ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ১ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

খেলা

ইংল্যান্ডের হয়ে অলিম্পিকে খেলার স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হামজা উদ্দিন

সামন হোসেন, বার্মিংহাম (যুক্তরাজ্য) থেকে
৪ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার

বাংলাদেশে যারা ইউরোপিয়ান ফুটবলের খোঁজ-খবর রাখেন, তারা হামজা চৌধুরীর সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের ক্লাব লেস্টার সিটিতে খেলেন হামজা চৌধুরী। এবার বিলেতে সন্ধান মিলেছে আরেক হামজার। তিনি চৌধুরী নন, উদ্দিন। হামজা চৌধুরীর মা বাংলাদেশি হলেও বাবা গ্রানাডিয়ান। তবে হামজা উদ্দিনের বাবা মা দু’জনই বাংলাদেশি। বার্মিংহামের হামজা উদ্দিন ফুটবলার নন, তিনি একজন বক্সার। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই বক্সার এরিমধ্যে গ্রেট ব্রিটেনের জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে চারবার শিরোপা জিতেছেন। সেরা হয়েছেন ৫১ কেজি ওজন শ্রেণির ওপেন ক্যাটাগরিতে। প্রতিভাবান এই বক্সারকে গ্রেট বৃটেনের হয়ে অলিম্পিকে খেলানোর স্বপ্ন দেখছেন তার বাবা সিরাজ উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন
ফুটবলার হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে না চাইলেও, হামজা উদ্দিন সুযোগ থাকলে খেলতে চান  বাংলাদেশের হয়ে।  মাত্র তিন বছর বয়সে (১৯৭৫ সালে) বাবার হাত ধরে সিলেটের বিশ্বনাথ থেকে বিলেতে পাড়ি জমান সিরাজ উদ্দিন। বার্মিংহামে ওয়েলসে মাত্র ২০ বছর বয়সে অ্যামেচার বক্সিংয়ে জড়ান তিনি। যদিও তার বক্সিং ক্যারিয়ার খুব একটা বড় হয়নি। পিঠের চোটে খেলা ছেড়ে বক্সার তৈরিতে মন দেন তিনি। ধীরে ধীরে বার্মিংহামের ওয়ালসলে গড়ে তোলেন বক্সিং পাঠের পাঠশালা। যেখানে তামিল দিয়ে এরিমধ্যে বড় ছেলে হামজা চৌধুরী গ্রেট বৃটেনের জুনিয়র ক্যাটাগরিতে চারবার চ্যাম্পিয়ন করেছেন। হামজা একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ওপেন ক্যাটাগরিতে। তাইতো মাত্র ১৯ বছর বয়সী এই বক্সারকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছেন। ছেলেকে নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে সিরাজ উদ্দিন বলেন, এরিমধ্যে হামজা টপ লেভেলে নিজেকে প্রমাণ করেছে। গ্রেট বৃটেনের হয়ে খেলতে দুটি ধাপ অতিক্রম করেছে সে। আর একটি ধাপ পেরুতে পারলে ও গ্রেট বৃটেনের হয়ে অলিম্পিক গেমস, ইউরোপিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।’ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রথম সফলতা এসেছে বক্সিংয়ে। ১৯৮৬ সালে সিওল এশিয়ান গেমসে দেশকে ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রথম পদক এনে দিয়েছিলেন বক্সার মোশারফ হোসেন। মোশারফের ওই ব্রোঞ্জের পর ব্যক্তিগত ইভেন্টে আর পদকের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। হামজার সম্ভাবনা আছে। হামজা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলে পদক আসতে পারে সাউথ এশিয়ান গেমসে। তবে এখনই বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবছেন না ১৯ বছর বয়সী এই বক্সার। তার প্রথম লক্ষ্য ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করা জানিয়ে বলেন, আমি ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ার্ল্ড সার্কিটে বক্সিং করতে চাই। সে লক্ষ্যেই প্রতিনিয়িত নিজেকে তৈরি করছি। তবে সেটা যদি কোনো কারণে সম্ভব না হয় তবে অবশ্যই আমি বাংলাদেশের হয়ে খেলবো’। তবে ছেলে যাই ভাবুক না কেন এরিমধ্যে লাল সবুজের পতাকায় হয়ে ছেলেকে খেলানোর আশায় সিরাজ উদ্দিন যোগাযোগ করেছেন বাংলাদেশে। যদিও আদনান হোসেন ও আসাদুজ্জামান নামে দুই কোচ তাকে হতাশ হয়েছেন জানিয়ে বলেন, আমি বাংলাদেশের হয়ে খেলানোর জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাখতে ওনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু তারা সেভাবে সাড়া দেননি।’ প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলেও হামজার বাবা মোটেও দমে যাননি। বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমস কাভার করতে আসা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সন্ধান পেয়ে যোগাযোগ করেছেন তাদের সঙ্গে। গতকাল ওয়েলসে তার বাসায় আলাপ কালে তিনি বলেন, আমি ছেলেকে বাংলাদেশের হয়ে খেলানোর জন্য তৈরি রাখতে চাই। যদি এখানে কোনো কিছু না হয় সঙ্গে সঙ্গে যেন বাংলাদেশের হয়ে খেলাতে পারি। সে লক্ষ্যে হামজার বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরি করে রাখার কথাও বলেন।’  ছেলেকে একজন পরিপূর্ণ বক্সার হিসেবে গড়ে তুলতে বক্সিং ধ্যানজ্ঞান সিরাজ উদ্দিনের। বক্সিং জিমে অন্যদের সময় দেয়ার পাশাপাশি ঘরের রিংয়ে ছেলেদের সঙ্গে প্রতিদিন কাটাচ্ছেন সাত আট ঘণ্টা। হামজার বক্সার হয়ে গড়ে ওঠার গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, ওর জন্ম ২০০৩ সালে। হামজা সাত বছর বয়সে প্রথম জিমে গিয়ে বক্সিং শুরু করে। শুরুতে আমার আপত্তি থাকলেও ওর ন্যাচারাল অ্যাবেলিটি দেখে আমি মুন্ধ হই। সবাই বলতে শুরু করে বাপেরটা পেয়েছে। হাজমার বক্সিংয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখেই বাধ্য হয়েই ওকে আমি বক্সিং শেখাই। ১০ বছর বয়সে হামজা প্রথম ফাইটে অংশ নেয়। এখন পর্যন্ত ৪০টি ফাইট করেছে হামজা। এরমধ্যে একটি মাত্র ফাইটে হেরেছে। আমি ওর মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা দেখে ঘরের মধ্যে কমপক্ষে ৫০ হাজার পাউন্ড খরচ করে রিং তৈরি করেছি। যেখানে জিম থেকে এসে সাত ঘণ্টা ওকে নিয়ে অনুশীলন করি। আমার ছোট ছেলে ইউসুফ মাত্র ১৫ বছর বয়সে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমি ওকে নিয়েও স্বপ্ন দেখছি।’ বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে লাল সবুজের প্রতিনিধি হয়ে অংশ নিয়েছেন বিলেতের ইমরানুর রহমান। নিউজিল্যান্ড প্রবাসী আলী কাদের হকও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এখানে। সেখানে গ্রেট বৃটেনে জন্ম নেয়া বাংলাদেশি এই বক্সারকে নিয়ে আগামীর স্বপ্ন দেখাই যায়।

খেলা থেকে আরও পড়ুন

খেলা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status