ঢাকা, ২৮ নভেম্বর ২০২২, সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

ড. ইউনূসের বই কিনে বিপাকে সংসদ

কাজী সোহাগ
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার

নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের লেখা বই কিনে ‘বিপাকে’ পড়েছে সংসদ। বইটি নিয়ে চলছে লুকোচুরি। একবার বইটি সংসদ সচিবালয়ের লাইব্রেরি কক্ষের শেলফে রাখা হচ্ছে। কখনো কোনো কর্মকর্তার রুমে থাকা শেলফে স্থান পেয়েছে বইটি। আবার কখনো শেলফে রাখা হলেও বইটি উল্টো করে রাখা হয়েছে, যেন বইয়ের নাম দেখা না যায়। তবে গতকাল থেকে বইটি আর খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। সর্বশেষ লাইব্রেরির যে কর্মকর্তার শেলফে বইটি উল্টো করে রাখা ছিল সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এভাবে গত দুই মাসে বইটির অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে ১৫ থেকে ২০ বার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মে ও জুন মাসে দুই দফায় চার শতাধিক বই কেনে সংসদ সচিবালয়। পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটিডের মাধ্যমে বইগুলো কেনা হয়।

বিজ্ঞাপন
এরমধ্যে ১৯শে জুন পাঞ্জেরীকে ৩৩টি বইয়ের চূড়ান্ত তালিকা দেয়া হয়। যার অর্ডার নং-১১.০০.০০০০.৬০৪.০৭.০৮৭.২২, তারিখ: ১৯-০৬-২০২২। 

এতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের লেখা-এ ওয়ার্ড অফ থ্রি জিরোস: দ্য নিউ ইকোনমিকস অফ জিরো প্রভার্টি, জিরো আনইমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড জিরো নেট কার্বন ইমিশনস বইটি তালিকাভুক্ত ছিল। অর্ডার অনুযায়ী গত ৫ই জুলাই বইটির দুই কপি সংসদ সচিবালয়ের লাইব্রেরির জন্য সরবরাহ করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে বইগুলোর দাম পরিশোধ করা হয়। এরপরই ড. ইউনূসের লেখা বইটি নিয়ে শুরু হয় টানাহেঁচড়া। সংসদ সচিবালয়ের বই নিয়ে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যরা প্রথম বইটি নিয়ে আপত্তি তোলেন। তারা জানান, বইটিতে সরকারবিরোধী নানা ধরনের লেখা ও মন্তব্য রয়েছে। তাই এ বইটি কেনা ঠিক হয়নি। সংশ্লিষ্টরা কোনোভাবে এ বইয়ের বিষয়ে জানতে পারলে লাইব্রেরিতে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হতে পারে। যাচাই-বাছাই কমিটির এ ধরনের মন্তব্যর পর লাইব্রেরিতে কর্মরত কর্মকর্তারা বইটি নিয়ে কি করবে তা বুঝে উঠতে পারছেন না। কারণ বইটির নাম চূড়ান্ত তালিকায় ছিল আবার তা কেনার পর দামও পরিশোধ করা হয়েছে। তাইতো প্রতিনিয়ত বইটির অবস্থান পরিবর্তন করা হয়। হাতেগোনা কয়েক এমপি সংসদ সচিবালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে আনাগোনা করেন। প্রথমে বইটি লাইব্রেরির শেলফে রাখা হলেও পরে তা সরিয়ে ফেলা হয়। লাইব্রেরিতে আসা কোনো এমপির নজরে যেন বইটি না পড়ে সেজন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে রাখা হয় উপ-পরিচালক (গ্রন্থাগার) জেব উন নেছার অফিস কক্ষে। 

তবে সেখানে বইটি উল্টো করে রাখা হয় যেন কারও নজরে না পড়ে। গতকাল সেখান থেকেও বইটি সরিয়ে ফেলা হয়। এ প্রসঙ্গে যাচাই-বাছাই কমিটির প্রধান ও পরিচালক (রিপোর্টিং) ওবায়দুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, সম্প্রতি কিছু বই কেনা হয়েছে। তবে তার মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কোনো বই ছিল কিনা তা এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে না। আপত্তি জানানোর বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি। বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা আমার মনে নেই। বিষয়টি নিয়ে জানতে উপ-পরিচালক (গ্রন্থাগার) জেব উন নেছার মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংসদ লাইব্রেরির এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, বইটি কেনার পর থেকে আমাদের মধ্যে আতঙ্ক পেয়ে বসেছে। প্রায় প্রতিদিনই বইটি শেলফ থেকে শেলফে সরিয়ে রাখতে হচ্ছে। অতি উৎসাহী কয়েকজন বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন। তারা ভয় দেখিয়ে বলছেন- সংসদে প্রতিনিয়ত সংসদ নেতাসহ সরকারি দলের নেতারা নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন। সেখানে সংসদ লাইব্রেরির কর্মকর্তাদের তার লেখা বই কেনা ঠিক হয়নি। কারণ ওই বইয়ে রয়েছে সরকারবিরোধী নানা ধরনের কথাবার্তা ও মন্তব্য। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথমে সংসদ লাইব্রেরি থেকে বইয়ের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। পরে তা অনুমোদন দেয় লাইব্রেরি কমিটি। ওই কমিটির প্রধান থাকেন পদাধিকার বলে ডেপুটি স্পিকার। কিন্তু তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া অসুস্থ হয়ে আমেরিকায় চিকিৎসাধীন থাকায় লাইব্রেরি কমিটির কোনো বৈঠক হয়নি। তাই লাইব্রেরি কর্মকর্তাদের তৈরি তালিকা অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত বইগুলো কেনা হয়। অন্যদিকে যাচাই-বাছাই কমিটি বইগুলো কেনার আগে কোনো আপত্তি জানায়নি। বই কেনার পরে তারা হঠাৎ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বইটি নিয়ে আপত্তি তোলে। এরপরই বইটি নিয়ে শুরু হয় লুকোচুরি। ২৮৮ পৃষ্ঠার বইটির প্রথম সংস্করণ বের হয় ২০১৭ সালে। রকমারিতে যার মূল্য দেয়া রয়েছে ১০৭৮ টাকা। বইটি প্রকাশ করে ভারতের বিখ্যাত প্রকাশনী সংস্থা হাচিতী ইন্ডিয়া।          

পাঠকের মতামত

এই বইটি নিলামে উঠানো হোক।

সোহেল
৩ অক্টোবর ২০২২, সোমবার, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

আমি ও বইটির মূল্য পরিশোধ করে নিতে ইচ্ছুক। দয়া করে আমাকে সুযোগটি দেন ।

kaziniam
১ অক্টোবর ২০২২, শনিবার, ১১:৪৮ অপরাহ্ন

আমি বইটির মূল্য পরিশোধ করে নিতে ইচ্ছুক। আমাকে বইটি দেওয়া যাবেকি?

Md.Sphere Alam
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ২:০১ পূর্বাহ্ন

বাঙ্গালী মনের সংকৃর্নতা দেখে কষ্ট পাই । আমরা জাতি হিসেবে এতোটা হীনমন্য কেন ? একমাএ বাংলাদেশী যিনি নোবেল জয়ী যিনি দেশটাকে পৃথিবীতে পরিচিত করেছেন । সরকারের বিরুদ্ধে লিখলে সমস্যা কী ? হা যদি কিছু বিরুদ্ধে হয় তবে এটা থেকে সংসদ গন ডকুমেন্ট দিয়ে তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে পারবে । যদি কিছুই জানেনা তবে বিরোধীতা করতে যাবে কিসের বলে । আমি হতোবাক ।

Md Aminur Rashid
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

বইটি আমি পড়েছি । এটি পৃথিবীর যে কোন পার্লামেন্ট লাইব্রেরীর জন্য আকর গ্রন্থ হতে পারে । হয়তো হয়েছেও তাই । এতে নুতন ভবিষ্যৎ সভ্যতা ও বিশ্বের ধারণা তিনি দিয়েছেন। যা বর্তমানের ব্যক্তিগত লোভের বাইরে বিকল্প সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। তাছাড়া বইটিতে বাংলাদেশের সরকার প্রসঙ্গে আলোচ্য কিছুই নেই ।

ফারুক ই আজম বীর প্রত
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ১০:০২ অপরাহ্ন

It's shame for our nation where parliament is called the place of exercising democracy but we are creating barrier to spread of democracy . We may have different opinion it does not mean his all ideas are incorrect ,at least we have to respect other opinion what ever it is . We do not know where we are going but it is certain we are walking in dark and it is too dangerous for gathering knowledge.

khan
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ৯:১০ পূর্বাহ্ন

কাউয়া চিনে ঢেউয়া কাঠাল.... এরা কি বুঝবে এই বইয়ের মর্ম... দয়া করে আমাকে বইটি দেয়ার ব্যবস্থা করুন। আমি এই বইটি অনেকদিন ধরেই খুঁজছি। উপযুক্ত মুল্য পরিশোধ করে কিনে নিবো।

আকলিমা বেগম
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ৮:২২ পূর্বাহ্ন

আওয়ামীলীগ লোগী-বইঠা-পিস্তলের দল। তাঁরা বইয়ের এই বইয়ের মর্ম কি বুঝবে?

Kazi
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ৫:০৮ পূর্বাহ্ন

বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার দেশটাকে এক মতাদর্শের রুপান্তর করে ফেলেছে, এটা ঠিক না,তারমানে এই দল কোনমতেই গনতন্ত্র কে বিশ্বাস করেনা আমরা বহুদলীয় গনতন্ত্র চাই। সব কিছুর পক্ষে বিপক্ষে মতামত থাকবে সবাইকে সহনশীলতা দেখাতে হবে তবেই না সমৃদ্ধির পথে আমরা ধাবিত হব।

হামিম
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ২:৫৪ পূর্বাহ্ন

Shame!Shame!Shame! Bangladesh is a country everywhere dirty politics & oiling are available.

Iqbal Mirza
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ২:০৮ পূর্বাহ্ন

ওখানে এমন বই পড়ার লোকের অভাব তাই

Akhlaq Ahmed Chowdhu
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ১১:৩৭ অপরাহ্ন

বই টি আমাকে দিয়া দেন,ডাবল টাকা দিব

Md.Shahed Sultan
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ১১:০৫ অপরাহ্ন

এটাই তো এখন চলছে। এখানে ছিঃছিঃ করার কিছুই নেই। সব কিছুই তো এভেবে পচে গেছে।

Md.Shahed Sultan
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ১০:৫৬ অপরাহ্ন

এসব দেখে মনে হয় বাংলাদেশের মানুষ অজ্ঞতার দিকে ফিরে যেতে বেশী আগ্রহী।

Md Sharifuzzaman
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ১০:০৬ অপরাহ্ন

নোবেল জয়ীর বইটি বিরোধিতার জন্যে হলেও তা পড়তে হবে এবং সে চর্চার জন্য সংসদ লাইব্রেরিই হলো বইটির সঠিক স্থান!

Borno bidyan
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ৯:১৬ অপরাহ্ন

হায় আল্লাহ্ এমন দেশে জন্ম দিলা!!!

দয়াল মাসুদ
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ৭:৩০ অপরাহ্ন

যিনি দেশের জন্য নোবেল বিজয় করে নিলেন আর তার লেখা বই পার্লামেন্টে লাইব্রেরীতে থাকতে পার বেন না, কতটা নিচু মনের হলে এটা নিয়ে অপরাজনীতি করা যেতে পারে।চি চি চিন্তা করতে পারছিনা।

Faiz Ahmed
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ৪:০৪ অপরাহ্ন

সংবাদ ভাষ্যটিতে সেল্ফ বদলের লুকোচুরি খেলাটি উপভোগ্য ছিল। বইটিতো বাংলাদেশে নিষিদ্ধ নয়। গনতন্ত্র ও লাইব্রেরি বিধির বরখেলাফও নয়। তার পরও বইটি সংসদ গ্রন্থাগারে সংরক্ষন অসম্ভব হলে কৃতমূল্যে বা অন্য বইয়ের বিনিময়ে স্যারের অকৃতি অধম ছাত্র হিসেবে ফেরৎ নিতে প্রার্থনা রইলো।

মোহাম্মদ হারুন আল রশ
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ১২:২৭ অপরাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

প্রথম পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status