ঢাকা, ১৮ জুন ২০২৪, মঙ্গলবার, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১১ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

অনলাইন

টুনা ফিস রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অপার সম্ভবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না

স্টাফ রিপোর্টার

(১ সপ্তাহ আগে) ১০ জুন ২০২৪, সোমবার, ৯:৫৬ অপরাহ্ন

mzamin

আকাশছোঁয়া দামের কারণে টুনা মাছ বরাবরই ‘কালো হীরা’ নামে পরিচিত। গত বছর জাপানের রাজধানী টোকিওর টোয়োসু মাছের বাজারে নিলামে একটি টুনা মাছ বিক্রি হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা প্রায়। টুনা মাছটির ওজন ২১২ কেজি। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। টুনা ফিস রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। একমত প্রকাশ করেন বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, আমরা টুনা ফিস ধরতে পারি না। অথচ জাপান আমাদের এখান থেকে এই মাছ ধরে জাহাজেই প্রসেসিং করে বাজারজাত করছে। বাংলাদেশের হাওর ও জলাভূমিগুলো অপার সম্ভাবনার আধার। হাওর ও জলাভূমিগুলো যদি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় আসে এবং এখানকার সম্পদকে যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে যাবে, অর্থনৈতিকভাবে দেশ অনেক এগিয়ে যাবে, পর্যটন শিল্পের বিকাশ হবে।

বিজ্ঞাপন
আরও নানাভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। হাওর ও জলাভূমির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিহার্য।

তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে হাওর ও জলাভূমিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে পলি। শুধু পলি নয়, পাথর ও বালিকণাও রয়েছে। প্রতি বছর কমপক্ষে এক বিলিয়ন টন পলি পড়ে। এতে করে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই ডিজি বলেন, দেশের ৭১ শতাংশ জিডিপি আসতে পারে মিঠা পানির মাছ রপ্তানি করে। ধানের চেয়ে মাছ চাষে তিনগুণ বেশি লাভ। মৌলভীবাজারের বাইক্কা বিলে এক কোটি মাছ পালনে ১০ কোটি টাকা ব্যয় করলে তা ২০০০ হাজার কোটি টাকা বিক্রি করা সম্ভব। সিলেটের রাতারগুল জলাবনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাতারগুলে ১০০ কোটির মতো গাছ রয়েছে। এসব গাছের গোড়ায় মাছ আশ্রয় পাচ্ছে। গাছে পাখি আশ্রয় নেয়। রাতারগুলের এই মডেল হাওর ও দেশের অন্যান্য জলাভূমির ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যেতে পারে। তাতে পরিবেশেরও উন্নতি হবে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং প্রসঙ্গ টেনে মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্বের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি বাড়লে যশোর, নোয়াখালী ও বরিশাল অঞ্চল ডুবে যাবে। হাওর ও জলাভূমি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

মরিন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি এহসানুল হক জসীম তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাতটি জেলা এবং ভারতের কিছু এলাকা ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও হাওর নেই। হাওরের খাদ্য উৎপাদন ১৭ শতাংশ, ২০ শতাংশ মাছ উৎপাদন হয়। দেশের গ্যাসের ৯০ শতাংশ হাওর অঞ্চল থেকে উৎপাদিত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, সরকারের অনেক প্রকল্পের কারণে হাওর নষ্ট হচ্ছে। হাওর অঞ্চলের মানুষজনের একটা বড় অংশ শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা, বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত। ইদানীং মারাত্মক আকারে বন্যা দেখা দিচ্ছে। বজ্রপাতে মারা যায় অনেক মানুষ। কিন্তু এসবের খবর মিডিয়ায় কম আসে। তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জের ওয়াল ওয়েদার রোডের কারণে হাওরের পানি যেতে পারে না। এতে ক্ষতি হচ্ছে। পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২২ সালে ভয়াবহ হওয়ার ক্ষেত্রে এটা অন্যতম কারণ। সেই বন্যায় ১০০ জনের মতো মানুষ মারা গেছে দাবি করে তিনি বলেন, এই তথ্য গণমাধ্যমে আসেনি। হাওরের সংবাদগুলো যথাযথভাবে গণমাধ্যমে তুলে আনার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। হাওর ও জলাভূমি ইস্যুতে সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এবং মিডিয়ায় আরও বেশি নিউজ কভারেজের জন্য বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় কর্মসূচি রাখতে পারে। সাংবাদিকদের নিয়ে ট্রেনিং কর্মসূচি ও সরজমিন প্রতিবেদনের জন্য ফিল্ড ট্রিপের ব্যবস্থা করতে পারে।

সেভ আওয়ার সি-এর মহাসচিব গাজী মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড পানির উন্নয়ন না করে শুধু বাঁধ দেয়। ছাদে মাছ চাষ করে ভূগর্ভস্থ পানি নষ্ট হচ্ছে। এতে মাছের গুণগত মানও নষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশে হাওর ও জলাধারগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হলে ছাদে মাছ চাষের কোনো প্রয়োজন নেই।

আমরা নারী-এর ফাউন্ডার এম এম জাহিদুর রহমান বিপ্লবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ‘হাওর সংরক্ষণ ও উন্নয়নে মিডিয়ার ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)-এর পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ড. এস এম তানভীর হাসান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমদ, মেরিন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি রাশেদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত শাকিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক আহমদ, বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক গাজী মিজানুর রহমান ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা প্রমুখ।


 

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

অনলাইন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status