ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৪ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

ইসি’র সঙ্গে বৈঠক

সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ইভিএম চায় আওয়ামী লীগ

স্টাফ রিপোর্টার
২৯ জুন ২০২২, বুধবার

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের কথা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের  ইসির সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠান পরবর্তী ব্রিফিংয়ে বলেছেন,  রাখঢাক করার কিছু নেই। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার বাড়াতে হবে। আমরা ইভিএম’র পক্ষে এবং এটি জোরালো ও স্পষ্ট। ইভিএম’র ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে আওয়ামী লীগসহ মোট ১৪টি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ইসি। মতবিনিময় সভা শেষে সেতুমন্ত্রী  সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মনে করি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য ইসি’র গ্রহণযোগ্যতা, নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া ইসির দায়িত্বশীল নিরপেক্ষ আচরণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ইভিএম-এ ভোটগ্রহণের পদ্ধতি বাড়াতে হবে। 

আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের স্ট্যান্ড ক্লিয়ার অ্যান্ড লাউডার, আমরা গতবার যেটা বলেছি। একই দাবি আমরা পুনরাবৃত্তি করছি। এই প্রস্তাবগুলো আমরা চাই যে, এই প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করুক এবং ইভিএম’র ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত পরিষ্কার এবং স্পষ্ট। মন থেকে চাই,  চেতনা থেকে চাই।

বিজ্ঞাপন
৩০০ আসনে ইভিএম হলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা সাপোর্ট করি।  বিএনপি’র আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা অনেক কথাই বলে, শেষ পর্যন্ত আসল কথায় চলে আসে। আমি একটা কথা বলি- নির্বাচন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এটা বিএনপি’র অধিকার। এটা একটা সুযোগ নয় যে, সরকার বিতরণ করবে। এটা হচ্ছে বিএনপি’র অধিকার। দল হিসেবে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে নির্বাচনে তারা আসবে। আমরা এটাই বিশ্বাস করি। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, দল হিসেবে আমরা বলেই যাচ্ছি। আমরা পদ্মা সেতুতেও দাওয়াত দিয়েছি। দেখেন, আমাদের একটা পজিটিভ অ্যাটিচিউড আছে। সে কারণে আমরা তাই করি। বিএনপি নিজেরাই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবে। হয়তো শেষ বেলায়, ঘোলা করে খাবে আর কী। তিনি বলেন, আমি অবাক হয়ে শুনি ফখরুল সাহেব বলেন- ‘এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবো না।’ 

ইলেকশন তো এই সরকারের অধীনে হবে না। ইলেকশন হবে ইলেকশন কমিশনের অধীনে। সরকার একটা কর্তৃত্বপূর্ণ স্বাধীন ভূমিকা ফর ক্রেডিবল, ফেয়ার অ্যান্ড ফ্রি ইলেকশন। যে যে সহযোগিতা, ফ্যাসিলিটিজ দরকার, সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস আমরা আগেও দিয়েছি। এখনও আমরা নির্বাচন কমিশনকে আশ্বাস দিয়েছি। আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করবো। ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে যে রাজনৈতিক দলগুলো এখানে আসছে, আমার মনে হয়- অধিকাংশই ইভিএম’র পক্ষে বলেছেন। আজকে অনেকগুলো দল এসেছে। আমরা সবার কথা শুনেছি। ইভিএম নিয়ে বিরুদ্ধেও বলেছেন দু’-একজন। এটা তো গণতন্ত্র। বিউটি অব ডেমোক্রেসি। বিরুদ্ধে তো বলবেনই। ভিন্নমত থাকতেই পারে। সেটাতে তো কোনো অসুবিধা নেই। ৩০০ আসনে নির্বাচন করতে কি ইসি সক্ষম?- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা ইসি’র সিদ্ধান্তের বিষয়। এটা তাদের এখতিয়ার। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সব আসনে ইভিএম হোক। আমরা যখন দেখেছি, একটা ইউনিয়নের ইলেকশনে রাজশাহীর একটা ইউনিয়ন একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটা ইউনিয়ন, সেখানে দিনের আলোও ঠিকমতো যায় না- ঠিক এই রকম একটা জায়গা। তো ইভিএম-এ ইলেকশন হয়েছে। 

অংশগ্রহণ ছিল বিশ্বাসযোগ্য না, এ রকম। প্রচুর উপস্থিতি এবং মহিলারা পর্যন্ত লম্বা লাইন দিয়ে ভোট দিয়েছে। কাজেই ইভিএম অজনপ্রিয়- এ কথা বলার আর এখন কোনো প্রয়োজন নেই।’ সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার, আমরা যেভাবে পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হয়, বাংলাদেশেও শেখ হাসিনার সরকার সেটাই অনুসরণ করবে। দেখুন, নির্বাচন ব্যবস্থায় আইনের মাধ্যমে কমিশন গঠন। এখানে একটা পজিটিভ চেঞ্জ হয়েছে। এটা আমরা আরও উন্নত করতে চাই, এই নির্বাচন ব্যবস্থাটাকে। এটা আমরা ইঙ্গিত করে গেলাম। আমরা আরও উন্নত করতে চাই। বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আগে আমরা দুইদফা সংলাপ করেছি। অনেকেই ইভিএম’র পক্ষে বলেছেন। তবে ইভিএম’র বিপক্ষেই বেশি কথা হয়েছে। অনেকে সলিউশন (সমাধান) দিয়ে বলেছেন, আরও উন্নত প্রযুক্তির ইভিএম যদি কেনা যায়, তাহলে আরও ভালো হয়।

 আবার অনেকে সরাসারি বলেছেন, তারা ইভিএম-এ ভোটগ্রহণ হলে নির্বাচনে যাবেন না। আমরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবো। তবে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন করবো, সেটা আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, আজ বড় দলের অনেকেই এসেছেন। মন্ত্রী (সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের) স্বয়ং নিজেই এসেছেন, যেটা আমি প্রত্যাশাও করিনি। আপনি এসেছেন, আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আজকের আলোচনাটা ইভিএম’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আপনারা ইভিএম’র পক্ষে-বিপক্ষে বলতে পারেন। আপনাদের কথা আমরা শুনবো। আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সিদ্ধান্তে উপনীত হবো।  মঙ্গলবারের বৈঠকে আওয়ামী লীগ ছাড়াও বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ও গণফোরামের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এদিন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)  ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও দলগুলো তা বয়কট করে।

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

প্রথম পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status