ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৪ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

ব্লুমবার্গের রিপোর্ট

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ডাবল আঘাত

মানবজমিন ডেস্ক
৩ আগস্ট ২০২২, বুধবার

বিশ্বব্যাপী তৈরি পোশাকের চাহিদা হ্রাস পাচ্ছে। সঙ্গে দেশে বিদ্যুৎ সংকট। গার্মেন্ট রপ্তানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এতে ডাবল আঘাতের সম্মুখীন। এতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পড়ছে হুমকিতে। ব্লুমবার্গে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশজ গার্মেন্ট সেক্টর ফেসেস এনার্জি, ডিমান্ড ক্রাইসিস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছেন সাংবাদিক অরুণ দেবনাথ। তার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অনলাইন আল-জাজিরা। এতে বলা হয়, পোশাকের ব্র্যান্ড টমি হিলফিজারের মূল কোম্পানি পিভিএইচ করপোরেশন এবং ইন্ডিটেক্স এসএ’র জারা’কে পোশাক সরবরাহ দিয়ে থাকে প্লামি ফ্যাশন লিমিটেড। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হুক বলেছেন,  জুলাইয়ে এক বছর আগের তুলনায় নতুন অর্ডার কমেছে শতকরা ২০ ভাগ। এছাড়া প্রস্তুত হয়ে গেছে এমন পোশাকের শিপমেন্ট ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের উভয় মার্কেটের খুচরা ক্রেতারা মুলতবি করছেন অথবা অর্ডার বিলম্বিত করছেন। আমাদের রপ্তানি গন্তব্যে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, এ বিষয়টি আমাদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। 

বাংলাদেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধির (জিডিপি) শতকরা ১০ ভাগের বেশি আসে গার্মেন্ট শিল্প থেকে।

বিজ্ঞাপন
এতে নিয়োজিত আছেন ৪৪ লাখ মানুষ। সেখানে অর্ডার কমে আসা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অঞ্চলভিত্তিক জ্বালানি সংকটের আংশিক কারণে কর্তৃপক্ষ জ্বালানি সংরক্ষণের জন্য উৎপাদন-ঘাতী (প্রোডাকটিভিটি-কিলিং) বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকরণ আবার চালু করেছে। বাংলাদেশের জন্য একটি খারাপ সময়ে এটা ঘটতে পারে না। ফজলুল হক আরও বলেছেন, পণ্য সময়মতো তৈরি করার মূল হলো অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ। দেশে এবং বিদেশে আমরা বহুমাত্রিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। 

৩ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাট: অরুণ দেবনাথ লিখেছেন, যেমন বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে, তেমনি ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্যাপ ইনকরপোরেশন এবং এইচঅ্যান্ডএম হেন্স অ্যান্ড মরিটজ এবি’কে পেটাশাক রপ্তানি করে শীর্ষ স্থানীয় একটি রপ্তানিকারক স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ লিমিটেড। ঢাকার অদূরে গাজীপুরে তাদের কারখানা। সেখানে ডায়িং এবং ওয়াশিং ইউনিটে প্রতিদিন কমপক্ষে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়ার জন্য নির্ভর করতে হয় জেনারেটরের ওপর। আলাদা এক সাক্ষাৎকারে স্ট্যান্ডার্ডের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে আমরা যে বিদ্যুৎ পাই তার তুলনায় জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ তিনগুণ বেশি। কারণ, ডিজেলের দাম অনেক বেশি। তাই বলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আমাদের ডায়িং এবং ওয়াশিং ইউনিট বন্ধ রাখতে পারি না। যদি আমরা তা বন্ধ রাখি তাহলে পুরোটা কাপড় নষ্ট হয়ে যাবে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও একটি অনুষঙ্গ। তা হলো, ডলারের বিপরীতে ইউরো দুর্বল হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি আবেদনের ক্ষতি করছে। এই রপ্তানিমূল্য পরিশোধ করতে হয় ডলারে। 

রেনেসাঁ ক্যাপিটাল নামের সংগঠনের বৈশ্বিক অর্থনীতি বিষয়ক প্রধান চার্লি রবার্টসন বলেন, পোশাক হলো একটি বিবেচনাধীন আইটেম। ইউরোপে যদি বিদ্যুতের বিল বেড়ে যায়, তখন জনগণ তাদের এসব বিবেচনাধীন খরচ খাত কমিয়ে আনে। এর আওতায় রয়েছে পোশাক। 

‘আঞ্চলিকতার সংক্রমণ’: করোনা মহামারির প্রথম দিকে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে গার্মেন্ট শিল্পে বহু অর্ডার বাতিল হয়ে যায়। তা এ দেশটির জন্য উদ্বেগের। ২০২০ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থ বছরে পোশাক রপ্তানি ৫ বছরের মধ্যে নিম্নে নেমে আসে। এর পরিমাণ ২৭৯৫ কোটি ডলার। এরপর তা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। জুনে সমাপ্ত বছরে বাংলাদেশে গার্মেন্ট রপ্তানি রেকর্ড ৪২৬০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। যা মোট রপ্তানির শতকরা ৮২ ভাগ। ওদিকে রপ্তানিকারকরা দেখতে পাচ্ছেন, ওয়ালমার্ট ইনকরপোরেশন পুরো বছরে লভ্যাংশ কমের পূর্বাভাস দিচ্ছে। একই সঙ্গে তারা পোশাকের দাম কমানোর কথা বলছে। এ থেকে রপ্তানিকারকরা এক অশুভ ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছেন। 

চার্লি রবার্টসন আরও বলেন, শ্রীলঙ্কা থেকে এক আঞ্চলিক সংক্রামকের মতো প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তান থেকে রপ্তানি অনেক সস্তা হয়ে গেছে। এর কারণ, তাদের মুদ্রা রুপি অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের ওপর চাপের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এসব বিষয়। কারণ, ইউরোপের  মতো গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিবাজার কম বস্ত্র কিনবে। এতে বিক্রয় বৃদ্ধিতে আঘাত লাগছে। 

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এ অঞ্চলে ডলারের মজুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ফলে সহায়তার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার সর্বশেষ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই ঋণ চেয়েছে। ১৩ই জুলাই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ৩৯৭৯ কোটি ডলার। এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ৪৫৩৩ কোটি ডলার। এখন যে রিজার্ভ আছে তা দিয়ে মোটামুটি চার মাসের আমদানি খরচ মেটানো যাবে। আইএমএফের সুপারিশের সময় তিন মাস। তার চেয়ে এই সময় কিছুটা বেশি। জুনে সমাপ্ত অর্থ বছরে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বিস্তৃত হয়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৩৩৩০ কোটি ডলার। স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের আতিকুর রহমান বলেন, সবেমাত্র করোনা মহামারি থেকে পুনরুদ্ধার করছি, এমন সময়ে এলো যুদ্ধ। এর শুধুই অনিচ্ছাকৃত ভিকটিম আমরা। 
 

পাঠকের মতামত

রেডিমেড গার্মেন্টস ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের থেকে আমাদের দেশে ৯০ পার্সেন্ট রেমিট্যান্স আসে। প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে সেই টাকা দেশে পাঠায়। অথচ তাদের নিজের দেশে হয়রানির শিকার হতে হয়। এই সেক্টর দুটো রক্ষা করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। উল্লেখ্য এই দুই সেক্টর প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

Azad
৯ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ৮:৫৫ অপরাহ্ন

রপ্তানি গন্তব্য সামষ্টিক চাহিদা পতন মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে আসবে। সৈয়দ হায়দার সাহেবের মন্তব্যটা মানে হলো অন্ধ হলেই প্রলয় বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি কোন কারন ছাড়াই হিন্দু শব্দটিকে ব্যবহার করলেন যা বাংলাদেশে ২তম সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্ম। এদের মত অন্ধরা আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় বোঝা!

সোহেল
৭ আগস্ট ২০২২, রবিবার, ৯:৪৩ অপরাহ্ন

যে কথা আমি আগেই বলেছিলাম। বিদ্যুতের ঘাটতিতে আঘাত করবে শুধু গার্মেন্টস নয় প্রতিটি উতপাদিত পণ্যে, এতে দেশীয় বাজারে দাম বাড়বে এবং রপ্তানী ব্যাঘাত ঘটবে। যার পরিণতিতেঃ ১। রপ্তানী আয় যাবে কমে, ২। অনেক শিল্প কারখানা টিকে থাকা পড়বে ঝুকিতে, ৩। চাকূরীচূত্য হতে পারে অনেক শ্রমিক এবং কর্মচারী/কর্মকর্তা, ৪। ছোট খাটো অপরাধ যাবে বেড়ে, ৫। সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে যাবে, ৬। দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হবে।

Fakhrul Islam
৩ আগস্ট ২০২২, বুধবার, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ন

Just failed to understand the purpose of Syed Haider in his comment. He has been squarely blaming "Hindus", "India", USA for a thoughtful piece of reporting by Bloomberg journalist . The irony is that such newspapers and reporters/ analysts used to regularly highlight the sorry state of Srilankan and Pakistani economic affairs, which were then chided by zealots and nationalists of these two countries. Now, see the result. Bangladesh is also no better a land if we consider the inflated forex position it now have by virtue of clubbing the export incentive provision of USD 7.5 B. It's actual reserve stands at approx USD 31.7 B, and darker days are in the anvil, since USA and the Euro Zone may be witnessing low growth or recessional trends in coming days when RMG export would be thwarted. We understand why BD is breathing for IMF / ADB loans. Another point, Mr Hyder. Confidence is good, over- confidence not. BD hasn't yet surpassed India in nominal GDP and it's GDP per capita number is shrouded in mystery, thanks to fictitious population count and various economic index. Even the reputable economists of BD and outer world cast aspersion on these numbers. If u want the links, the same wd be provided. If we count GDP per cap on PPP basis, Bangladesh is still lagging.......at a distance.......

Deep Kar
৩ আগস্ট ২০২২, বুধবার, ৯:৪০ পূর্বাহ্ন

The world is going through econonic turmoils without exception. There is nothig unsual with Bangladesh econony. Despite global problem she is doing better than many neighbouring countries including India who is struggling to keep pace with us. In addition there is local political jealousy specially BNP and some right wing media, who prays for Hasina Govt misfortune in order to blame latter And find faults and point out for mass ppl who are not well conversant with nitty-gritty of complex economic problems.

Nurul Monie
৩ আগস্ট ২০২২, বুধবার, ২:৩৯ পূর্বাহ্ন

বড় বড় প্রকল্প মানে বড় বড় দুর্নীতি, বড় বড় লুটপাট, আর বড় বড় উন্নয়নের বেলুন!!! আর আহাম্মক জনগণের জন্য বড় বড় আইক্কালা বাঁশ!!! বাংলাদেশের হাজার বছরের জন্মের ইতিহাসেও কখনো এমন অসভ্য, বর্বর, মহাজালিম, মহাপ্রতারক, মহামিথ্যাবাদী, দেশবিরোধী সরকার আসেনি! এদের প্রত্যেকটি কথাই মিথ্যা ভরা, চাপাবাজিতে ভরা, ভন্ডামিতে ভরা! আল্লাহর গজব পড়ুক এই মাফিয়া চক্রের উপর।

Rayan
৩ আগস্ট ২০২২, বুধবার, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন

One doesn't need to be an expert to understand that global economy has been shrinking bcoz of prolonged covid-19 and oral/diplomatic clashes amongst the superpowers, followed by war; so, decline in demands, especially for garments, is only inevitable. Production loss caused for power failure/load shedding can not be fully eliminated; so the cost of production is bound to increase and we loose our competitiveness. Businesses have to calculate all these for sake of survival.

Citizen
২ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ১১:৪৩ অপরাহ্ন

everything is going to happened what people assume. govt is making false statement everyday by their stupid ministers to make people fool!!! oh my God, what a terrible situation ahead???

swasti
২ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ১০:০৮ অপরাহ্ন

Anti government people's, expressed everything in such way that his presentation , expressions, example goes against government, they never appreciate the good steps of government, really they are Criminal, We hate this community.

Sohag
২ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ৯:২৯ অপরাহ্ন

কুইকরেন্টাল নামের বালির বাঁধের উপর দাড়িয়ে আমরা গর্ব করছিলাম। দূর্ণীতি একটি দেশকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। রপ্তানি খাতে প্রোডাকশনের দিক নিশ্চিত না করে আমরা আমরা বড় বড় ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল আর সেতুতেই বৈদেশিক ঋণের শ্রাদ্ধ করেছি।

জামশেদ পাটোয়ারী
২ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ৫:৫৬ অপরাহ্ন

Please don’t print anything that is written by Hindus that has connection with USA & India. Their only goal is now to make Bangladesh like Sri Lanka. They are propagating Economic collapse of Bangladesh and failing our great Netri, our beloved Prome Minister as Bangladesh’s economy has surpassed Indian economy. These Buggers are associated with all major publications and news Media of the west. We that love in Western country must oppose these untrue journalism. This coterie must be shunned in our news media! Alas Manab ZAMAN everyday printing for last few weeks as falsely reported in Indian and Western Media by so called Hindus who wants our current government to fail as our government is Pershing an non aligned foreign policy with great success

Syed Haider
২ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ১:০০ অপরাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

প্রথম পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status