ঢাকা, ২৩ জুন ২০২৪, রবিবার, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

শেষের পাতা

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, জটিলতায় ঘুরপাক, বন্ধ নির্মাণকাজ

স্টাফ রিপোর্টার
১৮ মে ২০২৪, শনিবারmzamin

জুনে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদার জটিলতায় ঘুরপাক খাচ্ছে প্রকল্পটি। সর্বশেষ গতকাল আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা জারির পর থেকে বর্তমানে এক্সপ্রেসওয়ের কাজ সাময়িক বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। এদিন ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড (ইতাল-থাই) কোম্পানির হাতে থাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের শেয়ার চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের কাছে হস্তান্তরের ওপর দুই সপ্তাহের স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আট বিচারকের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। শুনানিতে ইতালিয়ান-থাই কোম্পানির পক্ষে ছিলেন এডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন, শেখ মোহাম্মদ মোরসেদ, ইমতিয়াজ ফারুকসহ কয়েকজন। সিনোহাইড্রো করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন এডভোকেট মোহাম্মদ মেহেদী হাছান চৌধুরী ও মোস্তাফিজুর রহমান খান।

  মেহেদী হাছান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের জাজমেন্টটা এখনো পান নাই। জাজমেন্ট পাওয়া সাপেক্ষে দুই সপ্তাহের স্ট্যাটাসকুয়ো দিয়েছে। দুই সপ্তাহ পর মামলাটা অ্যাপিলেট ডিভিশনের কজ লিস্টে আসবে পরবর্তী শুনানির জন্য। এই সময়ের মধ্যে শেয়ার হস্তান্তর হবে না, তাই ব্যাংক বলে দিয়েছে, তারা ফাইন্যান্স করবে না। তার মানে কাজ বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞাপন
মেহেদী হাছান চৌধুরী বলেন, ২০১৩ সালে ইতালিয়ান ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করার জন্য বাংলাদেশ সরকার কার্যাদেশ দেয়। কিন্তু তারা কাজ শুরু করতে ব্যর্থ হলে দুই চীনা কোম্পানির সঙ্গে মিলে একটি কোম্পানি করে। ওই তিনটা কোম্পানি মিলে প্রকল্পের জন্য ঋণ নেয়। সেখানে শর্ত ছিল, অংশীদারদের কেউ জানুয়ারি বা জুনে ঋণের সুদ দিতে ব্যর্থ হলে সুদের ওই অংশটা বাকি দুই গ্যারান্টারকে দিতে হবে এবং সুদ দিতে ব্যর্থ কোম্পানির শেয়ার বাকিদের কাছে চলে যাবে। বাংলাদেশ সরকারও তাতে অনুমোদন দেয়।

 তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে ইতালিয়ান-থাই কোম্পানি ঋণের সুদ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। সে কারণে ঋণদাতা চীনা ব্যাংক ২০২৪ সালের ২৩শে জানুয়ারি ইতালিয়ান কোম্পানিকে চিঠি দিলে তারা আরবিট্রেশনে যায়। ওই আরবিট্রেশনের প্রেক্ষিতে তারা হাইকোর্ট ডিভিশনে মামলা করে যাতে শেয়ার হস্তান্তর স্থগিত হয়। হাইকোর্ট মামলাটি ‘চলার যোগ্য না’ বলে রুল খারিজ করে দেয়। তখন তারা আপিল বিভাগে আসে। এদিকে চলতি বছর শুরু থেকেই প্রকল্পটির জন্য ঋণছাড় বন্ধ করে এক্সিম ব্যাংক অব চায়না ও আইসিবিসি। তখন থেকেই প্রকল্পটির কাজে গতি হারিয়ে যায়।

 বর্তমানে অর্থাভাবে বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকল্পের কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। মগবাজার, মালিবাগ, কমলাপুর এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। প্রকল্পটি  কমলাপুর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালীতে গিয়ে শেষ হবে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১১ সালে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এই প্রকল্পটি নির্মাণ হচ্ছে। এতে বেসরকারি অংশীদার ‘ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেড’। প্রকল্পটিতে বিনিয়োগকারী হিসেবে এগিয়ে আসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতাল-থাই। শুরু থেকেই প্রকল্পের অর্থের সংস্থান করতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৯ সালে চায়না এক্সিম ব্যাংক ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়নার (আইসিবিসি) কাছ থেকে ৮৬১ মিলিয়ন ডলার ঋণ জোগাড় করে ইতাল-থাই। বিনিময়ে চীনের দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানির ৪৯ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি।

 এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে খরচ হচ্ছে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। প্রথম ধাপে বিমানবন্দর-বনানী অংশের অগ্রগতি ৯৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। দ্বিতীয় ধাপ বনানী-মগবাজার অংশের অগ্রগতি ৭৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। শেষ ধাপ মগবাজার-কুতুবখালী অংশের অগ্রগতি ১২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। গত এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ৭৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। জুনে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে পুরো কাজ শেষ হবে। তবে ঠিকাদারদের মধ্যকার চলমান বিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও বিলম্বিত করে তুলবে বলে আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

   

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status