ঢাকা, ৩০ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯ জিলক্বদ ১৪৪৩ হিঃ

বাংলারজমিন

হরিরামপুরকে গিলে খাচ্ছে রাক্ষুসে পদ্মা

রিপন আনসারী, মানিকগঞ্জ থেকে
২৩ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার

পদ্মার ভাঙন যেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলাবাসীর জন্য এক অভিশাপ। যুগের পর যুগ বেপরোয়া ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মানুষ। উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে অসংখ্য ঠিকানা। বছর বছর রাক্ষুসে পদ্মার হিংস্র থাবায় বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি চলে যাচ্ছে পদ্মার পেটে। ফলে প্রতি বছরই বাড়িঘর হারিয়ে অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন। এ ছাড়া ভাঙনের সঙ্গে এখনো লড়াই করে টিকে রয়েছে পদ্মা পাড়ের মানুষ। বিগত কয়েক বছর ধরে পদ্মার সেই আগের হিংস্ররুপ ফিরে আসতে শুরু করেছে। পদ্মার পাড় ঘেঁষে বালু কাটার মেশিন থামানোরও কেউ নেই। মঙ্গলবার পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে চারতলাবিশিষ্ট আজিমনগর উচ্চ বিদ্যালয়টির বিশাল ভবন মানুষের চোখের সামনে চলে যায় পদ্মার পেটে। মানুষের চোখের পানি আর হাহাকার-চিৎকারে পদ্মার পাড়ের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন
এই ভাঙনের মধ্যদিয়ে অনিশ্চিত হয়ে গেল প্রত্যন্ত এলাকার অসংখ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। অথচ গেল এক সপ্তাহ আগেও এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা পাঠশালায় এসে পাঠদান করেছিল। আজ সেখানে পানি আর পানি। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক চৌধুরী আওলাদ হোসেন বিপ্লব জানালেন, ২০০৩ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে স্কুলটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে চার শত। এবার এসএসসি পরীক্ষা দিবে ৪৮ জন শিক্ষার্থী। এলাকার এনজিও কর্মী নাসির উদ্দিন জানালেন, স্কুলের অদূরে পদ্মা নদীতে অবৈধ ড্রেজিং করায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়টি ভাঙনের মুখে পড়ে। মঙ্গলবার শেষমেশ বিদ্যালয়টি আর রক্ষা করা গেল না। পদ্মা গিলে খেলো এলাকার অসহায় পরিবারের কোমলমতি সন্তানদের শিক্ষার অভয়াশ্রমটি।  আজিমনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন  জানান, আমার আজিমনগর ইউনিয়নটি পদ্মার মাঝখানে অবস্থিত। প্রায় ২০ হাজার জনবসতি এখানে রয়েছে। তাদের আতঙ্কের নামই হচ্ছে পদ্মার ভাঙন। বছরের পর বছর পদ্মার ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে চলতে হচ্ছে। শেষমেশ স্কুলটিও পদ্মা গ্রাস করে নিলো। তিনি আরও বলেন, পদ্মার ভাঙনের রূপ একেক সময় একেক রকম হয়। দেখা যায় কিছুদিন পদ্মা শান্ত থাকে আবার পরক্ষণেই উত্তাল ও হিংস্র হয়ে উঠে। স্কুলটি যেদিন নদীতে চলে গেল সেদিন পদ্মার রূপ ছিল ভয়াবহ। শুধু স্কুলই নয় হাটিঘাটা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫টি সেট ইতিমধ্যে পদ্মার পেটে চলে গেছে। সেখানে প্রায় ৫০টি পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। এদিকে পদ্মার তীব্র ভাঙনে উপজেলার কাঞ্চণপুর ইউনিয়নটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। গেল কয়েক বছরে অব্যাহত ভাঙনে এই ইউনিয়নে ১৩টি মৌজার ১২টি মৌজা পদ্মায় গিলে খেয়েছে।  এখন অবশিষ্ট আছে শুধু  গৌড়বোরদিয়া মৌজাটি।  ইতিমধ্যে  প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকার কয়েক শ’ একর ফসলি জমি, ঘরসহ অনেক স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া  ঝিটকা- গোপীনাথপুর-বাল্লা-পাটুরিয়া  সড়ক এবং হোগলাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী বনি ইসলাম রূপক জানিয়েছেন। চেয়ারম্যান গাজী বনি ইসলাম রূপক বলেন, আমার ইউনিয়নে কয়েক বছরে অব্যাহত ভাঙনে ১৩টি মৌজার ১২টি মৌজা পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এখন শুধু গৌড়বোরদিয়া মৌজা অবশিষ্ট রয়েছে। গত দুই বছরে পদ্মার ভাঙনে শত শত বিঘা জমি ও কয়েক শ’ বাড়ি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

বাংলারজমিন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com