খেলা
‘মাথা খাটাতে’ বলেন ওয়ার্নার, বাউন্সার দিয়ে বসেন মোস্তাফিজ
স্পোর্টস ডেস্ক
(১৫ ঘন্টা আগে) ৫ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার, ১:০০ অপরাহ্ন

খেলার মাঠে ভাষার বিড়ম্বনায় পড়ার খবর মোটেই নতুন নয়। বিশেষ করে ইউরোপের ফুটবলের এমনটা বেশি দেখা যায়। বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ভিন্ন ভাষাভাষীর খেলোয়াড়েরা এক ছাদের নিচে আসলে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। একই চিত্র দেখা যায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও। এবার টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে তেমনই এক অভিজ্ঞতা জানালেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ও কোচ টিম ম্যাসন মুডি।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) ভাষার বিড়ম্বনার বড় কারণ ওই একই, ভিন্ন ভাষাভাষীর খেলোয়াড়। এছাড়া ভারতের নিজেরই তো ভাষার বৈচিত্রের শেষ নেই। দেশটিতে হিন্দি আর ইংরেজি দাপ্তরিক ভাষা হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ২২টি ভাষা। এক্ষেত্রে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উঠে আসা ক্রিকেটাররা একত্রিত হলে যোগাযোগ নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হয়। ২০১৬তে প্রথমবার আইপিএলে খেলতে যান মোস্তাফিজুর রহমান। সেবার হায়দরাবাদের হয়ে খেলেন ‘দ্য ফিজ’। নিজের প্রথম আসরে পাঞ্জাবকে কোচিং করানো টিম মুডি তখন হায়দরাবাদের কোচ। সে বছর এই টাইগার পেসারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে গিয়ে ভালোই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তার দলকে। সে কথাই ইএসপিএনক্রিকইনফোতে জানালেন মুডি। ৫৯ বছর বয়সী এই অজি কোচ বলেন, ‘প্রথম দিকে ওকে নিয়ে সত্যিই সমস্যায় পড়ি।’ তৎকালীন হায়দরাবাদ অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার তখন ফিজের সঙ্গে ইশারায় যোগাযোগ করতেন। একবার এই অজি ক্রিকেটার মাঠে মোস্তাফিজের মাথার দিকে ইশারা করে ‘মাথা খাটিয়ে’ বল করার ইঙ্গিত দেন। এদিকে বাঁহাতি টাইগার পেসার ভেবে বসেন তাকে বাউন্সার দিতে বলা হয়েছে। পরের বলে অধিনায়কের কথা যতটুকু বুঝেছেন, ততটুকুই অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন তিনি। বাউন্সার মেরে বসেন ব্যাটারকে। মুডি যোগ করেন, ‘এ জায়গায় সতর্ক থাকতে হয়। আপনি ভাবছেন যে আপনি যা বুঝাতে চেয়েছেন সেটি পরিষ্কার, তবে খেলোয়াড়টি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে সেটি গ্রহণ করছে। এটি আইপিএলের একটি বিশেষ দিক, যা কি না যোগাযোগের সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানায়।’ সেবার মুডির দলে মোস্তাফিজ ছাড়া বাংলা বলতে পারতেন শুদু রিকি ভুই। তাই এই পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেটারকেই ফিজের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাজে লাগাত হায়দরাবাদ। ভুই একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘মোস্তাফিজ দু’টি জিনিস ভয় পায়, ব্যাটিং করা আর ইংরেজিতে কথা বলা।’
যদিও সেবার এই ভাষার বিড়ম্বনা ছাপিয়ে নিজেকে আইপিএলের মঞ্চে বেশ জোরেশোরেই জানান দেন মুস্তাফিজুর রহমান। সে আসরে ১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে হায়দরাবাদের শিরোপা জয়ে দুর্দান্ত ভূমিকা রাখেন এই বাঁহাতি পেসার। নিজেও প্রথম আসরে হন বিদেশিদের মধ্যে প্রথম উদীয়মান ক্রিকেটার।