প্রথম পাতা
সাতাইশে পা
শামীমুল হক
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, বৃহস্পতিবারছাব্বিশ বছর। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এগিয়ে চলা। দীর্ঘ এ পথচলায় প্রতিটি ক্ষণের সাক্ষী মানবজমিন। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম রঙিন ট্যাবলয়েড পত্রিকা। হ্যাঁ, আজ মানবজমিন পা দিয়েছে সাতাইশ বছরে। এর শুরুটা ছিল এক ইতিহাস। পাঠক বোদ্ধারা সবই জানেন। যেন চোখের পলকে পেরিয়ে গেল ছাব্বিশটি বছর। এ সময়ে স্মৃতির মলাট ভারী হয়েছে অনেক। পথ চলতে গিয়ে অনেক হোঁচট খেতে হয়েছে। মামলা, হামলা, চোখ রাঙানো ছিল নিত্যসঙ্গী। সব কিছুকে ছাপিয়ে সত্যকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলছে। কারও তাঁবেদারি করে না- এ স্লোগানকে সামনে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তরতর করে। বহু রিপোর্ট নিয়ে চরম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে মানবজমিনকে। আবার বহু রিপোর্ট দেশের মানুষকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। ‘হারিছ নয়, মাহমুদুর রহমান মারা গেছেন’ শিরোনামে মতিউর রহমান চৌধুরীর অনুসন্ধানী রিপোর্ট দেশ-বিদেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ রিপোর্টের ফলোআপ রিপোর্ট ‘হারিছ চৌধুরী লন্ডনে নয়, মারা গেছেন ঢাকায়’- জানালেন ব্যারিস্টার কন্যা সামিরা। রিপোর্টে হারিছ চৌধুরী রাজধানীর বুকে গ্রীন রোডে বসবাস করতেন। মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তেন। বাজার করতেন। যাবতীয় তথ্য তুলে ধরা হয়। দীর্ঘদিন গ্রীন রোডের এক বাড়িতে বসবাস করলেও কোনো গোয়েন্দা সংস্থা তা টেরও পায়নি। এ রিপোর্ট নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় সর্বত্র। নড়েচড়ে বসেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। হারিছ কন্যা ব্যারিস্টার সামিরার মুখে আসা বিস্তারিত শুনে দেশবাসী হতবাক। শুরুর দিকের ঘটনা। ক্যাসেট কেলেঙ্কারির রিপোর্ট আজও মনে করিয়ে দেয় মানবজমিন সত্যের দালালি করে। মিথ্যাকে ঘৃণা করে। যে রিপোর্ট নিয়ে প্রধান সম্পাদক সাংবাদিকতা জগতের দিকপাল মতিউর রহমান চৌধুরী ও সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরীকে বার বার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। উচ্চ আদালতে এ রিপোর্ট সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ রিপোর্টের জন্য একজন বিচারপতিকে পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসেইন মুহম্মদ এরশাদের জেলও হয়। শুধু তাই নয়, রিপোর্ট সত্য প্রমাণিত হওয়ার পরও প্রধান সম্পাদক ও সম্পাদকের সাজা হয়। ছাব্বিশ বছরে এমন বহু রিপোর্ট মানবজমিনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। চলার পথে নানা সময়ে বিপত্তির মুখে পড়তে হয়েছে। মানবজমিনের বিরুদ্ধে হয়েছে মানববন্ধন। মানবজমিন কার্যালয়ে হয়েছে হামলা। কিন্তু সত্য ও বাস্তব মানবজমিনকে উৎরে নিয়ে গেছে। মানবজমিন পাঠকের সামনে সত্যকে তুলে ধরতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। যে কারণে মানবজমিন আজ পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। যে কারণে মানবজমিন আজ পাঠকের কাছে আস্থার জায়গা। লাখো পাঠক প্রতি সকালে চেয়ে থাকে মানবজমিনের দিকে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম রঙিন ট্যাবলয়েড মানবজমিন কোনো কিছুকে ভয় নয়, জয় করতে চায়। আর এমনটা চায় বলেই সাহস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মানবজমিনের কাছে তাদের পাঠকই আপন।
১৯৯৮ থেকে ২০২৪ সাল। চোখের পলকে যেন পেরিয়ে গেল ছাব্বিশটি বছর। প্রথম দিনের লিড নিউজ ‘হাসিনার চালে হতবাক খালেদা’। লুফে নেন পাঠক। যার ধারাবাহিকতা এখন পর্যন্ত ধরে রেখেছে মানবজমিন। দেশের তারকাখ্যাত বহু রিপোর্টার তৈরি হয়েছে মতিউর রহমান চৌধুরীর হাত দিয়ে। শুধু তাই নয়, এর মধ্যে ক’জন সম্পাদকও রয়েছেন।
সব বাধা-বিঘ্ন কাটিয়ে মানবজমিন এগিয়ে চলছে তার গতিপথে।
সত্যি বলতে কি, মানবজমিন একটি পরিবার। এ পরিবারের সুখ-দুঃখ একে অপরে ভাগ করে নেন। এভাবেই পেরিয়েছে ছাব্বিশটি বছর। কোনো দল বা গোষ্ঠী নয়। সত্যকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ কর্মরত সাংবাদিক-কর্মচারীদের সাহস বাড়িয়েছে। আর তাই তো নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আজ অনলাইন এবং প্রিন্ট আকারে মানবজমিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাংলাভাষী পাঠক সমাজে অন্যতম জনপ্রিয় শীর্ষ দৈনিক।
পত্রিকাকে এগিয়ে নিতে শুরু থেকেই ছায়ার মতো আছেন ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কে এম বাবর আশরাফুল হক। আর টেকনিক্যাল এডিটর হিসেবে দূর প্রবাস থেকে দেখভাল করছেন ড. মেহযেব রহমান চৌধুরী। ১৫ই ফেব্রুয়ারি সাতাইশ বছরে পা দেয়ার এ দিনে সবার প্রতি বিনম্র ভালোবাসা। রইলো শুভাশিস ও কৃতজ্ঞতা। সাতাইশে পা দেয়ার মুহূর্তেও মানবজমিন দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করছে- তার অবিচল লক্ষ্য থেকে পিছপা হবে না।
মানবজমিনের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। আশা করি সব সময় মানব্জমিনের থেকে এমন সত্য নিউজ সব সময় পাব।
MANY AMANY HAPPY RETURN OF THE DAY
অভিনন্দন মানবজমিন।দেশের সম্ভবত একমাত্র নির্ভরযোগ্য সংবাদপত্র। এগিয়ে চলুক আগামীর পথে, আরো শক্ত প্রতিরোধে,জনতার তরে।
অভিনন্দন, শুভেচ্ছা, শুভ কামনা।