ঢাকা, ১৮ মে ২০২৪, শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ জিলক্বদ ১৪৪৫ হিঃ

প্রথম পাতা

ভোটের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ, হার্ডলাইনে আওয়ামী লীগ

কাজী সোহাগ ও মুনির হোসেন
২০ এপ্রিল ২০২৪, শনিবার
mzamin

উপজেলা পরিষদের ভোটের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের এমপি-মন্ত্রী বলয়ের প্রার্থীদের ঘিরে এই শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে যা নিয়ে নির্বাচন কমিশনও উদ্বিগ্ন। এ ছাড়া দলীয় একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয়  আওয়ামী লীগের বিভেদ, দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। মন্ত্রী-এমপিদের কেউ কেউ নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশ্যে হুমকি ও প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন। এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খোদ দলীয় সভাপতির কাছে অভিযোগ আসছে। 

ইতিমধ্যে দলের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এর আগে বিবৃতির মাধ্যমে সাংগঠনিক নির্দেশনা, মৌখিক সতর্কবার্তা দেয়া হলেও এবার শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে। যেসব মন্ত্রী ও এমপি নিকটাত্মীয়দের দিয়ে নির্বাচন করাচ্ছেন, তাদের তালিকা করা হচ্ছে।  প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
কেউ দলীয় নির্দেশনা না মানলে তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাংগঠনিক নির্দেশনা অমান্য করে দেশের একেকটি উপজেলায় মন্ত্রী ও এমপিরা তাদের আত্মীয়-স্বজন ও সন্তানদের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছেন। দল থেকে তাদের একাধিকবার মৌখিকভাবে নির্দেশনা দিলেও তা মানা হচ্ছে না। বিষয়টি দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা পর্যন্ত গড়ায়। তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থানীয় এমপি-মন্ত্রীদের প্রভাবমুক্ত রাখতে ফের কঠোর নির্দেশনা দেন। এ নির্দেশনা উপেক্ষিত হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় প্রধান। দলীয় সভাপতির এ ধরনের নির্দেশনার পর গতকাল ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন দলটির সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় বেশ কয়েক নেতা। এতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ। এ সময় দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বিভাগীয় দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের কাছে তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের। তিনি জানান, যেসব এমপি-মন্ত্রীরা নির্বাচনে প্রভাব সৃষ্টি করছেন এবং পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের প্রার্থী করছেন তাদের তালিকা তৈরি করতে হবে। বৈঠকে থাকা একাধিক নেতা জানান, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করার জন্য দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, শাহাজান খান, নোয়াখালীর এমপি একরামুল করিম চৌধুরীসহ বেশ  কয়েকজনকে তাৎক্ষণিক বৈঠক থেকে সতর্কবার্তা দেয়া হয়। 

উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ আগে থেকেই নির্বাচনী মাঠে তৎপর সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা। এক প্রতিমন্ত্রীর ছত্রছায়ায় অপহরণের মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ছেলেকে ভোট না দিলে উন্নয়ন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন এক এমপি। নাটোরের সিংড়া উপজেলায় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রার্থী করেছেন শ্যালক লুৎফুল হাবীব‌ রুবেলকে। রুবেল সম্প্রতি জেলা নির্বাচন অফিসের সামনে থেকে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেন নামে এক প্রার্থীকে অপহরণ ও মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর পর দেলোয়ার হোসেনকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেয়া হয়। সূত্র জানায়, ১৫ই এপ্রিল সকালে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে শহরের স্টেশন বাজারে আসেন দেলোয়ার। এ সময় দেলোয়ারের সঙ্গে দেখা করতে এলে তার বড় ভাই ও কলম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন মুন্সিকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেয় রুবেলের লোকজন। অনলাইনে আবেদনের পর সেখান থেকে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্রের প্রতিলিপি জমা দিতে আসেন দেলোয়ার হোসেন। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা রুবেলের লোকজন তাকে মারধর করে কালো মাইক্রোবাসে তোলে। পরে আরও বেধড়ক মারধর করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। দেলোয়ার হোসেনের বড় ভাই এমদাদুল হক বলেন, নির্বাচন অফিসের সামনে থেকে আমার ভাইকে তুলে নিয়ে যায় লুৎফুল হাবীব‌ রুবেলের সন্ত্রাসী বাহিনীর মোহন ও তার লোকজন। সেখান থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করে আমাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যায়। এদিকে প্রতিমন্ত্রীর শ্যালক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী লুৎফুল হাবীব ওরফে রুবেলের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেছেন অপহরণ ও মারধরের শিকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মুনয়েম হোসেন আকাশ। গত বুধবার ঢাকায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে তিনি এ বিষয়ে একটি আবেদন জমা দেন। এর রিসিভ কপি নাটোর নির্বাচন অফিসেও দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন অফিস ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ।

নোয়াখালীতে দুই এমপি তাদের ছেলেদের প্রার্থী করেছেন। নোয়াখালী-৪ সদর আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরী সুবর্ণচর উপজেলায় প্রার্থী করেছেন ছেলে আতাহার ইসরাক শাবাব চৌধুরীকে। আর হাতিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন নোয়খালী-৬ আসনের এমপি মো. আলীর বড় ছেলে আশিক আলী। দুই এমপিই তাদের সন্তানদের পক্ষে ভোটে নেমেছেন। এমনকি সদর আসনের এমপি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ছেলেকে ভোট না দিলে উন্নয়ন বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার উপজেলার শিউলী একরাম বাজারে পথসভায় তিনি বলেন, যে এলাকা থেকে ভোট কম দেবেন, সে এলাকায় আমি কোনো উন্নয়নে হাত দেবো না। গিভ অ্যান্ড টেক। আমাকে দেবেন, আমি আপনাদের দেবো। আমারে এমপি বানাইছেন, আমি তো বলছি, পাঁচ বছর ক্ষমতায় আছি, এখন আমার মনমতো উপজেলা চেয়ারম্যান যদি বানান, আমার মিডলম্যান (মাঝের ব্যক্তি) আমি আপনাদের উপহার দিয়ে গেলাম। আমি আজ এখানে এসে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। পরে এখানের যেকোনো একটি দোকানে বসে আপনাদের সঙ্গে সুখ-দুঃখের কথা বলবো।

টাঙ্গাইল-১ (ধনবাড়ী-মধুপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. আবদুর রাজ্জাক তার নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দুই জন প্রার্থী মনোনীত করেছেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ড. রাজ্জাকের বিরুদ্ধে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকায় উপজেলা নির্বাচনে আপন খালাতো ভাই ও নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে ‘চেয়ারম্যান’ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি আলী আজগর টগর নিজ নির্বাচনী এলাকা দামুড়হুদা উপজেলায় চেয়ারম্যান হিসেবে প্রার্থী করেছেন ছোটভাই আলী মুনছুর বাবুকে। সরাসরি এমপির প্রার্থী থাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে। 
মাদারীপুরের সদর উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খানের বড় ছেলে আসিবুর রহমান খান। শাজাহান খান নিজে ছেলের পক্ষে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। 

অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লবের পরিবারের চাপে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া। এ উপজেলায় এমপি মোহাম্মদ ফয়সালের আপন চাচা ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আনিছ উজ্জামান প্রার্থী হয়েছেন।

এদিকে সমঝোতা বৈঠক ডেকে ৩ কোটি টাকার বিনিময়ে ৯ প্রার্থী থেকে একক প্রার্থী করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের এমপি আনোয়ার হোসেন খানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে এমপি সাদা কাগজে প্রার্থীদের সই নিয়ে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। খোদ এমপির বড় ভাই চেয়ারম্যান প্রার্থী আখতার হোসেন খান নির্বাচনে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল বলেন, সংসদ সদস্য সাদা কাগজে আমাদের ৫ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সই নিয়েছেন। এটি দলীয় নির্বাচনী নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মৌলভীবাজার-১ আসনের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন জেলার বড়লেখা উপজেলায় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন ভাগ্নে শোয়েব আহমেদের নাম। এমপি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভাগ্নের পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক তার ফুফাতো ভাই মো. ইসরাফিল হোসেনকে প্রার্থী করেছেন। ইসরাফিল বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

নরসিংদী-২ আসনের এমপি ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ শ্যালক শরিফুল হককে প্রার্থী করেছেন ঘোড়াশাল উপজেলায়। শরিফুল ঘোড়াশাল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি। এমপি নিজেই শ্যালককে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রচার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

ওদিকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলায় ছেলে ও ছোট ভাইকে প্রার্থী করেছেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান। সারিয়াকান্দিতে ছেলে সাখাওয়াত হোসেন সজলকে এবং সোনাতলায় ছোট ভাই মিনহাদুজ্জামানকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি। এমপির এমন ঘোষণায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। সজলকে প্রার্থী না করতে উপজেলার ১২ ইউনিয়নের মধ্যে ১১ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য এমএ মান্নানের ছেলে সাদাত মান্নান চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছেন। এমএ মান্নান নিজেও বিভিন্ন আয়োজনে ছেলেকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। 
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফের চাচাতো ভাই আতাউর রহমান বর্তমান চেয়ারম্যান। তিনি এবারো নির্বাচন করবেন। 

নরসিংদী-৩ আসনের এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা শিবপুর উপজেলায় প্রার্থী করেছেন স্ত্রী ফেরদৌসী ইসলামকে। প্রকাশ্যে স্ত্রীর পক্ষে কাজ করছেন এমপি এমন অভিযোগ অন্যদের।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় ভাই গোলাম সরোয়ারকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন কুমিল্লা-১০ আসনের এমপি ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আর লালমাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম শাহীনও হচ্ছেন এমপির ভাতিজা। 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ছেলে গাজী গোলাম মর্তুজা পাপ্পাকে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী। এমপির স্ত্রী হাসিনা গাজীও তারাবো পৌরসভার মেয়র।

অন্যদিকে পাবনায় অভিনব পদ্ধতিতে পরিবারতন্ত্র কায়েম করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে। এমপির ছেলে ও জেলার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার মেয়র গোলাম হাসনায়েন রাসেল মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর ছোট ছেলে ইবনুল হাসান শাকিলকে পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাতে যাচ্ছেন এমপি মকবুল। 

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মানবজমিনকে বলেন, যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় অর্থাৎ যারা এখনো আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার উপযুক্ত নন এমন কাউকে কাউকে কোনো কোনো মন্ত্রী, এমপি নেতা সাবেক মন্ত্রী তার ছেলেকে তার মেয়েকে, নিজ স্ত্রী, ভাই, ভাগ্নে, শালাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। অর্থাৎ পারিবারিক বলয় আর নিজস্ব বলয় তৈরি করেছেন। এটাতো আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে অনেক যোগ্য ও জনপ্রিয়ত নেতা রয়েছেন। তাদেরকে এই নির্বাচনে সুযোগ দেয়ার জন্যই আওয়ামী লীগে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, দলীয় শৃংখলা রক্ষার জন্য যেসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা যদি কেউ না মানেন সেটাই তো শাস্তির আওতার মধ্যে পড়ে।

পাঠকের মতামত

এই সরকারের অধীনে কোন সুস্ঠ নির্বাচন সম্ভব নয়।

Saleh Ahmeb
২১ এপ্রিল ২০২৪, রবিবার, ৭:৩৩ পূর্বাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

   

প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status