ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

বিএনপি’র সমাবেশ

গণআন্দোলনের প্রস্তুতির ডাক

স্টাফ রিপোর্টার
১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার

নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ। ছবি: জীবন আহমেদ

সরকার পতনের দাবিতে আগামীতে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে দলের নেতাকর্মী ও সমমনা দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে । অনেকেই বলে আওয়ামী লীগ একটি ফোর টোয়েন্টি পার্টি। আমি এই কথার সঙ্গে একমত। আমি এর সঙ্গে যোগ করে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ একটা প্রতারক দল। দেশের বিচার বিভাগকে এই সরকার দলীয়করণ করেছে। এই দেশের সংবিধানকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছিল আমাদের সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে চারটা নির্বাচন হয়েছে। প্রত্যেকটি নির্বাচনই অবাধ এবং সুষ্ঠু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের আজকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে তারা বাতিল করেছে। সেই দিন থেকেই এই দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা তারা ধ্বংস করে দিয়েছে।  গতকাল নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে। এতে ঢাকার আশপাশের জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নেন। 

 সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ ঘিরে দুপুরের পর নয়া পল্টন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। হাজারো নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সকাল থেকেই সমাবেশে আসতে থাকেন। দুপুরের দিকে নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশ বন্ধ হয়ে যায়। পুরো এলাকায় অবস্থান নেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।  এ সময় নেতাকর্মীরা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এদিকে সমাবেশ ঘিরে যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। সমাবেশস্থল ও আশেপাশের এলাকায় মোতায়েন ছিল বাড়তি পুলিশ সদস্য। প্রস্তুত রাখা হয়েছিল প্রিজন ভ্যান, জলকামান ও সাঁজোয়া যান। পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিল বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকের পুলিশ। শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ হলেও সমাবেশে আসার সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা।     প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা সরকারকে বলতে চাই, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। এই মুহূর্তে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। নতুন নির্বাচন দিয়ে সংসদ গঠন করতে হবে।  দলের নেতাকর্মীদের রাজপথ দখলের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি’র মহাসচিব বলেন, আমাদের রাজপথ দখল করতে হবে। রাজপথ দখল করে গণআন্দোলনের মধ্যদিয়ে এ সরকারকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তরুণ সমাজই দেশকে স্বাধীন করেছে। 

আমরা যখন তরুণ ছিলাম, যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছি। আজ আবারো এ তরুণ সমাজকে জেগে উঠতে হবে। তরুণদের নতুন করে দেশ স্বাধীন করতে হবে। সেই স্বাধীনতা হবে আমাদের গণতন্ত্রের। বিএনপি’র মহাসচিব বলেন, সংগ্রাম শুরু হয়েছে, লড়াই শুরু হয়েছে। এ লড়াই আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই। এ লড়াই বিএনপি’র নয়, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বাঁচা-মরার লড়াই। আমাদের লড়াইয়ে শরিক হতে হবে, ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এ লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে আমরা ফ্যাসিস্ট, দানবীয়, মাফিয়া সরকারকে পরাজয়ের মধ্যদিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। তিনি বলেন, আগামীকাল (আজ শুক্রবার) উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ আছে। আগামী ২২ তারিখ থেকে আমরা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বো। প্রতিটি উপজেলায় শন্তিপূর্ণ সমাবেশের মধ্যদিয়ে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মাধ্যমে এ সরকারকে বিতাড়িত করতে বাধ্য করবো। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান ফখরুল।  স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের আর বসে থাকলে চলবে না। আঘাতের প্রতি উত্তরে পাল্টা আঘাত করতে হবে। আত্মরক্ষার্থে হাতে লাঠি নিতে হবে। যেখানে আঘাত করার সেখানে আঘাত করতে হবে। চলার পথে যেখানে হাত তুলতে হয়, সেখানে তুলবেন। 

স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এই সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা নেই। একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করে সরকার টিকে থাকতে চায়। দেশকে বিরোধী দলহীন করার জন্য সন্ত্রাসী বাহিনী ও সরকারি যন্ত্রকে লাগামহীনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্তৃত্ববাদী একদলীয় শাসনের অবসান ঘটাতে হবে। তা না হলে দেশ থেকে দুর্দিন কখনও দূরীভূত হবে না। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপি’র সদস্য সচিব আমিনুল হক ও রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আহমেদ আজম খান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।    


 

পাঠকের মতামত

You can only offer "appetizers" but not the "main course".

Nam Nai
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১১:২০ পূর্বাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

প্রথম পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status