খেলা
ক্লাব খুঁজছেন পুলিশের আরচাররা!
স্পোর্টস রিপোর্টার
৬ এপ্রিল ২০২৫, রবিবার২০১৯ সালে গঠন করা হয় পুলিশ আরচারি ক্লাব। কিন্তু পাঁচ বছরের মাথায় বন্ধ করে দেওয়া হলো ক্লাবটি। পুলিশ আরচারি ক্লাব বন্ধের ফলে ২৫ জন আরচারের সঙ্গে তাদের পরিবারেও অন্ধকার নেমে এসেছে। তাই আর্থিক সংকট কাটাতে ক্লাব চালু করার জন্য যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দ্বারস্থ হচ্ছেন এই ক্লাবের আরচাররা। পুলিশ আরচারির অধিনায়ক আবুল কাশেম মামুন বলেন, ‘পুলিশ যতগুলো ডিসিপ্লিনে খেলে, তার মধ্যে সেরা আরচারি। আমরা অনেক পদক এনে দিয়েছি, যা এই সময়ের মধ্যে অকল্পনীয়। তারপরও ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে পুলিশের খেলা ডিসিপ্লিন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে আরচারিকে। যা খুবই দুঃখজনক। আমরা শিগগিরই যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দ্বারস্ত হব।’ ক্লাব বিলুপ্ত করায় যে ২৫ আরচার বেকার হয়ে গেলেন, তাদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়। এতদিন তারা আশায় ছিলেন পুলিশে স্থায়ী চাকরি হবে বলে। এখন শুনলেন ক্লাবই নেই। ফলে তাদের তীর-ধনুক হাতে খেলায়ই অনিশ্চিত হয়ে গেলো। গত বছর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন সরকার গঠন হয়। তারপর থেকেই পুলিশের আরচারদের ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা করে ভাতা পেতেন পুলিশের আরচারি খেলোয়াড় ও কোচরা। ভাতা বন্ধ হওয়ার পর থেকেই হতাশার মধ্যে দিন কাটছিল আরচারদের। পুলিশ আরচারি খেলায় থাকছে না সেটা নিশ্চিত হয় যখন ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ তাদের ক্রীড়া ক্লাবগুলোর কমিটি ঘোষণা করে। এই অর্থ বছরে পুলিশ ২৪টি ডিসিপ্লিনের ক্লাব ঘোষণা করেছে। সেখানে আছে ফুটভলির মতো অখ্যাত সব খেলা। অথচ ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে অলিম্পিকের ডিসিপ্লিন আরচারির ক্লাব। জানা গেছে, ভেঙ্গে দেওয়ার তালিকায় রয়েছে দাবা ও জিমন্যাস্টিকসহ আরো কয়েকটি ডিসিপ্লিনও। ২৪টি ক্রীড়া ডিসিপ্লিনের জন্য ১৩টি ও একটি কালচারাল ক্লাব ঘোষণা করে প্রত্যেকটির সভাপতি ও সম্পাদক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। মামুন বলেন, ‘২০১৯ সালে এই ক্লাব গঠনের পর থেকে আমি ছিলাম। আমাদের বছরব্যাপী ক্যাম্প হতো নড়াইল পুলিশ লাইনে। ছেলে ও মেয়ে ২৫ জন আরচার ছিলেন পুলিশ ক্লাবের ক্যাম্পে। আমরা দুইবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। বাংলাদেশ গেমস চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। গত বছর এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত সপ্তম কার্তিনি আন্তর্জাতিক আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা ৭ স্বর্ণ, ৪ রুপা ও ৩ ব্রোঞ্জ জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। আরচারি ক্লাব গঠনের পর আমরা যত পদক এনে দিয়েছি পুলিশের খেলাধুলার ইতিহাসেও সব মিলিয়ে এত পদক আসেনি। অথচ কি কারণে সফল সেই ক্লাবটিকেই বিলুপ্ত করা হলো আমরা জানি না।’ বিষয়টি জানতেন না জাতীয় দলের জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ। দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ফ্রেডরিখ বলেন, ‘আমি জানতাম না। তোমাদের এক সাংবাদিকের কাছ থেকে কথাটি শুনেছি। অনেক দিন ধরে পুলিশের কিছু সমস্যা ছিল জানতাম। হ্যাঁ, ক্লাব ভেঙে দেওয়া আমাদের দেশের তীরন্দাজদের জন্য ভালো খবর নয়। পুলিশ ক্লাব বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী দল ছিল। এটা দুঃখজনক...।’
২০২৪-২৫ অর্থবছরে পুলিশ যে খেলাগুলোয় অংশ নেবে
ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, টেনিস, বাস্কেটবল, বেসবল, ডিউবল, ফুটভলি, টার্গেটবল, ভলিবল, হ্যান্ডবল, অ্যাথলেটিকস, কুস্তি, বক্সিং, শরীরগঠন, উশু, ব্যাডমিন্টন, শুটিং, কাবাডি, সাঁতার, জুডো, কারাতে, তায়কোয়ানদো ও ভারোত্তোলন।