ঢাকা, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, শুক্রবার, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ শাওয়াল ১৪৪৫ হিঃ

শরীর ও মন

নাভিতে হার্নিয়ার কারণ ও করণীয়

ডা. মোহাম্মদ তানভীর জালাল
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, শনিবার

নাভিতে হার্নিয়া  চিকিৎসা পরিভাষায় আম্বিলিক্যাল হার্নিয়া বলে।  সাধারণত নাভির চারপাশে পেটের দেয়ালের পেশিতে দুর্বলতা থাকলে নাভির হার্নিয়া হয়। এই দুর্বলতা জন্ম থেকেই থাকতে পারে বা বিভিন্ন কারণে পরবর্তীকালেও এটি হতে পারে।   নাভিতে হার্নিয়া হলে পেটের পেশির দুর্বল জায়গা দিয়ে অন্ত্র বা ফ্যাটি টিস্যু স্ফীত হয়ে বেরিয়ে আসে। নাভির চারপাশে পেটের দেয়ালের পেশিতে দুর্বলতা থাকলে নাভির হার্নিয়া হয়।

ঝুঁকির কারণ: যেসব কারণ ঝুঁকি বাড়ায় সেসব হলো স্থূলতা, গর্ভাবস্থা, দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা হাঁচি, মলত্যাগের সময় স্ট্রেনিং বা অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ, ভারোত্তোলন, আগে পেটের সার্জারির ইতিহাস বা জেনেটিক কারণ।

বোঝার উপায়: নাভির হার্নিয়ার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো নাভির চারপাশ ফুলে যাওয়া। দাঁড়ানো, কাশি বা স্ট্রেন করার সময় এই স্ফীতি আরও লক্ষণীয় হতে পারে। সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ  যেমন ফুলে যাওয়া স্থানে ব্যথা বা অস্বস্তি, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, স্ফীতির চারপাশে লাল ভাব বা বিবর্ণতা, গ্যাস পাস করতে না পারা বা মলত্যাগ করতে কষ্ট, জ্বর  এমনকি  দ্রুত হৃৎস্পন্দনও হতে পারে।

পরীক্ষা: চিকিৎসক উপসর্গ এবং ইতিহাস জেনে এবং শারীরিক পরীক্ষা করেই এটি নির্ণয় করতে পারেন। পেটের নাভির চারপাশে ফুসকুড়ি পরীক্ষা করার জন্য একটি শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় করার জন্য ইমেজিং পরীক্ষা, যেমন আলট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যানের প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসা: চিকিৎসার প্রয়োজন হয় যদি এটি বেদনাদায়ক হয়, বড় হয়ে যায় বা খাদ্যনালি আটকে যায়। যদি হার্নিয়া ছোট হয় এবং কোনো উপসর্গ সৃষ্টি না করে, তবে আপনার চিকিৎসক এটি পর্যবেক্ষণ করার এবং এটি বড় হয় কিনা, তা দেখার জন্য অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা  অপেক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

যদি হার্নিয়া উপসর্গ সৃষ্টি করে বা অবস্ট্রাকশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাহলে হার্নিয়া সারিয়ে তুলতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

বিজ্ঞাপন
অস্ত্রোপচারের মধ্যে খাদ্যনালিকে পেটের গহ্বরে ঠেলে দেয়া এবং সেলাই বা জাল দিয়ে দুর্বল জায়গাটিকে শক্তিশালী করা হয়ে থাকে।
প্রতিরোধ: নাভির হার্নিয়া সব সময় প্রতিরোধ করা যায় না,  কিছু পদক্ষেপ আছে, যা ঝুঁকি কমাতে পারে। যেমন-
* সঠিক ওজন বজায় রাখুন।
* ভারী জিনিস উত্তোলন  না করা।
* পেটের চাপ এড়াতে দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা কোষ্ঠকাঠিন্য হলে  দ্রুত চিকিৎসা  নেয়া।
* এবং ধূমপান বর্জন  করতে হবে।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক (কলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগ) কলোরেক্টাল, লেপারোস্কপিক ও জেনারেল সার্জন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। 
চেম্বার: ১৯ গ্রীন রোড, এ. কে. কমপ্লেক্স, লিফট-৪, ঢাকা। ফোন: ০১৭১২৯৬৫০০৯

শরীর ও মন থেকে আরও পড়ুন

   

শরীর ও মন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status