ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৪ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

মধ্যরাতে জ্বালানির রেকর্ড লাফ

স্টাফ রিপোর্টার

(১ সপ্তাহ আগে) ৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১১:০৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

মধ্যরাতে ফিলিং স্টেশনে ভিড়। ছবি- জীবন আহমেদ

মধ্যরাতে রেকর্ড পরিমাণে বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম বেড়েছে ৩৪, অকটেন ৪৬ এবং পেট্রোল ৪৪ টাকা। গতরাত ১২টার পর থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে রাতে অনেকটা আচমকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কথা জানায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪২.৫% বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ১১৪ টাকা। পেট্রোলের দাম ৫১.১৬% বেড়ে প্রতি লিটারের দাম হয়েছে ১৩০ টাকা। আর অকটেনের দাম বেড়েছে ৫১.৬৮%, প্রতি লিটার কিনতে গুনতে হবে ১৩৫ টাকা।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বৈশ্বিক বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার কারণে বাংলাদেশ প্রেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পরিশোধিত এবং আমদানি করা ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ইতিহাসে আগে কখনও জ্বালানি তেলের দাম একসঙ্গে এতটা বাড়ানো হয়নি। এবার ভারতের সঙ্গে দামের পার্থক্য পুরোপুরি দূর করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি তেল খাতে সরকারের ভর্তুকি একেবারে কমিয়ে আনার পদক্ষেপ এটি। সরকার আইএমএফ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

বিজ্ঞাপন
আইএমএফের ঋণের শর্তের মধ্যে অন্যতম হলো জ্বালানি খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহার। জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সে শর্ত পূরণ করা হচ্ছে বলেও অনেকে বলছেন। 

এর আগে গত বছরের ৪ঠা  নভেম্বর থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ থেকে ৮০ টাকা করে সরকার। তবে অকটেন ও পেট্রোলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। এবার এত বেশি  দাম বাড়ানোর চাপ অর্থনীতি নিতে পারবে না বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম। তিনি বলেছেন, দাম কিছুটা বাড়ানো হবে, এই আশঙ্কা ছিল। তবে সেটা সহনীয় পর্যায়ে রাখা যেত। যতটা বাড়ানো হয়েছে, তা চিন্তার বাইরে।
দাম বৃদ্ধির ঘোষণা চাউর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাতে চারদিকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। ফিলিং স্টেশনে গাড়ি, মোটরসাইকেল নিয়ে ভিড় করতে থাকেন অনেকে। তবে ফিলিং স্টেশনগুলো বিক্রি বন্ধ করে দেয়। মূল্যস্ফীতির চাপে এমনিতেই কাবু মানুষ। এখন পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবেলা করবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকে। 
 

প্রতিমন্ত্রী যা বলেছিলেন
গতকালই দিনের বেলায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ‘যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার সময় এসেছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল রাজধানীর বারিধারায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির এই ইঙ্গিত দেন। ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ভাবনার কথা গত সপ্তাহ থেকেই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মুখে শোনা যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ-জ্বালানি বিষয়ে এফবিসিসিআই’র আলোচনায় প্রয়োজনে দাম বাড়িয়ে হলেও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি উঠেছিল কয়েকজন ব্যবসায়ীর কণ্ঠে। তার পরদিনই প্রতিমন্ত্রীর কথায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো। গত ৫ই জুন গ্যাসের দাম এক দফায় ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ানো হয়েছিল সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন খুচরায়ও দাম বেড়েছিল। 

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি কমিটি পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম ৫৮ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে গত মে মাসে, যার ওপর এ মাসেই সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের প্রাইসের অ্যাডজাস্টমেন্টের ব্যাপারে আমরা অপেক্ষায় আছি। গ্যাসের ব্যাপারে আমরা আরেকটা অ্যাডজাস্টমেন্টে যেতে চাচ্ছি। তেলেও একটা অ্যাডজাস্টমেন্টে যেতে হবে। তেলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যেহেতু বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী, সেই জায়গায় আমাদের খুব চিন্তাভাবনা করতে হবে। এটার সরাসরি প্রভাব পড়ে জনগণের ওপর। ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন এগুলো যেন একটা সহনীয় পর্যায়ে থাকে। দেশ ও দশের কথা চিন্তা করে আমরা একটা অ্যাডজাস্টমেন্টে যাবো। বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিতভাবে জ্বালানির দাম সমন্বয় করার পক্ষে মত দিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ‘যদি বাড়তির দিকে থাকে, তবে বাড়তি, যদি কমতির দিকে থাকে তাহলে কমতির দিকে। এখন যেহেতু বাড়তির দিকে, তাই পার্শ্ববর্তী দেশ ও বিশ্বের অবস্থা বিবেচনায় একটা অ্যাডজাস্টমেন্ট হওয়া উচিত। যদি বিশ্ববাজারে দাম কমে আসে, আমরাও চেষ্টা করবো সেই অনুযায়ী দাম কমাতে।’ 

কিছুদিন আগে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে, সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে দামটা বাড়িয়েছি সেটা গত বছরের ডিসেম্বরের পরিস্থিতি বিবেচনায়। সে কারণে আমি মনে করি গ্যাসে আমাদের আরেকটা অ্যাডজাস্টমেন্ট হওয়া উচিত। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৭০ ডলারের ওপরে উঠে গেলেই আমরা লোকসানের মধ্যে পড়ে যাই।’ ইতিমধ্যে বিপিসি নিজের থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার মতো লোকসান দিয়েছে। তাই আমি মনে করি বিশ্ব বাজারের সঙ্গে একটা অ্যাডজাস্টমেন্ট থাকা উচিত। না হলে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। উন্নত বিশ্বের সব দেশেই এভাবে সমন্বয় করতে হচ্ছে মন্তব্য করে নসরুল হামিদ বলেন, আমরাই কেবল বসে আছি। তেলের মার্কেটে এখন পুরোপুরি লস দেয়া হচ্ছে। পাশের দেশে তেলের দাম বাড়ছে, সঙ্গে সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতেছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এমন হচ্ছে। ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালে জনজীবনে যে প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী; দাম বাড়ালেও কৃষি খাতে দাম অপরিবর্তিত রাখার ইঙ্গিত দেন। 

ডিজেলের ক্ষেত্রে কৃষিতে সরকার ভর্তুকি দিয়ে যাবে। সবচেয়ে বেশি তেল ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। খুব বেশি পরিবর্তন হবে না বলে আমরা হিসাব করে দেখেছি। এজন্য আমরা বিআরটিএ, বিআইডব্লিউটিএ, পরিবহন মালিক সমিতি, ট্রাক মালিক সমিতি সবার সঙ্গে বসে আলোচনা করে ঠিক করার চিন্তা করছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি ডিজেলের দাম বাড়লে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়ে ১ টাকা থেকে ২ টাকা। বিষয়টা যদি ওই রকমভাবে সমাধান করা যায়, অবশ্যই অ্যাডজাস্টমেন্ট করা উচিত। দেশীয় চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকায় দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি বিশ্ববাজার থেকে আমদানি বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান নসরুল হামিদ। আবার দেশীয় উৎপাদনের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে একেক সময় একেক ধরনের তথ্য পেয়ে কিছুটা বিভ্রান্তির শিকার হওয়ার কথাও বলেন নসরুল হামিদ। গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে আমরা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে যাবো। যারা আমাদের কাছে প্রস্তাব করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে। যারা এখনো প্রস্তাব করেনি, তাদের সঙ্গেও আলোচনা হবে। বিশেষ করে কাতার এখনো প্রস্তাব পাঠায়নি। তাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আমাদের আলোচনা এবং চুক্তিতে যেতে হবে। এর বাইরে গ্যাসকূপ খননে বাপেক্সসহ বিদেশি কোম্পানিগুলোকে কাজে লাগাবো। এজন্য আমরা টেন্ডার করবো।

পাঠকের মতামত

মধ্যরাতের চোরা সরকার মধ্যরাতের কর্মে পারদর্শী । আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে তেলের দাম কমে গেছে সেখানে লুটেরারা তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে । এই মহা লুটপাটের শেষ হবে কবে, পাঞ্জেরী ?

mamun
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১১:১৮ অপরাহ্ন

হে আল্লাহ তুমি এদের উপযুক্ত প্রতিদান দাও। আরতো পারছি না।

সৈয়দ মুরাদ
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১০:৩৪ অপরাহ্ন

সবকিছুই নিয়ন্ত্রণহীন দিশাহারা হয়ে সরকার একেবারে শেষ চেষ্টা করার মত পরিস্থিতি মনে হচ্ছে। দেশের কঠিন অবস্থা বিপদর্জয়ের জন্যে সরকার কাকে দায়ী করবেন? বাংলাদেশ কি শ্রীলঙ্কা হবে? পরিস্থিতি পরিবেশ সেদিকেই যাচ্ছেন। তেল দান বাড়িয়ে সরকার। কৌশলে সকল জ্বালানি প্রতিষ্টান পাম্প বন্ধ করতে বিচক্ষন কৌশলী খেলা শুরু করেছেন। মধ্যে রাত কালবৈশাখীর মত লন্ড বন্ড করে দিলো। সরকারের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন হারিয়ে পেলেছেন। এই মুহূর্তে দেশের ধ্বংস কাম‍্য নয়। ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা কলতে হবে। সকল পক্ষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ কে বাচাতে হবে। ধন্যবাদ

অশিক্ষিত মানুষ।
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১০:১২ অপরাহ্ন

সেই দিন হইতে মধ্যরাত তাহাদের নিকট অতি প্রিয় হইয়া উঠিল!

মোহাম্মদ হারুন আল রশ
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৯:২৩ অপরাহ্ন

আমাদের দেশে বাড়াবাড়ির কারবারটা রাতেই হয়....

Shwapnohin
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৮:৫৩ অপরাহ্ন

জ্বালানি তেলের দাম গত বছর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একবার বাড়ানো হয়েছিলো। তখন পরিবহন মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধির জন্য ধর্মঘটের ডাক দেয়। তাঁদের ধর্মঘটের ফলে বহু প্রার্থী চাকরির ইন্টারভিউ দিতে পারেনি ০৫ নভেম্বর শুক্রবার এবং পরেরদিন ০৬ নভেম্বর শনিবার বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি অনেক শিক্ষার্থী। জনজীবনে দুর্ভোগ ছাড়া আমরা আর কিইবা পেলাম! এখন আট মাসের মধ্যে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে একলাফে গলা চেপে ধরার মতো। অস্বাভাবিক, অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয় এবং অভূতপূর্ব হাইজাম্প দিয়ে এই দাম বাড়িয়ে দেয়ার অনিবার্য ফল হিসেবে মানুষের জীবনে বিপুল পরিমাণ চাপ তৈরি করবে যা ধৈর্য সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। পত্রিকার খবরে জানা গেছে, 'জ্বালানি তেলের দাম যে পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে, তাতে যাত্রীদের ওপর চাপ বিপুলভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রমেশ ঘোষ। তিনি বলেছেন, এর আগে এক দফায় জ্বালানি তেলের দাম এতটা বাড়ানোর নজির আছে কি না, তা মনে পড়ছে না। জ্বালানির দাম বাড়ানোর এই হারকে অস্বাভাবিক আখ্যায়িত করেছেন শ্যামলী পরিবহনের স্বত্বাধিকারী রমেশ ঘোষ। দ্রব্যমূল্যের ওপরও এর প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।' (প্রথম আলো ০৬ আগস্ট ২০২২) ২০১৮ সালের নির্বাচনে সরকারের একটি ভুল পদক্ষেপের কারনে মানুষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছে দলীয় সরকারের অধীনের নির্বাচনে মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা করা অসম্ভব। এজন্যই সেই অতীত আবার ফিরে আসতে চায়- নির্বাচন কালীন তত্বাবধায়ক সরকার। এখন পত্র পত্রিকায় ব্যপকভাবে আলোচিত হচ্ছে সরকারের ঘনিষ্ঠজনদের সুবিধা দিতে গিয়ে কুইক রেন্টাল কোম্পানি থেকে বাড়তি দামে বিদ্যুৎ কিনে হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্ছা দেয়া হয়েছে। যার কারণে আজকের বিদ্যুৎ ঘাটতি। তা মোকাবিলা করা হচ্ছে লোডশেডিং করে। ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে- দৈনন্দিন কাজকর্ম ও উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। এখন জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দুর্ভোগের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর করা হয়েছে। অথচ, সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে অপচয় ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরলে অনেক অর্থের সাশ্রয় করা সম্ভব ছিলো। সমালোচকরা বলেছেন দেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে। ডলারের ঊর্ধ্বমুখি, রিজার্ভের পরিমাণ কমে যাওয়ার কথা তাঁরা বলছেন। সরকার এসব স্বীকার না করে বলছে সবকিছু ঠিকঠাক আছে। তাহলে ঋণের জন্য আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংকের পেছনে ছোটাছুটি এবং জনগণের ওপর এই যে প্রচণ্ড আঘাত কেনো? জুন মাসে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। ওয়াসার পানির দামও বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা শোনা যাচ্ছে। গতকাল মধ্যরাতে জেলায় জেলায় পেট্রোল পাম্প গুলোতে বিক্ষোভ করেছেন গাড়ির চালকেরা জ্বালানি না পেয়ে। অনেক দিন থেকে বাজারে জিনিসপত্র অগ্নিমূল্যে মানুষ দিশেহারা। এখন জ্বালানির বাড়তি চাপে মানুষ ধরাশায়ী হলো। সহ্যের ক্ষমতা একটা জাতির কতোটা তা পরীক্ষা করতে গিয়ে কেউ দেশকে শ্রীলঙ্কার বিপর্যয়কর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিলে কার কি বলার আছে। পত্রিকায় লিখেছে, 'ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আইএমএফের ঋণ পাওয়ার শর্ত ছিল ঘাটতি সমন্বয়। দাম বাড়িয়ে ঘাটতি সমন্বয় করতে গিয়ে জনগণের ওপরের যে আঘাত হানা হয়েছে, তা সিডর–আইলার মতো ঘূর্ণিঝড়কে হার মানায়। এম শামসুল আলম বলেন, দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করেও ঘাটতি সমন্বয় করা যেত। সরকার সেই পথে হাঁটেনি। জ্বালানি তেলের দাম গণশুনানি করে বাড়ালে তা সহনীয় থাকত। এখন যে ‘টর্নেডো’ চালিয়ে দেওয়া হলো, তাতে ভোক্তার অধিকার তছনছ হয়ে গেছে।' (প্রথম আলো ০৬ আগস্ট ২০২২) বাঙালির একটা প্রবাদ আছে, 'পেটে দিলে পিঠে সয়'। এখন শুধু পিঠের ওপর একটার পর একটা বজ্রাঘাত হানা হচ্ছে, কিন্তু পেটের দানাপানির খবর নেই। কাল মধ্যরাতের আঁধারে মানুষ বের হয়েছে, বিক্ষোভ করেছে তা দিনের আলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে মানুষের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে বাঁচার তাগিদে। গ্রামে গঞ্জে দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার ঘিরে একটি প্রবাদ, 'মরারে মারছ কেন?- নড়েচড়ে কেন?' করোনার ঘাত-প্রতিঘাত থেকে মানুষ ঘুরে দাঁড়াতে নড়াচড়া করছে দেখে যদি ধরে নেয়া হয় মানুষ খুব সুখে আছে এবং চাপের পর চাপ সহ্য করে নেবে তাহলে অংকটা নির্ভুল নয়। ভুল পথে নির্বাচন করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়া প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, এখন জনজীবনের ওপর আঘাতের পর আঘাত করে যদি দেশকে শ্রীলঙ্কার দশা করা হয় তা ভাবতে অবাক লাগে। দুর্নীতি, অপখরচ, অপব্যায় ও দৃশ্য অদৃশ্য লুটপাটের লাগাম টেনে ধরা না হলে জনগণের পিঠের ওপর একটার পর একটা আঘাত হানা হতে থাকবে, জনগণ সয়ে নেবার জন্য প্রস্তুত তো?

আবুল কাসেম
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৮:২৮ অপরাহ্ন

১৩৭৬ এর দুর্ভিক্ষের প্রথম ধাপের সূচনা হল।

মোঃ মুস্তফা সুলতান
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৮:১৩ অপরাহ্ন

বিশ্যয়কর আজব জাতি বটে - জ্বালানি তেলের মূল্য বিরদবীতে সবাই নিজেদের জান বাহন নিয়ে গ্যাস স্টেশনে ছুটে গিয়ে তেল নেওয়ার জন্য ভিড করছে।মানে তারা সাতদিনের তেল বড় জোর স্টক করে মনে করছে অননত্যকাল সেই তেল দিয়েই জিবন পার করে দিবে। সাময়িক ভাবে চলতে পারলেই মহা লাভবান এবং ভাগ্যবান মনে করছেন নিজেদের। আরে ভাই গড়ে চল্লিশ টাকার উপর লিটারে তেলের দাম বাড়লো লোকজনের কি রাস্তায় নেমে তিব্র প্রতিবাদ করা এবং বিক্ষোভ করে রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিলো না ? এই জালানি তেলের মূল্য বিরধির সাথে জনজীবনের নিত্য পরয়জনিয় সমস্ত কিছুর দাম হু হু করে বাড়বে। সাধারন মানুষ আরো নিদারুন কষ্টের মধ্যে পড়বে।সরকার আই এম এফ এর ঋণ পেতে গোপনে তার সমস্ত শর্ত পূরন করছে এবং লুটপাটের ফলে যে বৈদেশিক মূদরার ঘাটতি দেখা দিয়েছে তা চারশত পনচাশ বিলিয়ন ডলার ঋণ করে তা পুষাতে জনগনকে বলির পাঠা বানাচ্ছে। এর পর বিদ্যুৎ গ্যাস পানি টেকস এর আওতা বাড়াবে এবং মেংগো পাবলিক তার খেশারত দিতেই থাকবে।গত পনেরো বৎসরে এক শ্রেনির আধা শিক্ষিত চাটুকার গোষ্টি সর্ব খানে বিরাজমান এরা জনগনকে এখন রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ ,চিন মার্কিন সম্পর্ক ,থেকে গ্লোবাল কারাইসিস সব বুঝিয়ে কয়েকদিন বয়ান দিবেন এবং পরিস্তিতি ঠান্ডা করতে একযোগে মাঠে নামবেন আর মিডিয়ার জিল্লু মিয়াদের তো মহা উৎসব শুরু হবে কারন তাবৎ তাবৎ বড় বড় নেতারা টক শো করে ঠান্ডা ঘর গরম করে ফেলবেন আগাম টাকা বুকিং দিয়েও অনেকে টিভি পরদায় চেহারা দেখাতে এই উপলক্ষে ব্যাসত সময় কাটাবেন এবং আমাদের মহামহিম তথাকথিত বিরোধি দলের পেইডরা বলবেন শান্তিপূর্ণ সুশিরঋল প্রতিবাদের মাধ্যমে সরকার বদল করবেন ! বিচিত্র এক জাতি প্রতিবাদের ভাষা কি ভাবে হবে তাও জনতাকে তথাকথিত নেতারা মিরততুর পর জানাযায় সমবেত কর্মিদের বুঝিয়ে দেন ।তবুও হরতাল আন্দোলনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ দেন না।আর জালানি তেলের দাম বাডলে কি যায় আসে যেখানে পরিকল্পিত ভাবেই ভোলাতে লোডশেডিং এর প্রতিবাদ করায় দলের এতজন করমি আহত দুজন নিহত হলো সেখানে আতাত করা নেতারা শান্ত মাথায় হিসাব করছেন যেন জনগন অতিকষ্ট করতে করতে শিরলংকার দশায় পৌঁছাক তার পর উনারা সুযোগ নিয়ে সুবিধা নিবেন।এটা কি উচিত ছিল না জরুরি বৈঠকে বসে তাৎখনিক ভাবে বিরোধি রাজনৈতিক দলগুলি জনগনকে সংঘঠিত করে তিব্র প্রতিবাদ করা ? এই জাতির পক্ষে চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করা সম্ভব নয় যেটা শিরলংকার ছিয়ানববই ভাগ শিক্ষিত এবং সশিক্ষিত মানুষ রাস্তায় নেমে আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা অন্তত করেছে সেখানে আমরা সয়াবিন পেয়াজ লবন চাল পেট্রল কে কার আগে বেশি মজুদ করতে পারি তাতে হুঁশ জ্ঞান হারিয়ে সস্তা মানুষ হিসাবে অসচেতন জিবনকে স্বার্থপরের মতো বেছে নিয়েছি।শিক্ষা ব্যবসতাকে ধিরে ধিরে গত একযুগে পংগু করে দিয়ে একটি মেরুদন্ডহীন জাতির উদ্ভাবন হয়েছে যারা সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সমস্ত কিছু মেনে নিয়ে চুপ করেই থাকবে।সামনে আরো কঠিন দিন আসছে -সাতদিন আর একমাসের মজুদ করে কিছুই করতে পারবেন না।সময়ে সচেতন হোন প্রতিবাদ করুন।

Mustafa Ahsan
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৮:১২ অপরাহ্ন

আমাদের ইনকাম বিশ্বের সাথে সমান্তরাল না! আমাদের গণতন্ত্র, আমাদের প্রশাসন, আইন ব্যবস্থা, জীবনযাত্রার মান, মানবধিকার কোনো কিছুই আন্তর্জাতিক মানের ধারে কাছেও নেই! অথচ কথায় কথায় আমাদেরকে আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের দোহাই দিয়ে জ্বালানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষ পত্রের দাম বৃদ্ধি করা হয়! ইতিমধ্যে ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, এবার সেচ সুবিধা বঞ্চিত হয়ে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বিপণনে খরচ বৃদ্ধি করে সরকার দুর্ভিক্ষকে স্বাগত জানাচ্ছে! তাই, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি মানি না ! আমরা এই সরকারের পদত্যাগ চাই!

Borno bidyan
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৭:৫৫ অপরাহ্ন

যেসব টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যেসব টাকা চুরি করে আত্বসাত করা হয়েছে সেগুলোর হিসাব না দিয়া আচমকা আবার জনগনের ঘাড়ে বিশাল বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনগনের পকেট কেটে চুরি করা ওদের পক্ষে অসম্ভব কিছু না যারা জনগনের ভোট চুরি করতে পারে রাতের আঁধারে। তাদের জনগনের কাছে কোন দায়বদ্ধতা নেই কারন তারা ভোটের পরোয়া করে না। জনগনের ভোটের কোন প্রয়োজন তাদের নেই।

Salim Khan
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৭:৪৩ অপরাহ্ন

আহা আজ কি আনন্দ আকাশে বাতাশে।

Siddq
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৭:০৬ অপরাহ্ন

বিশ্বে তেলের দাম কমলো, আর বাংলাদেশে বৃদ্ধি পেলো। মেঘা-প্রকল্পের ঋণ শোধ করতে শ্রী লংকার পথে হাটছে দেশ। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের আমদানি মূল্য বৃদ্ধি রোধে ফরওয়ার্ড কন্ট্রাক্ট না করলে পরিস্থিতি আগামীতে আরো খারাপ হতে পারে।

Dr. Md. Ziaul Hoque
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৫:০৬ অপরাহ্ন

মধ্যরাতের সরকার থেকে এরচেয়ে বেশি কিছু আশা করা বোকামি

খালিদ
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৪:৪৭ অপরাহ্ন

মধ্যরাতের ভোট, মধ্যরাতের জ্বালানির মূল্যে লাফ। সবকিছু রাতের অন্ধকারে........

অভ্র
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৪:০২ অপরাহ্ন

If they need public vote then they think about public, to be mentioned that in this time if BNP in the power they do the the same.

Shamim
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১:৩৬ অপরাহ্ন

দুর্নীতিবাজদের থামতে বলুন। দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিন। লুটপাটের বোঝা সাধারণ মানুষের মাথায় চাপিয়ে দেবেন না।

Nayeem
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১:১৭ অপরাহ্ন

সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যখন তলানিতে তখন কারো তোয়াক্কা না করে সারের দাম বৃদ্ধি করা হলো, আজকে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম, বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়াও নাকি চূড়ান্ত পর্যায়ে। বন্দুকের জোরে এটা প্রতিষ্ঠিতও হবে তবে কিছুদিন পরে বন্দুক কার উপর ধরবে সেই মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। সত্যিই সেলুকাস.....

Shaikh Shahidul Isla
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১২:০০ অপরাহ্ন

Tibro ninda janai....amader Salary tho bare na amra ki kore cholbo???

Forhad
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

আমার মত ছোট চাকুরিজিবীদের বাইকের পেট্রলের এই অতিরিক্ত টাকা কোথা থেকে দিব। আমাদের তো বেতন বাড়েনা। এখন যে দ্রব‍্যমুল‍্য বৃদ্ধি পাবে আমরা সংসার চালাবো কি ভাবে? আমার মতো অভাগাদের কথা কে চিন্তা করবে?

Shakil ahmed
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন

শুনেছিলাম দেশ সিংগাপুর হয়েছে, বলা হয়েছিল দেশ থাইল্যান্ড হয়েছে। আর নিজ চোখে আজ দেখলাম দেশ শ্রীলঙ্কা হয়েছে!! জয়বাংলা !!

ক্ষুদিরাম
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন

50% increase in price is insane! This will spell the end of criminal enterprise and the abuse of power.

shiblik
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানি তেলের এই "এব-নরমাল" মূল্য বৃদ্ধি প্রমাণ করে বাংলাদেশ এখন শ্রীলঙ্কা হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

রকিব উদ্দিন
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

এসব দেখে মনে হয়,আমাদের অনেক ধৈর্য শক্তি.... রাতের অন্ধকারে ভোট হয়, রাতের অন্ধকারে তেলের দাম ও বাড়ে....

Shwapnohin
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

আরো কিছু টাকা সুইস ব্যাংকে জমা করতে হবে না!!!!

pipilika
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১০:২১ পূর্বাহ্ন

কি আর করার আছে, যাহা বলিবেন তাহাতে জী হুজুর।

আসাদ
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

প্রথম পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status