ঢাকা, ২২ মে ২০২৪, বুধবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ ১৪৪৫ হিঃ

শেষের পাতা

আক্রান্ত হলে কীভাবে ‘শোচনীয়’ জবাব দেবেন ইরানের সেনাপ্রধান

মানবজমিন ডেস্ক
১৯ এপ্রিল ২০২৪, শুক্রবার
mzamin

ইরানের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন চালালে তার শোচনীয় জবাব দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আবদুল রহিম মুসাভি। যতদূর জানা যায়, ইসরাইলের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র আছে। তাদের সেই ভয়াবহ অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে এমন ‘শোচনীয় জবাব’ দেয়ার সাহস দেখিয়েছেন আবদুল রহিম মুসাভি। নিজেই জানিয়েছেন- আমরা আরও অধিক ভয়াবহ অস্ত্র ব্যবহার করে জবাব দেবো। বুধবার তিনি ন্যাশনাল আর্মি দিবসের প্যারেডের এক ফাঁকে সাংবাদিকদের বলেছেন, অপশক্তির কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব লড়াই করতে প্রস্তুত আমরা। (ইসরাইলে) যে হামলা চালানো হয়েছে, তা আমাদের সক্ষমতার সামান্য অংশমাত্র। এরপর ইরানে যদি তারা হামলা চালায় তাহলে তাদের জবাব দেয়া হবে আরও ভয়াবহভাবে, আরও কঠোরভাবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রইসিও একই ভাষায় কথা বলেছেন। তাদের কথা যদি সত্য হয়, তাহলে ইসরাইল হামলা চালালে ইরান কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে! কীভাবে ইরান এমন হামলা থেকে আত্মরক্ষা করবে বা পাল্টা হামলা চালাবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। বিশেষ করে এ বিষয়ে সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে।

বিজ্ঞাপন
কারণ, এই দুটি দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে, তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতি লাভ করতে পারে। সৌদি আরবও এ বিষয়ে সতর্কতা উচ্চারণ করেছে। কয়েক দশক ধরে ইরান তার স্থানীয়ভাবে প্রতিরক্ষা বিষয়ক অস্ত্রের ওপর নির্ভর করছে। অর্থনৈতিক দিক দিয়েও তেমনটা। একই পন্থা অবলম্বন করছে সামরিক খাত। এমন সেন্টিমেন্ট প্রতিবেশী ইরাকে আট বছরের যুদ্ধের মধ্যে নিহিত। সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সময়ে ১৯৮০ সালে ইরানে হামলা চালিয়েছিল ইরাক। তখন ইরাককে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি অনেক শক্তি সমর্থন করেছিল সামরিকভাবে। কয়েক যুগ ধরে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছে। এর ফলে ইরানের আকাশ বিষয়ক প্রতিরক্ষা বড় রকমের চ্যালেঞ্জে পড়েছে। তাদের এ খাতে আছে কিছু যুদ্ধবিমান ও সরঞ্জাম। এর মধ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এফ-৪, এফ-৫ যুদ্ধবিমান। এসব ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অনেক আগের। এখন ইরানের হাতে আছে রাশিয়ায় তৈরি সুখোই এবং মিগ যুদ্ধবিমান। এসবও সেই সোভিয়েত আমলের। দেশটির বিমান বাহিনী নিজেরাই যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে। এর মধ্যে আছে সাদেক এবং কাওসার। এসবও মার্কিন ডিজাইনের ওপর তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ইসরাইলের যে বিপুল পরিমাণ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান আছে, তার সঙ্গে এসব যুদ্ধবিমানের তুলনা চলে না। রাশিয়ায় তৈরি দুই ডজন সু-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহের আলোচনা চলছে। এই সরবরাহ পেলে ইরানের বিমান বাহিনী সমৃদ্ধ হবে। 

উচ্চাভিলাষী ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে ইরান। বিশেষ করে তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করার দিকে দৃষ্টি দিয়েছে। তারা কিছু বিমান ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ডিপো এবং পারমাণবিক স্থাপনাকে পাহাড়ের ভেতরে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি চেষ্টা করছে ইসরাইলকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাঙ্কার বুস্টার যুদ্ধাস্ত্র থেকে নিজেদের রক্ষা করতে। এখানে উল্লেখ করা যায় যে, গাজা যুদ্ধে ৬ মাসে গাজায় ব্যাপকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ দেয়া বাঙ্কার বুস্টার বোমা ব্যবহার করেছে ইসরাইল। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা যেটা ইরান চালায়, তা স্থানীয়ভাবে ডেভেলপ করা। নাম-বাভার-৩৭৩। এটি ২০১৯ সালে সার্ভিসে যুক্ত হয়েছে। তারপর থেকে এর যথেষ্ট উন্নতি করা হয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে ইরানের কর্মকর্তারা আধুনিকায়ন করা বাভার-৩৭৩ প্রদর্শন করে। এতে আছে ৩৫০ কিলোমিটার থেকে ৪৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত শনাক্তকরণ রাডার। এর সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে অত্যাধুনিক সায়াদ-৪বি ভূমি থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এটা টার্গেটে নির্ধারিত হয়ে থাকে। এর মধ্যে আছে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ভয়াবহ যুদ্ধবিমান। এসবকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত করতে পারে। শনাক্ত করতে পারে ৬০টি টার্গেট। একসঙ্গে ৬টি টার্গেটে যুক্ত থাকতে পারে এবং ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে আঘাত করতে পারে। ইরানের বাইরে সামরিক কোনো মহড়ায় দেখা যায়নি বাভার-৩৭৩। এর সঙ্গে রাশিয়ার টোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা এস-৩০০ পরিচালনা করে ইরান। ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন এস-৩০০কে প্রথম অপারেশনে ব্যবহার করে। যুদ্ধবিমান, ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করার কাজে একে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া ছুটে আসা ক্রুজ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে গুলি করতে পারে।  

উপরন্তু ইরান বিভিন্ন রকম স্থানীয়ভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যাটারি পরিচালনা করে। আরমান, ট্যাকটিক্যাল সায়াদ এবং খোরদাদ-১৫ বিভিন্ন উচ্চতায় ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে ইরানের আকাশকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। এর মধ্যে আরমান’কে সবার সামনে উন্মোচিত করা হয় ২০২২ সালের নভেম্বরে। সেনাবাহিনীর ট্রাকে করে এটি বহন করা সম্ভব। কয়েক মিনিটের মধ্যে তা মোতায়েন করা যায়। এতে আছে ক্ষেপণাস্ত্র।  সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে। মাটির নিচে সুরক্ষিত অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারে। মধ্যম সারির ক্ষেপণাস্ত্র যদি ছোড়া হয় তাহলে তার জবাব দিতে স্বল্পপাল্লার ব্যাটারি- যেমন আজারাখশ, মাজিদ এবং জুবিন ব্যবহার করা হতে পারে। 

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল কমপক্ষে এক দশক ধরে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে আসছে। এখন তা প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ইরান ১৩ই এপ্রিল যে হামলা করেছে, তার জবাব দিতে ইসরাইল মুখিয়ে আছে। কিন্তু তাতে বাদ সেধেছেন পশ্চিমা নেতারা। এক্ষেত্রে সরাসরি হামলা না চালালেও ইরানে স্যাবোটাজ ঘটাতে পারে ইসরাইল। তারা আগেও বহুবার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় স্যাবোটাজ ঘটিয়েছে। হত্যা করেছে ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীদের। সামরিক স্থাপনায় হামলা করেছে। উড়িয়ে দিয়েছে গ্যাস পাইপলাইন। ইরানের বিরুদ্ধে তারা বৃহৎ আকারে বহু সাইবার হামলাও চালিয়েছে বলে মনে করা হয়। এর মধ্যে আছে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, বিমানবন্দর ও পেট্রোল স্টেশন। এসব হামলার জন্য ইসরাইলকে সরকারিভাবে দায়ী করেছে ইরান। 
 

পাঠকের মতামত

মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি হচ্ছে ইসরাইল, ইরান ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করতে পারবেনা এটা হলো বাস্তবতা।

মিলন আজাদ
২০ এপ্রিল ২০২৪, শনিবার, ১:২৩ পূর্বাহ্ন

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status