ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, শনিবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

অনলাইন

গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে ইইউ’র সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত বাংলাদেশ

কূটনৈতিক রিপোর্টার

(২ সপ্তাহ আগে) ২৪ নভেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:৩৯ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৭:০২ অপরাহ্ন

mzamin

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক সংলাপে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে পার্টনারশিপ কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট (পিসিএ) করতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। সুবিধাজনক সময়ে ওই চুক্তি সম্পাদন হবে। এই চুক্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকছে। যার মধ্য গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল প্রাধান্য পাবে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে জোটের বৈদেশিক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত  উপমহাসচিব এনরিকে মোরা ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকের মাঝামাঝি অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের নেতা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এর আগে সচিব বা কর্মকর্তা পর্যায়ে সিরিজ আলোচনা হলেও এই প্রথম রাজনৈতিক নেতৃত্ব পর্যায়ে সংলাপ হচ্ছে। এই সংলাপে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে অংশীদারিত্ব সহযোগিতা চুক্তি করতে সম্মত হয়েছি আমরা। 

আলোচনা চলমান রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সঙ্গে ইইউ নিরাপত্তা ইস্যুতে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। যার মধ্যে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন, ইন্টারনেট সিকিউরিটি, অর্গানাইজড ক্রাইম, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সংযুক্তির মতো বিষয় রয়েছে।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এর নিরাপত্তার দিকটি যেমন আলোচনা করেছি, তেমনি তাদের মানবিক সহায়তা এবং এই সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধান তথা  প্রত্যাবাসন নিয়েও দীর্ঘসময় আলোচনা করেছি।  এ ইস্যুতে ইইউ তাদের অবস্থান এবং পদক্ষেপ তুলে ধরেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়ে আলোচনা তখনও চলমান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংলাপে আমরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশসহ জাতিসংঘের সদস্য বিভিন্ন দেশের সম্পর্কের বিষয়ে কথা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কথা হয়েছে। বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কিভাবে আরও সুসংহত করা যায় সেই পথ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। 

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে এনডোর্স করে ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান এনরিকো মোরা বলেন, আমাদের সম্পর্ক নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি, যার মূল ভিত্তি গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার। সামনে আমরা অংশীদারিত্ব সহযোগিতা চুক্তি করবো। গত ১০ বছরে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, মূলত দুটি কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চায় ইইউ। এক. বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দুই. ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক কিংবা রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ কোন ইস্যুতেই বাংলাদেশের ওপর কিছু চাপিয়ে দিতে চায় না ইইউ। বরং ঢাকার স্বাধীন সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের সম্মান রয়েছে বলে জানান তিনি।  

উল্লেখ্য, ২৭ রাষ্ট্রের জোট ইইউ’র সঙ্গে এশিয়ার দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান এবং জোট হিসেবে আসিয়ানের অংশীদারিত্ব  সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে।
 

পাঠকের মতামত

এক জাগায় দারিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য দুই রকম। সাহারিয়ার সাহেব গন তন্ত্র মানবাধিকার ও সুসাষনের ধারে কাছে ও নাই।

ফরিদ আহম্মেদ
২৫ নভেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ৩:০০ পূর্বাহ্ন

There are no terrorism or militancy in Bangladesh.This fascist regime making drama to mislead world powers to act against them.Evebody know the plots hatched including the recent one.The unelected rogue government manipulate everything a big mess

Anonymous
২৫ নভেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

দেশ ধংসের কিনারে দাড়িয়ে হলেও এটি টেনে ধরার মত কিছু একটা।

A R Sarkar
২৫ নভেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

EU Representatives emphasizes the issues of গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার, whereas represevtative of our unelected governement says something different pursuing to their own benefit adding the জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন, ইন্টারনেট সিকিউরিটি, অর্গানাইজড ক্রাইম, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, where is “Zangibad” or terrorism in this country? It is their (unelected regime’s) adopted device to supress the people, those come to the street for their right of democracy, livelihood, human rights. We the people of this country lost everything, No employment, no food, cost of living is far beyond our reach, no right to express our nightmare against all these severe irregularities and robbing country’s reserve & properties. in this severe circumstances people have no other alternatives than come to the street to vanish this tyrannical government.

muzaharulislam
২৪ নভেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১১:০৮ অপরাহ্ন

গনতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে চুক্তি করা হয়েছে। ধন্যবাদ উভয় পক্ষকে। এখন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বিরোধী দলের সভাসমাবেশ নির্বিঘ্নে করতে দেয়া। সমাবেশের পথে পথে মারপিট ও আচমকা কাপুরুষোচিত হামলা এবং পরে আবার মামলা দেয়া থেকে বাংলাদেশকে বিরত থাকা জরুরি। নাহয় চুক্তি অন্তঃসারশূন্যতায় পর্যবসিত হবে। বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশের সময় আলোচিত বিষয় হচ্ছে, বাস, লেগুনা সহ সকল প্রকার গণপরিবহন এমনকি ট্রাক ও টেম্পু পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটা কোনো গনতান্ত্রিক আচরণ না। এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশ আছে। সমাবেশের প্রচারণা চালানোর সময় উদ্দেশ্য প্রনোদিত ও অতিউৎসাহী হয়ে পুলিশ গুলি করে ছাত্রদলের একজন নেতাকে হত্যা করেছে। এটা খুবই নিন্দিত ঘটনা। এর আগে ভোলা, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত হয়েছে। এসব গুলির ঘটনায় বিএনপি মামলার আবেদন করেছে। কিন্তু আদালত থেকে মামলা খারিজ করে দেয়া হয়েছে। সুশাসন, মানবাধিকার ও গনতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হলে এমনটা কিছুতেই হতে পারে না। ২০১৮ সালে রাতের আঁধারে ভোটের অধিকার হরণ করেছে সরকার। দিনের ভোট রাতে করার বদনাম বহন করে চলছে সরকার। বোঝাটা দিন দিন ভারী হয়ে ওঠছে। সেই বদনামের বোঝা বহন করা এখন অনেক কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সুশাসন, গনতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি করেছে সত্য, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সামনের দিনগুলোতে কী করে তা দেখার বিষয়। মুখে গনতন্ত্রের খই ফুটলেও কাজে তা দেখা যায় না। বলা যেতে পারে চুক্তিটা বাধ্য হয়ে করেছে। যদি বিবেকের তাগিদে বা দংশনে চুক্তি করা হয় তাহলে রাজনৈতিক দলের সকল বন্দীদের মুক্তি দেয়া উচিত। কুমিল্লায়, রাজশাহীতে এবং ঢাকায় গাড়ি ঘোড়া বন্ধ না করে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে বিএনপিকে সমাবেশের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি বিএনপিকে অবাধে সমাবেশ করতে দেয়া না হয় তাহলে চুক্তিটা নাটকে পরিণত হবে।

আবুল কাসেম
২৪ নভেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১০:০০ পূর্বাহ্ন

It is not possible by an unelected Govt x 3 ( with out election in 154 seats , and where Police are involved in casting Vote over night , Ordinary people's vote is casted AL activists without their notice ) . A free & Fair election under care taker Govt. is needed.

Nam Nai
২৪ নভেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:৫৫ পূর্বাহ্ন

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অনলাইন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status