ঢাকা, ১৫ জুন ২০২৪, শনিবার, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

শরীর ও মন

কখন মনে করবেন অটিজম চিকিৎসায় ভালো ফলাফল পাচ্ছেন

ডা. এমএ হক, পিএইচডি
২৮ জানুয়ারি ২০২৪, রবিবার

অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার এক ধরনের নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার; যেখানে অনেক ধরনের মানসিক সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা একসঙ্গে ঘটে। ফলে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিশুর পরিপূর্ণ মানসিক বৃদ্ধি ঘটে না। এ ধরনের নিউরোলজিক্যাল সমস্যায় মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়; জন্মগ্রহণের ১৮ মাস থেকে ৩ বছর বয়সের মধ্যেই শিশুর আচরণগত এবং মানসিক সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়। শিশুর কথা বলা বা ঠিকমতো শব্দ উচ্চারণ করা, নতুন বিষয় বুঝতে পারা বা শেখা কিংবা সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলা তার জন্য বেশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

লক্ষণ: শৈশব থেকেই অটিজমের লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেতে শুরু করে। শিশুরা এক বছর বয়সে অর্থবহ অঙ্গভঙ্গি করতে পারে, ১৬ মাস বয়স থেকে একটি শব্দ বলতে পারে এবং ২ বছর বয়সে ২ শব্দের বাক্য বলতে পারে কিন্তু অটিজম আক্রান্ত শিশুর মধ্যে এসব আচরণ দেখা যায় না। অটিজম শিশুরা তার সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায় না। অনেক শিশু ৩ বছর বয়স পর্যন্ত খেলাধুলা কথাবার্তা সব ঠিক থাকে কিন্তু হঠাৎ করে কথা বলা ও সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করে দেয়। এটাকে বলা হয় রিগ্রেসিভ অটিজম। নাম ধরে ডাকলে সাধারণত শিশুরা সাড়া দেয়, কিন্তু অটিজমে আক্রান্ত শিশুর নাম ধরে ডাকলেও সাড়া দেয় না। এ ধরনের শিশু আপনমনে থাকতে পছন্দ করে।

বিজ্ঞাপন
সবচেয়ে বড় কথা, এরা কারও চোখের দিকে তাকায় না। কারও দিকে তাকিয়ে হাসে না কিংবা আদর করলেও ততটা সাড়া দেয় না। সাধারণভাবে অটিস্টিক শিশুরা একই কথা বারবার বলে এবং একই কাজ বারবার করতে পছন্দ করে। অনেক অটিস্টিক শিশুর কিছু মানসিক সমস্যা যেমন অতি চঞ্চলতা, অতিরিক্ত ভীতি, মনোযোগের সমস্যা, ঘন ঘন মনের অবস্থা পরিবর্তন হওয়া, ঘুমের সমস্যা ইত্যাদি থাকে। সুচিকিৎসা না হলে অটিস্টিক শিশুরা বড় হয়েও স্বাভাবিকভাবে জীবন চালাতে পারে না।

অটিজম হলে সাধারণ লক্ষণ কেমন: অটিজম শিশুর নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বা মনোবিকাশের সমস্যা হয়। ব্রেনের নিউরোনসমূহ সঠিকভাবে তথ্য আদান-প্রদান করতে না পারায় শিশুর আচরণ, কথা-বার্তা ও বুদ্ধিবৃত্তি স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না।

চিকিৎসার কার্যকারিতা: হোমিওপ্যাথিতে অটিজম শিশুদের চিকিৎসায় ভালোমানের ওষুধ রয়েছে। সুনির্বাচিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে অটিজম শিশুদের বুদ্ধি, ধৈর্য, আই-কট্রাক্ট, আচরণ, কথা বলা ইত্যাদি বিষয়ে উন্নতি হয়। এ ছাড়াও অতিরিক্ত চঞ্চল শিশুদের আচরণও স্বাভাবিক হয়। অটিস্টিক শিশুদের সমস্যা যেহেতু ‘নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার’ সেহেতু প্রয়োজন নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার’ চিকিৎসায় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। চিকিৎসা শুরুর পর শিশুর মানসিক উন্নতি হলে, পূর্বের তুলনায় মনোযোগী এবং নিজের কাজ নিজে করার আগ্রহ তৈরি হলে বুঝতে হবে চিকিৎসা সঠিক হচ্ছে। তবে, একথা স্মরণ রাখতে হবে এই পরিবর্তন প্রথম দিকে ধীরে ধীরে হয়। অটিস্টিক শিশুদের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির সফলতা অভিভাবকদের নিকট  আশার আলো জুগিয়েছে।

লেখক: পিএইচডি (স্বাস্থ্য), এমফিল (স্বাস্থ্য), ডিএইচএমএস। চিকিৎসক ও গবেষক (ক্রনিক ডিজিজ অ্যান্ড নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার)।

চেম্বার: নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (ড. হক হোমিও ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের একটি প্রতিষ্ঠান), বিটিআই সেন্ট্রা গ্র্যান্ড, গ্রাউন্ড ফ্লোর (জি-৪), ১৪৪ গ্রিন রোড, পান্থপথ, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭০৭-০৭৩১৪১

 

 

শরীর ও মন থেকে আরও পড়ুন

   

শরীর ও মন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status