকাতির কাজে তারা ঢাকা-নরসিংদীতে চলাচলকারী যুব কল্যাণ এক্সপ্রেসের একটি বাস ব্যবহার করতো। বাসটি দিনের বেলা স্বাভাবিক ভাবে যাত্রী পরিবহন করতো। রাত হলে বাসটিকে ডাকাতির কাজে ব্যবহার করা হতো। দীর্ঘদিন ধরে তারা বাসে করে গভীর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ি ও মালামাল লুট করে আসছিল। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জে ২৫ হাজার ডিম বোঝাই একটি পিকআপ ডাকাতি করে র‌্যাব’র কাছে গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বাস ও দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা হয় সেই পিকআপটি।

বিজ্ঞাপন
চক্রের প্রধান মুসা আলীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব। গতকাল দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব’র গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- ডাকাতদলের সরদার মুসা আলী (৪০), নাঈম মিয়া (২৪), শামীম (৩৫), রনি (২৬), আবু সুফিয়ান (২০) ও মামুন (২৪)। তাদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতি, দু’টি চাইনিজ কুড়াল, একটি ছোরা ও একটি বাস জব্দ করা হয়। তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে রূপগঞ্জের ভূলতা গোলাকান্দাইল এশিয়ান হাইওয়েতে র‌্যাব-১১ এর একটি দল টহল দিচ্ছিল। এ সময় একটি ডিমবোঝাই পিকআপের সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে তাকে থামান র‌্যাব সদস্যরা। তখন পিকআপ থেকে দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়।

 আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের সক্রিয় সদস্য। তারা ডাকাতির উদ্দেশ্যে ‘যুব কল্যাণ এক্সপ্রেস লিমিটেড’র একটি বাস নিয়ে এশিয়ান হাইওয়েতে ডিমের পিকআপের পিছু নেয়। একপর্যায়ে ভূলতা-রূপসী সড়কে পিকআপটির সামনে গিয়ে বাস দিয়ে পথরোধ করে। এরপর পিকআপের চালক ও তার সহকারীকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক পিকআপটি নিয়ন্ত্রণে নেয় ডাকাতরা। এ সময় তাদের আরেকটি দল পিকআপের চালক ও সহকারীর হাত-পা বেঁধে মারপিট করে বাসে উঠিয়ে নেয়। ডাকাতদলের সরদার মুসা ও তার প্রধান সহকারী নাঈম পিকআপটি নিয়ে গাউছিয়া-মদনপুরমুখী রাস্তায় নিয়ে যায়। আর ডাকাতদলের বাকি সদস্যরা পিকআপের চালক ও হেলপারকে বাসে করে মদনপুরের দিকে নিয়ে যায়। 


আল মঈন বলেন, ডাকাতদের দেয়া তথ্যে পিকআপের চালক ও হেলপারকে উদ্ধারে মদনপুর যায় র‌্যাব। সেখানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে জব্দ করা হয় বাসটি। এ সময় ডাকাতদলের সদস্যরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে র‌্যাব সদস্যরা ছয়জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। আর বাকি ৪-৫ জন বাস থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর বাসের ভেতর থেকে পিকআপচালক ও তার সহকারীকে উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, এই ডাকাতদলটি বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মহাসড়কে ডাকাতি করে আসছিল। তারা পেশায় কেউ পোশাককর্মী, কেউ গাড়িচালক, হেলপার আবার কেউ রাজমিস্ত্রি ও কাপড়ের দোকানের কাটিং মাস্টার। দিনে নিজ নিজ পেশায় থাকলেও বিভিন্ন সময় তারা সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে।


র‌্যাব জানায়, চক্রটি তিনটি ভাগে ভাগ হয়ে কাজ করে। প্রথম গ্রুপ ডাকাতির জন্য বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক ও যানবাহনের তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর ডাকাতির জন্য স্থান নির্ধারণ করে। দ্বিতীয় গ্রুপের সদস্যরা বাস নিয়ে মহাসড়কে সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নেয়। এরপর ডাকাতির জন্য টার্গেট করা পণ্যবাহী যানের পিছু নেয় তারা। পরবর্তীতে সুবিধাজনক স্থানে গিয়ে পণ্যবাহী যানটিকে বাস দিয়ে গতিরোধ করে ডাকাতি করে। তৃতীয় গ্রুপের নেতৃত্ব দেয় ডাকাতদলের প্রধান মুসা। সে ডাকাতি করা পণ্যবাহী যানটি চালিয়ে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যায় এবং মালামাল আনলোড করে। এর মধ্যে পণ্য বিক্রি করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো কোনো নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।


র‌্যাব’র জিজ্ঞাসাবাদে সরদার মুসা জানায়, তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করেছে। গ্রেপ্তার শামীম ডাকাত সর্দার মুসার প্রধান সহযোগী। সে ডাকাতির সময় বাস চালায়। ২০০৬ সালে স্ত্রী হত্যার দায়ে সাত বছর কারাগারে ছিল শামীম। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার রনি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বাসচালকের হেলপার। আর নাঈম পেশায় একজন গাড়িচালক। গ্রেপ্তার মামুন স্থানীয় একটি সেলাই কারখানায় কাটিং মাস্টারের কাজ করে। ডাকাতির কাজের জন্য বাসটি তারা কীভাবে পেলেন- এমন প্রশ্নে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, চক্রটি মালিকের কাছ থেকে বাসটি নিয়ে গত দেড় বছর ধরে ডাকাতি করে আসছিল। কিন্তু বাসমালিক জানতেন না তার বাস দিয়ে যাত্রী পরিবহন না করে ডাকাতি হয়। তবে বাসের সব কাগজপত্র ঠিক ছিল।

পাঠকের মতামত

স্ত্রী হত্যার পর মাত্র ৭ বছর কারাদণ্ড ! বাংলাদেশের আইনে মৃত্যু দণ্ড ও তো আছে । মৃত্যুদণ্ড দিলে একটি ডাকাত কমত। এদের ধরার সময় কোমরের নীচে গুলি করে পঙ্গু করে ধরলে জেলের সাজার পর ডাকাতির যোগ্য থাকত না । এখন বড়জোর কয়েক বছর জেল হবে । আইনে এর চেয়ে বেশি সাজার বিধান নাই। ছুটে এসে আবার ডাকাতি করবে ।

Kazi
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ১১:৪৫ অপরাহ্ন

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

দেশ বিদেশ থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status