ঢাকা, ১৬ জুন ২০২৪, রবিবার, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

সময় অসময়

একটাই স্বপ্ন, একটাই আশা- ক্রিকেটই আমাদের অফুরান ভালোবাসা

রেজানুর রহমান
৩ অক্টোবর ২০২৩, মঙ্গলবারmzamin

ক্রিকেট নিয়ে অতীতে কি হয়েছে, কেন হয়েছে, কে বা কারা এর জন্য দায়ী এইসব প্রশ্ন করার সময় এখন নয়। এখন সময় বিশ্বকাপ ক্রিকেটে নিজের দেশের পক্ষে ক্যাম্পেইন করা। ক্রিকেটারদের মনোবল চাঙ্গা রাখার জন্য যার যার অবস্থান থেকে পদক্ষেপ নেয়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চর্চায় বাংলাদেশের অবস্থান বেশ উঁচুতেই আছে। আসুন না সবাই মিলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সরব করে তুলি। আসুন সবাই মিলে দেশের জন্য বিশ্বকাপ ক্রিকেট আনন্দে মেতে ওঠি। ক্রিকেট, একটাই স্বপ্ন, একটাই আশা। ক্রিকেটই আমাদের অফুরান ভালোবাসা। ক্রিকেটের জয় হোক।

ক্রিকেটে ঝগড়া যেন পিছু ছাড়ছে না। জাতীয় ক্রিকেট দল বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নিতে ভারতে গেছে।

বিজ্ঞাপন
সঙ্গে নিয়ে গেছে ঝগড়া। দেশের ক্রিকেটকে সাপোর্ট করে ঢাকায় সেলিব্রিটি ক্রিকেট লীগের আয়োজন করা হলো। অথচ সেখানেও ‘ঝগড়া’ চোখ রাঙালো। সাধারণ কোনো প্রতিযোগিতা, ক্লাসের পরীক্ষার ক্ষেত্রেও সন্তানের মঙ্গল কামনায় আমরা কতো কিছুই না করি। যার যার ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা করে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে রহমত চাই। ফকির, মিসকিনকে ভিক্ষে দেই। দোয়া চাই। জাতীয় ক্রিকেট দল বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গেছে। তাদের মঙ্গল কামনায় সারা দেশে সম্মিলিত প্রার্থনা অনুষ্ঠান চলবে, প্রচার মাধ্যমে প্রেরণামূলক অনুষ্ঠান, ফিলার প্রচার, প্রকাশ হবে। বিশ্বকাপ আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠবে গোটা দেশ, এটাই তো হওয়ার কথা নাকি? অথচ হচ্ছেটা কী? প্রচার মাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের ক্যাপ্টেনকে নিয়ে অব্যাহত গতিতে ‘ট্রল’ করা হচ্ছে। যে যার মতো করে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন দলের কোচকে। ক্রিকেটারদেরকে উৎসাহ দেয়ার নাম করে ঢাকায় সেলিব্রিটি ক্রিকেটের যে আয়োজনটি করা হয়েছিল সেখানেও মেলেনি কোনো ঐক্য। তাহলে সার্বিক পরিস্থিতি কি বলে? ক্রিকেট যুদ্ধে পাঠালাম সন্তানদের। ক্রিকেটের শক্তিধর একাধিক দেশের সঙ্গে ক্রিকেট যুদ্ধে নামবে তারা। এমন পরিস্থিতিতে মনোসংযোগকে গুরুত্ব দিয়ে আত্মবিশ্বাসকেই শক্তিতে রূপান্তর করার কথা ক্রিকেট যোদ্ধাদের। এজন্য সুষ্ঠু, সুন্দর পরিবেশ জরুরি। খেলাধুলায় আমাদের একমাত্র অহংকার ও অর্জনের জায়গা ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আমরা কি আদৌ সেই পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছি। 

পরিবারে অশান্তি দেখে পরিবারের কোনো সদস্যের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা অথবা প্রতিযোগিতায় মনোসংযোগ রক্ষা করা কী আদৌ সহজ হয়? ক্রিকেটের মতো কঠিন মনোসংযোগের খেলায় দল প্রধান অর্থাৎ ক্যাপ্টেন যদি বাহাসে জড়িয়ে যান, কোচ যদি নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলেন, সংশ্লিষ্ট বোর্ড যদি অস্থিরতায় ভোগেন তাহলে তো কাজের কাজ কিছুই হবে না। আবারো বলি পরিবারে অশান্তি দেখলে পরিবারের সদস্যদের মনোসংযোগ নষ্ট হয়। বাবা-মায়ের মধ্যে কোনো মিল নাই। পরিবারের বড়রা দুই ভাগে বিভক্ত। সন্তানদের বলা হলো তোমরা এসব নিয়ে চিন্তা করবে না। মন দিয়ে লেখাপড়া করো। মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। তাই কি হয়? মানুষের মতো মানুষ হওয়া কি এতই সহজ? এই যে আমাদের প্রিয় ক্রিকেটাররা তাদের ক্রিকেট পরিবারে এতকিছু অপ্রীতিকর ঘটনা দেখে শক্তিধর ক্রিকেট দেশের সঙ্গে ক্রিকেটের লড়াই করতে গেছে তাদের মন ভালো আছে তো? সাহস পাচ্ছে তো? হয়তো পাচ্ছে। কিন্তু আমাদের ক্রিকেট পরিবারের অবস্থা কী? দ্বন্দ্ব কি মিটলো? ঝগড়া কি মিটে গেছে? 

আমি একটা সহজ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের লড়াই তো আর হুট করে হচ্ছে না? এমন না যে ৬ মাস আগে তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এক বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শেষ করেই পরের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার নির্দিষ্ট তািিরখ ঘোষণা করা হয়। কাজেই দল গোছানো এবং প্রস্তুতি নেয়ার যথেষ্ট সময় ও সুযোগ থাকে। অথচ এবার বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য আমাদের দল গোছানো হলো একেবারে অন্তিম সময়ে। দল গোছাতে অন্তিম সময় পর্যন্ত কেন অপেক্ষা করতে হল? বিশ্বকাপ ক্রিকেট বলে কথা। অন্তত ৬ মাস আগে কি সবকিছু পরিষ্কার থাকা উচিত ছিল না? তারুণ্যই শক্তি। কিন্তু তারুণ্যের শক্তিকে যথার্থ অর্থে কাজে লাগাতে হলে অভিজ্ঞ প্রবীণদেরও গুরুত্ব দিতে হয়। 

এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে দল সাজাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কেন এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটি আমলে নেয়নি? বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার তামিমকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ক্রিকেট যে ধরনের নাজুক আলোচনা ও সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছে তা কি আদৌ কাঙ্ক্ষিত ছিল? কে না জানে তামিম আর সাকিব কতোটা ভালো বন্ধু। কেন তাদের বন্ধুত্বে চিড় ধরলো। তাও আবার বিশ্বকাপ ক্রিকেটের এই সময়? একটি ক্রীড়া বিষয়ক টিভি চ্যানেলে বাংলাদেশ ক্রিকেটে দলের ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসানের বক্তব্য শুনে যারপর নাই অবাক হয়েছি। তিনি বলেছেন, আমি তো ক্যাপ্টেনসি নিতে চাইনি। দলের প্রয়োজনে নিতে বাধ্য হয়েছি। সত্যি কথা বলতে কী ক্যাপ্টেনসি আমি এনজয় করছি না। সাকিব আরও বলেছেন, বিশ্বকাপ ক্রিকেট শেষ হওয়া মাত্রই তিনি ক্যাপ্টেন এর দায়িত্ব ছেড়ে দিবেন। সাকিবের এই কথার মধ্যে মান-অভিমান স্পষ্ট। দৃশ্যটা কল্পনা করুন তো। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসরে একটি দলের ক্যাপ্টেন বলছেন, বিশ্বকাপ শেষ হওয়া মাত্রই তিনি আর দায়িত্বে থাকবেন না। এতে কী দলের সদস্যদের মনোবল, মনোসংযোগ অক্ষুণ্ন থাকে? সাকিব আল হাসানের এই কথার মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অস্থির ভাবটি স্পষ্ট। 

আবারো সেই প্রশ্নটাই করি- যিনি ক্যাপ্টেনসি এনজয় করছেন না তাকেই কেন ক্যাপ্টেন এর দায়িত্ব দিতে হলো? তাও আবার বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মতো ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ আসরে? এর জবাব কী? আমরা একটা প্রতিযোগিতায় অংশ নিবো। তার জন্য আগাম প্রস্তুতি থাকবে না? বিশ্বকাপ ক্রিকেট তো আর ‘ওঠ ছেরি তোর বিয়া’র মতো ঘটনা নয়। ‘ওঠ ছেরি তোর বিয়া’র মধ্যেও কিছু প্রস্তুতি থাকে। আমাদের ক্রিকেট পরিবারে সেই প্রস্তুতিও কি আছে? যদি থাকে তাহলে শেষ বেলায় দল গোছাতে গিয়ে এত নাটকের অবতারণা কেন হলো? 

এবার আসি সেলিব্রিটি ক্রিকেট প্রসঙ্গে। সেলিব্রিটি ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত নাম সিসিএল। নাটক, চলচ্চিত্রের তারকাদের নিয়ে মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে দেশে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টটির আয়োজন করা হয়। উদ্দেশ্য, বিশ্বকাপ ক্রিকেটে দেশের ক্রিকেটারদের প্রতি সম্মান জানানো, ক্রিকেটে বাংলাদেশের জয় কামনা করা। ৩ দিনের এই টুর্নামেন্ট একটা বিতর্কের মধ্যে শেষ হয়েছে। টুর্নামেন্টে দুই দলের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। একজন কম বয়সের অভিনেত্রী দাবি করেছেন দেশের জনপ্রিয় একজন নায়ক নাকি তার প্রতি দুর্ব্যবহার করেছেন। তিনি নাকি কম বয়সী অভিনেত্রীর শরীরে হাত দিয়েছেন। এই নিয়ে তুলকালাম কা- ঘটে যায় মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে। ফলে কার্যত সেলিব্রিটি ক্রিকেট প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিসিএলকে ছি: ছি: এলো নামে অভিহিত করেছেন অনেকে। এখানেও আবেগ ও ইগো কাজ করেছে। কে সেলিব্রিটি, কে সেলিব্রিটি না, আবার কাকে সেলিব্রিটি বলবো, কাকে বলবো না এই বিতর্কে ক্রিকেটই মূলতঃ অসহায়ের কাতারে দাঁড়িয়েছে। 

লেখাটি শেষ করি, তার আগে ক্রিকেট নিয়ে একটি স্বপ্নের কথা বলতে চাই। ক্রিকেট নিয়ে অতীতে কি হয়েছে, কেন হয়েছে, কে বা কারা এর জন্য দায়ী এইসব প্রশ্ন করার সময় এখন নয়। এখন সময় বিশ্বকাপ ক্রিকেটে নিজের দেশের পক্ষে ক্যাম্পেইন করা। ক্রিকেটারদের মনোবল চাঙ্গা রাখার জন্য যার যার অবস্থান থেকে পদক্ষেপ নেয়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চর্চায় বাংলাদেশের অবস্থান বেশ উঁচুতেই আছে। আসুন না সবাই মিলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সরব করে তুলি। আসুন সবাই মিলে দেশের জন্য বিশ্বকাপ ক্রিকেট আনন্দে মেতে ওঠি। ক্রিকেট, একটাই স্বপ্ন, একটাই আশা। ক্রিকেটই আমাদের অফুরান ভালোবাসা। ক্রিকেটের জয় হোক।  

লেখক: কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, সম্পাদক আনন্দ আলো  

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

নির্বাচিত কলাম সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ/ তাসে কি তবে টোকা লেগেছে?

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status