ঢাকা, ১৮ মে ২০২৪, শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ জিলক্বদ ১৪৪৫ হিঃ

শেষের পাতা

মালয়েশিয়ায় প্রতারিত বাংলাদেশিদের দুর্দশা নিয়ে জাতিসংঘের আশঙ্কা প্রকাশ

আরিফুল ইসলাম, মালয়েশিয়া থেকে
২০ এপ্রিল ২০২৪, শনিবার

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। তারা বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অস্তিত্বহীন কাজের জন্য শোষণের হাত থেকে রক্ষা করতে মালয়েশিয়াকে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা করার  আহ্বানও জানিয়েছেন। আজ দেশটির স্থানীয় অনলাইন ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে-কে দেয়া এক বিবৃতিতে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে নিযুক্ত বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, তারা বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রতারণা সম্পর্কে এক প্রতিবেদনে হতাশ হয়েছেন যারা, মালয়েশিয়াতে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিয়ে এসে তাদের কাজ না দিয়ে প্রতারণা করেছে।  এ বিবৃতিতে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে পরিচালিত অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতারণামূলক নিয়োগের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা হচ্ছে বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, অভিবাসীরা প্রতারিত হচ্ছে কারণ তাদের জাল কোম্পানি দ্বারা নিয়োগ করা হয়েছিল এবং অতিরিক্ত নিয়োগ ফি দিতে বাধ্য করেছিলো যা, তাদের ঋণের জালে বন্দি করেছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে, অনেক অভিবাসী মালয়েশিয়ায় পৌঁছে দেখেন যে, তাদের সঙ্গে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ নেই এবং প্রায়ই তাদের ভিসাহীন করে থাকতে বাধ্য করা হয়, যার ফলে তারা গ্রেপ্তার হয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে দুর্ব্যবহার এবং নির্বাসনের ঝুঁকিতে পড়তে হয়। এ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় কয়েক মাস বা তার বেশি সময় ধরে কর্মবিহীন বাংলাদেশি অভিবাসীদের অবস্থা খুবই নাজুক এবং অসম্মানজনক। তারা আহ্বান জানিয়েছেন, মালয়েশিয়াকে অভিবাসীদের ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের শোষণ, অপরাধীকরণ এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে রক্ষা করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।  জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছে, আমরা রিপোর্ট পেয়েছি যে, উভয় সরকারের কিছু উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এটা অগ্রহণযোগ্য এবং এটার শেষ হওয়া দরকার। আর এই শোষণমূলক নিয়োগের জন্য অপরাধীদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। 

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কিছু অভিবাসী তাদের শোষণের কথা জানানোর জন্য কঠোর প্রতিশোধের সম্মুখীন হয়েছে, তারা মালয়েশিয়াকে শ্রমিকদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা গ্রহণে আরও কার্যকরভাবে শ্রমিক অভিবাসন পরিচালনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
তারা আরও বলেছে যে, মালয়েশিয়াকে অবশ্যই ইউএন গাইডিং প্রিন্সিপলস অন বিজনেস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের অধীনে বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হবে। এবং মালয়েশিয়াকে অবশ্যই শোষণের শিকার ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, সুরক্ষা এবং সহায়তা করার জন্য প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে, ব্যক্তি পাচারের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনি সুরক্ষা কার্যকর করতে হবে এবং দেশের আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের বাধ্যবাধকতা সমুন্নত রাখতে হবে। তারা এর আগে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা করেছেনও বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ এ দলটি। গত অক্টোবরে, অভিবাসী অধিকার কর্মী অ্যান্ডি হল, জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের অধীনস্থ সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস অফিস অফ দ্য হাইকমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস (ওএইচসিএইচআর) এর কাছে এই বাংলাদেশি শ্রমিকদের দুর্দশার বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। শ্রমিকদের পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করে, তিনি তাদের দরিদ্র জীবনযাত্রার বিশদ বিবরণ দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে আবদ্ধ কোয়ার্টার, দুর্বল স্যানিটেশন এবং সীমিত খাবার এবং কীভাবে তারা অতিরিক্ত নিয়োগ ব্যয়ের কারণে ঋণী হয়ে পড়েছে। অ্যান্ডি হল দাসপ্রথা, পাচার, অভিবাসী এবং দারিদ্র্যের বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ রিপোর্টারদের কাছে নথিযুক্ত অভিযোগও পাঠিয়েছিল; বিশেষ করে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন বিজনেস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস এবং পিয়া ওবেরয় যিনি জাতিসংঘের এশিয়া প্যাসিফিকের মাইগ্রেশন এবং মানবাধিকার বিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা।

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status