ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, শনিবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

শেষের পাতা

যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রপ্তানিতে ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
২৪ নভেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবারmzamin

তৈরি পোশাক খাতে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর ডেনিমে অবস্থান  সবার শীর্ষে। সাশ্রয়ী দাম আর গুণগত মান ভালো হওয়ায় এখানকার ডেনিমের কদর বিশ্বজুড়ে। সে সুবাদে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ ডেনিম রপ্তানি করেছে ৭৪ কোটি ডলারের। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৪২ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ কমার্সের অফিস অফ টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) সম্প্রতি এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। পোশাক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ডেনিম গার্মেন্ট সোর্সিংয়ের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়েছে প্রধানত একটি শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ এবং প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্যের প্রাপ্যতার কারণে কম লিড টাইম। এ ছাড়া বাংলাদেশ সবুজ শিল্পে বিনিয়োগ করছে, যা আমদানিকারকদের জন্য আরেকটি প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে। পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) পরিচালক ও মুখপাত্র মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ডেনিম সেক্টরে ভালো পারফর্ম করেছি এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন আমাদের অন্যতম প্রধান বাজার। তিনি বলেন, কিন্তু চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অক্টোবর থেকে আমাদের ডেনিম রপ্তানি আয় কমেছে।

 এ কারণে চলতি বছর শেষ হওয়ার পর প্রবৃদ্ধির হার কমে যাবে।

বিজ্ঞাপন
অটেক্সার তথ্য থেকে জানা যায়, গত বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ ডেনিম রপ্তানি করেছিল ৫২ কোটি ডলারের। চলতি বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৭৩.৮ কোটি ডলারের ডেনিম পণ্য। এর মাধ্যমে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৪২ শতাংশ। বাংলাদেশের পরই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডেনিম রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশটি রপ্তানি করেছে ৫৬.১ কোটি ডলার। আগের বছর একই সময়ে তা ছিল ৪৭ কোটি ডলার। এতে এ বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডেনিম রপ্তানিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। দেশটি এ সময়ে ডেনিম রপ্তানি করেছে ৩৭.৬ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ২৭.৫ কোটি ডলার। এতে এ বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৬.৬৩ শতাংশ। অটেক্সার প্রতিবেদন মতে, ৩৪ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। দেশটি বাজারটিতে ২০২১ সালের একই সময়ে পণ্য রপ্তানি করেছে ২৭ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। এই সময়ে চীনের পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৬ শতাংশ। গত ৯ মাসে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৯১ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের। যা এর আগের বছর ছিল ২৭ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। 

এ ছাড়া মিশরের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ১৭ কোটি ৮৪ লাখ ১০ হাজার ডলারের। এর আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১ কোটি ১৩ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬০ শতাংশ। কম্বোডিয়া থেকে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৬ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। এর আগের বছর ছিল ১১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৭ শতাংশ। নিকারাগুয়া থেকে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। এর আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারের। যা শতাংশের হিসেবে বেড়েছে ২৫ শতাংশ। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৫ কোটি ৭০ লাখ ৯০ হাজার ডলারের। যা এর আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। অন্যান্য শীর্ষ দেশ যেমন লিসোথো, কলম্বো, ইন্দোনেশিয়া এবং গুয়েতেমালা পোশাক রপ্তানি একই সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ-এর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আমরা ডেনিমে বিশ্বে এক নম্বরে অবস্থান করছি। আর তৈরি পোশাকে আমাদের অবস্থান দ্বিতীয়।

 সারা বিশ্বের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও ডেনিম রপ্তানিতে আমরা ভালো করছি। তিনি বলেন, ডেনিমে যে ফেব্রিক দরকার পড়ে তেমন কয়েকটি ফেব্রিক মিল আমাদের এখানে হয়েছে। পাশাপাশি ডেনিমে যে ওয়াশিং দরকার হয় তার জন্যও আমাদের বেশকিছু লন্ড্রি ও উন্নতমানের ওয়াশিং ফ্যাক্টরি রয়েছে। এসব কিছু মিলে আমরা ডেনিমে অনেক ভালো করছি এবং আগামীতে আরও ভালো করবো। ডেনিমে আমরা অনেক বিনিয়োগ করেছি।  উন্নত প্রযুক্তির বিষয়ে ফারুক হাসান বলেন, আমরা আরও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে পুরো উৎপাদন ব্যবস্থাপনা হালনাগাদ করেছি। নিট খাতে আমরা ভালো করেছি। নিটের ৮০ শতাংশের বেশি ফেব্রিক আমরা নিজেরাই করে থাকি। যেহেতু প্রায় সবকিছুই আমাদের নিজস্ব, তাই আশা করি ডেনিমে আমরা শীর্ষ অবস্থানটা ধরে রাখতে পারবো।

পাঠকের মতামত

ভারতের সাথে বাণিজ্য কমলে বা বাঁধাগ্রস্থ হলে বাংলাদেশ মরবে না। চীনের সাথে দূরত্ব বাড়লেও চলতে পারবে। কিন্তু আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্য সাথে সম্পর্কের অবনতি হলে বিপদ।

shishir
২৩ নভেম্বর ২০২২, বুধবার, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status