ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০২৪, মঙ্গলবার, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ মহরম ১৪৪৬ হিঃ

দেশ বিদেশ

কৃষক ও কৃষি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
১৬ জুন ২০২৪, রবিবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সারা দেশে আমাদের সাধ্যমতো গাছ লাগাতে হবে। সেই সঙ্গে কৃষক ও কৃষি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শনিবার গণভবনে আষাঢ় মাসের প্রথমদিনে বাংলাদেশ কৃষক লীগের তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীকে অধিক পরিমাণে গাছ লাগিয়ে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি। 
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযানে অবদানের জন্য কৃষক লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকে পুরস্কৃত করেন এবং নেতাকর্মীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করেন। পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন দেশে আওয়ামী লীগই প্রথম শুরু করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক ও কৃষি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। সেক্ষেত্রে কৃষক লীগের দায়িত্ব অনেক বেশি।

তিনি বলেন, গাছ আমাদের প্রাণ, এটি আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেন দেয়। কাজেই আমরা যতবেশি বৃক্ষ লাগাতে পারবো- এটি আপনাকে ফল দেবে, খাদ্য দেবে আবার অর্থ উপার্জনের পথও সুগম করবে।
প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেককে একটি করে ফলজ, বনজ ও ঔষুধি গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, এইভাবে আমাদের দেশকে যদি আমরা সবসময় সবুজ করে রাখতে পারি তাহলে বাংলাদেশ আর পিছিয়ে থাকবে না। সেজন্য সকলকে আমাদের এভাবেই চিন্তা করতে হবে। তবে, একটা জিনিসের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে ফসলি জমি যেন নষ্ট না হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, গ্রামে আমাদের বহু জায়গা আছে। বেশি করে নদীর পাড়, যেসব এলাকায় ভাঙন হতে পারে সেসব জায়গায় বড় শিকড় সমৃদ্ধ মাটি কামড়ে ধরে রাখার মতো গাছ, উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে গাছ লাগাতে হবে এবং বাড়ির চারপাশ এবং ছাদে ছাদ বাগান করতে হবে।

তিনি বলেন, বহুতল ভবন আর উন্নয়নের নামে রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে শুরু করে গুলশান-বনানী এলাকায় অতীতে যেসব বড় বড় গাছ ছিল সেগুলো সবই উজাড় হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
ফলে আগে যে সবুজ ছিল সেটা এখন আর নেই। এখন অবশ্য ছাদ বাগান হচ্ছে, সবাই এদিকে ঝুঁকছে। সেটাও করতে পারেন সবাই। এতে বাড়িটাও ঠাণ্ডা থাকবে তেমনি নিজের হাতে বাগান করে নিজের গাছের তরিতরকারি খাওয়ার স্বাদই আলাদা। কর্মসূচি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন।

তিনি বলেন, ’৯৬ সালে সরকারে আসার পর তিনি গণভবনে দুই হাজারের মতো গাছ লাগিয়েছিলেন। এর আগের গাছগুলো জাতির পিতার হাতে লাগানো। এরপর আমরা বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ লাগাই এবং লাগাচ্ছি এবং এখানে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করে দেখছি ভালোই হয়। হাঁস-মুরগি-গরু-ছাগল সবই আছে আমাদের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন গণভবন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এবং একই সঙ্গে একটি খামার বাড়িতে পরিণত হয়েছে। তিনি সবাইকে আগাম ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে যত্রতত্র কোরবানির পশু জবাই করে জায়গা যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্যও সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘নিজেদের আবাসস্থল এবং এর চারপাশে নিজেদেরই নজরদারি রাখতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক লীগ সভাপতি সমীর চন্দ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু। কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীমা শাহরিয়ার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী অতীতের সরকারগুলোর নির্বিচারে গাছ কাটার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ছোটবেলায় দেখেছেন এয়ারপোর্ট থেকে বাংলা একাডেমি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আইল্যান্ডে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছে যখন ফুল ফুটতো তখন অপরূপ রূপে এই শহরটা জেগে উঠতো। জিয়াউর রহমান এক এক করে সব গাছ কেটে ফেলে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি শুধু ক্ষমতায় থাকাকালেই নয়, বিরোধী দলে থাকাকালেও আন্দোলনের নামে গাছ কেটেছে। বিএনপি-জামায়াত ২০১৩ সালে কেবল আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ায়নি, আন্দোলনের নামে হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলেছিল। বৃক্ষনিধন করাই বিএনপি’র চরিত্র।
তিনি বলেন, ‘তারা সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সম্পূর্ণ টাকাটাই মেরে দিতো।’ আওয়ামী লীগ এখন উপকারভোগীদের সামাজিক বনায়নের ৭০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করছে এবং তার সরকারই প্রথম ‘জাতীয় কৃষি নীতি-১৯৯৯ প্রণয়ন করে। সারের দামও কমিয়ে দেয় এবং এখনো ব্যাপক ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। যদিও একটি বিদেশি সংস্থা যে বিশ^ব্যাংক ভুয়া দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল তাদের পরামর্শ ছিল কৃষিতে ভর্তুকি দেয়া যাবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া ‘বিএডিসি’ প্রায় বন্ধই করে দিয়েছিল। কোনোমতে একটা অংশ বেঁচে ছিল। কারণ, বীজ উৎপাদন বেসরকারি খাতে হবে এবং বিদেশ থেকে আমদানি করবে। ওদের কিছু লোক ব্যবসায় জড়িত ছিল। কিন্তু আমরা আমাদের বীজ উৎপাদনের জন্য বীজ গবেষণাগার গড়ে তোলায় দেশেই ভালো বীজ উৎপাদন হচ্ছে। এখন দেশে যে বিভিন্ন ধরনের ফলমূল হয় এবং সব ধরনের শাক-সবজি ও ফলমূল ১২ মাসই পাওয়া যাচ্ছে, সেটা আমাদের গবেষণারই ফসল।

 

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

দেশ বিদেশ সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status