ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

অনলাইন

ডুমুরিয়ায় একবছরে ৭৬ জনের আত্মহত্যা!

সুমন ব্রহ্ম, ডুমুরিয়া (খুলনা) থেকে

(১ মাস আগে) ১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

ডুমুরিয়ায় একের পর এক ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। গত এক বছরে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৭৬ জনের। উদ্বেগজনক হারে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়লেও নেই কোন প্রতিকার।

তথ্য নিলে জানা যায়, গত এক বছরে উপজেলাতে মোট আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৭৬ জনের। এর মধ্য থেকে ৯ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৯৪ বছরের বৃদ্ধও রয়েছেন। শিশু ও কিশোর কিশোরীদের মধ্যে ২৬ জন, যুবক ২১ জন। মধ্যবয়সী থেকে বৃদ্ধর মধ্যে ২৯ জন আত্মহত্যা করেছে। এরমধ্যে শিশু, কিশোরী, নারী ৪০, কিশোর ও পুরুষ ৩৬ জন। এক সমীক্ষায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। আত্মহত্যা করা ব্যক্তিদের মধ্যে যুবক ও উঠতি বয়সের কিশোর কিশোরীদের সংখ্যাই বেশি। কখনও কখনও চিরকুট লিখে এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যার মত ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন
কি কারণে এই অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে?  এর পেছনে সামাজিক অবক্ষয়, ডিজিটাল ডিভাইস দায়ী বলে মনে করছেন অনেকে। তবে শিশু কিশোর কিশোরীদের আত্মহত্যার জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মান-অভিমান প্রেম ঘটিত ব্যাপার রয়েছে। যুবক ও মধ্যবয়সীদের ক্ষেত্রে অধিকাংশই পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার কারণে ঘটছে এই আত্মহত্যা। মধ্য বয়সী ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগই অসুখ বিসুখ সহ মানসিক রোগের কারণেও আত্মহত্যা ঘটেছে। পুলিশের তদন্তে এমনই তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মো, মসুদুর রহমান। এ বিষয় নিয়ে কথা বললে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. তুহিন রায় মানবজমিনকে বলেন, ‘মানুষ যখন তার নিজের উপরে আস্থা হারিয়ে ফেলে সমাজের কাছে তখন বোঝা মনে হয় এবং একটা সময় নিজের প্রতি ভালোবাসা সে হারিয়ে ফেলে তখন সে চিন্তা করে বেঁচে থেকে লাভ কি? তেমন পরিস্থিেিত সে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিতে পারে। আত্মহত্যা সাধারণত আবেগ ভাবাপন্ন থেকেও হতে পারে। তবে কিশোর বা যুবকরা অহংবোধ,  প্রত্যাশা পূরনের ব্যর্থতা ভাবাবেগ থেকেও আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বয়স্করা অনেক সময় অবসাদগ্রস্ততা বা পরিবারের কাছে বোঝা মনে হওয়ায় তারা এমনকি ভাগ্যের নিয়তি বলেও ভাগ্যকে মেনে নেয়। এমন পরিস্থিতিতে আত্মহত্যার মতো কাজ করে থাকে কখনও কখনও। অনেক সময় মানুষ যখন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে আত্মহত্যার শেষ পর্যায়ে যায় তখন তার বিবেক আর কাজ করে না। এমনকি সে জাগতিক চিন্তা ভুলে যায়। তবে একটা পর্যায়ে সে ফিরে আসার জন্য চেষ্টা করলেও তখন আর সময় থাকে না। 

অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের প্রেম ঘটিত ব্যাপার আবেগ ভাবাপন্ন বা অন্য কোন সমস্যার জন্য মোটিভেশন খুবই জরুরি। সেটা পরিবার, স্কুল, কলেজ বিশ^বিদ্যালয়, জেলা বা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠকের মাধ্যমেও হতে পারে। মোবাইল ফোন ইন্টারনেট এগুলো বেশি ব্যবহার না করে তার পরিবর্তে খেলাধুলার প্রতি মনোনিবেশ করানো, সাংস্কৃতিক চর্চার পাশাপাশি পরিবারে ধর্মীয় অনুশাসন চর্চা করলেও সেক্ষেত্রে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে গেলে অনেকটা চিন্তা করবে। অর্থাৎ তাদের সুচিন্তা করার মত মানসিক পরিবর্তন আনতে হবে।

সেক্ষেত্রে শিক্ষক, ডাক্তার সুশীল সমাজের লোকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়াও যদি সরকারিভাবে বা বেসরকারি কোন সংস্থার পক্ষ থেকে আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করে তবেই এটা কমানো সম্ভব বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

 

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অনলাইন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status