ঢাকা, ২২ মে ২০২৪, বুধবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ ১৪৪৫ হিঃ

বাংলারজমিন

‘দোকানে ভারতীয় চোরাই মাল রাখছিস’ বলেই কিশোরকে পেটালেন এসআই আইনুল

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
২০ এপ্রিল ২০২৪, শনিবার
mzamin

দোকানে ভারতীয় চোরাই মাল রাখছিস বলেই এক কিশোরকে পিটিয়ে আহত করেন শিবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আইনুল হক। শুধু পিটিয়ে আহত করেই ক্ষ্যান্ত হননি ৬০ হাজার টাকাও আদায় করেছেন তিনি। নির্যাতনের শিকার শাকিল আহম্মেদের (১৭) পিতা ছাকরাম হোসেন এমন অভিযোগ তুলেছেন। ১৭ই এপ্রিল বগুড়ার শিবগঞ্জের কিচক বাজারে এমন ঘটনা ঘটেছে। ছাকরাম হোসেন বলেন, বুধবার সকাল ১০টার দিকে এসআই আইনুল আমার দোকানে যান। এসময় আমি ব্যবসায়িক কাজে জয়পুরহাটে অবস্থান করছিলাম। দোকানে আমার ছেলে ও কর্মচারী ছিল। এসআই আইনুল দোকানে গিয়ে একটি  মোটরসাইকেল দেখে সেটি চোরাই বলে থানায় নিয়ে যেতে চান। পরে আমার ছেলে বাড়ি থেকে কাগজপত্র এনে দেখানোর পর এসআই আইনুল বলেন- দোকানের মালামাল ভারত থেকে চোরাই পথে আনা হয়েছে। বিষয়টি আমার ছেলে মোবাইল ফোনে আমাকে জানালে আমি এসআই আইনুলের সঙ্গে কথা বলি।

বিজ্ঞাপন
এসআই আইনুল সে সময় দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলেন, টাকা না দিলে দোকানের মালামাল থানায় নিয়ে ভারতীয় মালামাল হিসেবে মামলা দেবো। 

এ নিয়ে তার ছেলের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে ছেলেকে দোকানে আটকে রেখে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর শুরু করে। ছাকরাম হোসেন আরও বলেন- ছেলেকে মারধরের খবর  পেয়ে আমার স্ত্রী লাভলী বেগম বাড়ি থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং দোকানের মালামাল কেনার মেমো নিয়ে কিচক বাজারে এসে দোকানে এসআই আইনুলকে দেন। দুপুর দুইটার দিকে এসআই আইনুল ৬০ হাজার টাকা নিয়ে দোকান থেকে চলে যান। এদিকে নির্যাতনে শাকিল আহম্মেদ অসুস্থ হয়ে পড়লে বুধবার সন্ধ্যার পর তাকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। বৃহস্পতিবার সকালে খবর পেয়ে এসআই আইনুল হাসপাতালে গিয়ে শাকিল আহম্মেদকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান হাত ও পায়ের এক্স-রে করান। পরে ওষুধ কিনে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন এবং যাবতীয় চিকিৎসা খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দেন। 

এছাড়াও ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য অনুরোধ করেন। বিষয়টি নিয়ে কথা হয় এসআই আইনুল হকের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। মূল বিষয়টি হচ্ছে- আমি আব্দুল আলিম নামের একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করি। সে অটোরিক্সা চোর। ওই চোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় তাদের চুরি করা অটোরিক্সা ছাকরাম হোসেন কিনে নেয় এবং বডি পরির্তন করে ফেলেন। চোরের এমন কথায় এলাকার লোকজন ছাকরামের ছেলে শাকিলের উপর চড়াও হয় এবং মারধর শুরু করে। আমি উপস্থিত জনতার পক্ষ নিয়ে শাকিলকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখি। আমি তাকে নির্যাতন করিনি এবং টাকাও গ্রহণ করিনি।  বিষয়টি জানার জন্য শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করার জন্য সার্কেল এসপিসহ ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আমরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে আসল বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি।

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

   

বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status